'নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে মিয়ানমার বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বে আঘাত করেছে’
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i68162-'নতজানু_পররাষ্ট্রনীতির_কারণে_মিয়ানমার_বাংলাদেশের_সার্বভৌমত্বে_আঘাত_করেছে’
"বাংলাদেশের বর্তমান সরকার নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ক্রমাগত ব্যর্থ হচ্ছে। তাই আজ মিয়ানমারও বাংলাদেশকে নিয়ে দুঃসাহস দেখাতে স্পর্ধা দেখাচ্ছে।" -এমন অভিযোগ করেছে বিএনপি।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০১৯ ১৫:২২ Asia/Dhaka
  • রুহুল কবির রিজভী
    রুহুল কবির রিজভী

"বাংলাদেশের বর্তমান সরকার নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ক্রমাগত ব্যর্থ হচ্ছে। তাই আজ মিয়ানমারও বাংলাদেশকে নিয়ে দুঃসাহস দেখাতে স্পর্ধা দেখাচ্ছে।" -এমন অভিযোগ করেছে বিএনপি।

আজ (শনিবার) সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এসব কথা বলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। রিজভী উল্লেখ করেন, মিয়ানমার সরকারিভাবে তাদের ওয়েবসাইটে সেদেশের মানচিত্রে সেন্ট মার্টিন দ্বীপকে নিজের অংশ হিসেবে দেখিয়ে যাচ্ছে। সেদেশের আরাকান রাজ্যের দশ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অধিবাসীকে বাংলাদেশে আসতে বাধ্য করেছে। এখন সেখানকার সংখ্যালঘু উপজাতিদেরও বিতাড়িত করে পাঠিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশের।

গত বছরের অক্টোবর মাসেও মিয়ানমারের শ্রম, অভিবাসন, জনসংখ্যা মন্ত্রণালয়সহ সে দেশের অন্তত: তিনটি ওয়েবসাইটের মানচিত্রে সেন্ট মার্টিন দ্বীপকে তাদের দেশের অংশ হিসেবে দেখানো হয়। তখনও এই গণবিচ্ছিন্ন সরকার কেবল নামকাওয়াস্তে প্রতিবাদ করে চুপ হয়ে যায়। আর জাতির ঘাড়ে জবরদস্তি চেপে বসা আওয়ামী সরকার এ নিয়ে কার্যকর কিছু করতে চরমভাবে ব্যর্থ হচ্ছে। শুধু রাষ্ট্রদূতকে ডেকে নিয়ে প্রতিবাদ করলেই সব শেষ হয়ে যায় না। এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত। বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জোরালোভাবে উপস্থাপন করা হয়নি।

বিএনপির এই নেতা বলেন, এই সরকার স্বাধীনতা স্বার্বভৌমত্ব হেফাজত করতে ব্যর্থ হচ্ছে, কারণ তারা জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না। দেশ ও মানুষের প্রতি তাদের ন্যূনতম দায়বদ্ধতা নেই। রাতের অন্ধকারে কাপুরুষের মতো জনগণের ভোট ডাকাতি করে তারা মসনদ দখল করেছে। দেশ গোল্লায় যায় যাক তাতে তাদের মাথাব্যথা নেই। তারা সারাক্ষণ ব্যস্ত কিভাবে দেশের জনগণকে দমন করে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করা যায়। শেখ হাসিনার নির্দেশে সমস্ত আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজ একটাই, তাহলো আওয়ামী লীগ বিরোধী গণতান্ত্রিক শক্তির বিরুদ্ধে গায়েবী মামলা দেয়া, গ্রেফতার করা, জেলে ভরা, গুম-খুন ও বিচার-বহির্ভূত হত্যা করা। কিন্তু এভাবে কি ক্ষমতায় থাকা যাবে না।

এসময় রিজভী আরো উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সীমান্ত জেলা ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় বিজিবির গুলিতে নিহতদের পরিবারে যখন শোকের মাতম চলছে তখন নিহতদের নামে উল্টো মামলা দেয়া হয়েছে। হরিপুর উপজেলা বহরমপুর ও রুহিয়া গ্রামের ২৭২ জনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেছে বিজিবি। ভয়ে আতঙ্কে এখন পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে এলাকা। গ্রামবাসীদের মধ্যে বিরাজ করছে অস্থিরতা।

বিএনপি’র এ নেতা বলেন, সীমান্ত পাহারা দেয়ার কাজ বিজিবি’র। কিন্তু তারা সীমান্ত পাহারা না দিয়ে বিএসএফ'র মতোই বাংলাদেশিদের হত্যা করছে। প্রায়দিনই বিএসএফ বাংলাদেশীদের গুলি করে হত্যা করছে, অথচ এ বিষয়ে নির্বিকার। বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষীরা। তারা বরং এখন নিজ দেশের মানুষ হত্যা করতেও কুণ্ঠাবোধ করছে না।

রিজভী বলেন, গণবিচ্ছিন্ন এই অবৈধ সরকার প্রশাসন ও আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কিছু বলার নৈতিকতা হারিয়ে ফেলেছে। কারণ, এরাই হচ্ছে সরকারের ক্ষমতা রক্ষার শিখণ্ডী। তারা অনাচার থেকে দায়মুক্তি পাচ্ছে। তারা মনে করছে কোন কাজের জন্যই তাদের জবাবদিহিতা করতে হবে না। আর এসবের কারণেই প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জনগণের বিরুদ্ধে বেআইনি কর্মকাণ্ড চালাতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৬

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন