সিইসি’র বক্তব্য জাতির সঙ্গে আবারও প্রতারণা করার ইঙ্গিত: রিজভী
-
রুহুল কবির রিজভী আহমেদ
বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার কড়া সমালোচনা করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, সংসদ নির্বাচনের মতো সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু হবে- সিইসির এমন বক্তব্য দেশ থেকে নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার গভীর নীলনকশা।
আজ (বুধবার) সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদের ভোট ডাকাতির নির্বাচন দেশে-বিদেশে কোথাও গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। কারণ, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের আগের রাতে ভোট সম্পন্ন করা হয়েছিল। মহাভোট ডাকাতির আয়োজক প্রধান নির্বাচন কমিশনার পুনরায় একইভাবে উপজেলা ও সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে একজন নিষ্ঠুর ভাঁড়ে পরিণত হয়েছেন। সিইসি’র এ বক্তব্য জাতির সঙ্গে আবারও একটি প্রতারণা করার ইঙ্গিত।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে মহাজোটের শরিক জাসদ যে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে সে প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগের ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি ওবায়দুল কাদের এ বিষয়ে কী জবাব দেবেন, কেননা তাদের শরিক জাসদ বলেছে ২৯ তারিখ রাতেই ব্যালটবক্স ভরা হয়েছিল।
এ সময় রিজভী অভিযোগ করেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে লুকোচুরি খেলা হচ্ছে। এক মামলায় জামিন নিলে আরেকটি মামলায় জামিন বাতিল করা হয়েছে, হাইকোর্ট জামিন দিলে আপিল বিভাগ আবার জামিন স্থগিত করেছে। পরে আপিল বিভাগ জামিন দিলে নিম্ন আদালত আরেকটি মামলায় জামিন আটকে দিয়েছে। এমনি করে পার হয়ে গেছে একটি বছর। যেসব মামলায় অন্যরা জামিনে রয়েছেন সেখানে বেগম খালেদা জিয়াকে জামিন দেয়া হচ্ছে না। এমনকি প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়েই বেগম জিয়াকে চিকিৎসাসেবার সুযোগও দিচ্ছে না সরকার। উচ্চ আদালতের নির্দেশে বেগম জিয়াকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও চিকিৎসা সম্পূর্ণ না করেই তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামে দুটি মিথ্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে বেগম খালেদা জিয়াকে। মামলা দুটির মধ্যে একটি মামলায় হাইকোর্ট গত ২৭ জানুয়ারি দেশনেত্রীকে স্থায়ী জামিন দেন। নিম্ন আদালতে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এ জামিন মঞ্জুর করা হয়। অপর মামলায় জামিন মঞ্জুর বা না মঞ্জুর এ বিষয়টি ঝুলিয়ে রেখে বিলম্বিত করা হয়েছে। বিস্ময়ের ব্যাপার হলো এ মামলায় ৭৭ আসামির মধ্যে ইতোমধ্যে তিনজন মারা গেছেন। ৫ জনকে চার্জশিট থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। বাকি ৬৯ জনের সবাই জামিনে আছেন, শুধু দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছাড়া।’
সরকারপ্রধানের উদ্দেশে রিজভী আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এবার ক্ষান্ত দেন। একজন গুরুতর অসুস্থ বয়স্ক নেত্রীর ওপর জুলুম করবেন না। একটি বছর কারারুদ্ধ করে রেখে অত্যাচার করেছেন, এবার মুক্তি দিন। ইতিহাস পড়ুন, ইতিহাস বড় নির্মম। ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না।
এ সময় তিনি খালেদা জিয়াসহ দলের ১৮জন কেন্দ্রীয় নেতার মুক্তির দাবি করেন। এ ছাড়াও দেশব্যাপী হাজার হাজার বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন বিএনপি’র এই নেতা।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৬
খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন