রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে দুর্নীতির প্রতিবাদে বালিশ হাতে অভিনব প্রতিবাদ
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i70539-রূপপুর_পারমাণবিক_প্রকল্পে_দুর্নীতির_প্রতিবাদে_বালিশ_হাতে_অভিনব_প্রতিবাদ
বাংলাদেশের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে দুর্নীতির বিচারের দাবিতে বালিশ হাতে এক অভিনব প্রতিবাদী মানববন্ধন আয়োজন করেছে বাংলাদেশ গণঐক্য সংগঠন ।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
মে ২০, ২০১৯ ১১:২৭ Asia/Dhaka
  • রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে দুর্নীতির প্রতিবাদে বালিশ হাতে অভিনব প্রতিবাদ

বাংলাদেশের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে দুর্নীতির বিচারের দাবিতে বালিশ হাতে এক অভিনব প্রতিবাদী মানববন্ধন আয়োজন করেছে বাংলাদেশ গণঐক্য সংগঠন ।

রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে দুর্নীতির প্রতিবাদে আজ (সোমবার) বেলা সোয়া ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বালিশ হাতে প্রতিবাদী মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ইতিহাসে এমন মহাদুর্নীতি কেউ করেছি কি-না সন্দেহ।’ ‘উন্নয়নের অন্তরালে লুটপাটের যে মহোৎসব চলছে। তারই একটি উদাহরণ  এ বালিশ দুর্নীতি।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে দুর্নীতি প্রসঙ্গে বক্তারা বলেন, ‘যখন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আয়ার বেতন, গাড়িচালকের বেতন, প্রকল্প পরিচালকের বেতন, সর্বশেষ বালিশের দাম ও তা ফ্লাটে তোলার দাম আকাশচুম্বী, তখন জাতি হিসেবে আমরা লজ্জিত হই।’

উল্লেখ্য, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের গ্রিন সিটি আবাসন পল্লীর ফ্লাটের জন্য  নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কেনা তা ভবনের ফ্লাটে তোলার বিষয়ে আর্থিক দুর্নীতি নিয়ে গত ১৬ মে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশ হয়

এসব প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রকল্পের কর্মকর্তা কর্মচারীদের থাকার জন্য গ্রিন সিটি আবাসন পল্লীতে ২০ তলা ১১টি ১৬ তলা ৮টি ভবন হচ্ছে এরই মধ্যে ২০ তলা আটটি ১৬ তলা একটি ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে ২০ তলা ভবনের প্রতিটি ফ্ল্যাটের জন্য প্রতিটি বালিশ কিনতে খরচ দেখানো হয়েছে পাঁচ হাজার ৯৫৭ টাকা আর ভবনে বালিশ ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৭৬০ টাকা প্রতিটি রেফ্রিজারেটর কেনার খরচ দেখানো হয়েছে ৯৪ হাজার ২৫০ টাকা রেফ্রিজারেটর ভবনে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ১২ হাজার ৫২১ টাকা একেকটি খাট কেনা দেখানো হয়েছে ৪৩ হাজার ৩৫৭ টাকা আর খাট উপরে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ১০ হাজার ৭৭৩ টাকা

এদিকে, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কোনো তৎপরতা নেই। তারা ব্যস্ত  সরকারবিরোধী নেতাদের দমন করার কাজে।  

'গণতন্ত্রের অনুপস্থিতিতে জবাবদিহির টেকসই নীতি নেই বলেই লুটপাটের নীতিই প্রাধান্য বিস্তার করেছে। এ জন্য ঋণখেলাপিদের আরও ঋণ দেয়া হচ্ছে, আর মধ্যরাতের ভোটের সহায়তাকারীদের বিনা সুদে গাড়ি বাড়ি কেনার ঋণ দেয়া হচ্ছে। তাই মহাদুর্নীতির মাধ্যমে পকেট ভারী করাই হচ্ছে মিডনাইট সরকারের উন্নয়নের আসল কাহিনি' ।

এসময় প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী  অন্যায়ভাবে বেগম জিয়াকে বন্দি করে মিডনাইট নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে চূড়ান্তভাবে সমাহিত করেছেন। গণতন্ত্রের এই অকাল প্রয়াণে শোক জানাতেও মানুষ ভয় পাচ্ছে। কারণ, গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যার রক্তপাতের মাধ্যমে যে পিশাচের রাজত্ব কায়েম হয়েছে তাতে মানুষ শঙ্কিত। আইনের শাসনকে ফাঁসিতে লটকিয়ে সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি দাপিয়ে বেড়াচ্ছে দেশব্যাপী। সুতরাং বর্তমান দুঃশাসনের অবসান না হলে দেশে ভয়ের শাসনই জারি থাকবে। সেজন্য ‘গণতন্ত্রে মা’-কে কারামুক্ত করাই এখন গণতান্ত্রিক শক্তির প্রধান দায়িত্ব।#

পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/বাবুল আখতার/১৯

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।