ছাত্রলীগ-ছাত্রদলের নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব: অন্যদের প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশের দুটি বড় রাজনৈতিক দল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট দ্বন্দ্ব সংঘাত গত কয়েকমাস ধরেই জাতীয় গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়ে দেখা দিচ্ছে।
ছাত্রত্ব শেষ হয়ে গেছে বা বিয়েথা করে ব্যবসা-ঠিকাদারী নিয়ে দিব্বি সংসারি হয়ে বসেছে- এমন অনেকের ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্বে থাকা নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে অসন্তোষ ছাড়াও খোদ সংগঠনের কর্মী সমর্থকদের মধ্যেও দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ রয়েছে।
ছাত্রত্বের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েও নেতৃত্বের পদ আঁকড়ে থাকা, সংগঠনে সক্রিয় নেতাদের পদবঞ্চিত হওয়া, ঘোষিত নেতৃত্বের বিরুদ্ধে নানা অপকর্মের অভিযোগ- এসব নিয়ে ক্ষোভ এবং বিক্ষোভ চলছে আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের মধ্যে। একই রকম ক্ষোভ-বিক্ষোভ চলছে বিএনপি’র ছাত্রসংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মধ্যে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা রেডিও তেহরানকে বলেছেন, এ দুটি প্রভাবশালী ছাত্র সংগঠন ছাত্রদের স্বার্থ বা শিক্ষার স্বার্থ নিয়ে আন্দোলন করার পরিবর্তে সংগঠনের শিক্ষাঙ্গণে আধিপত্য বিস্তার করা এবং পদলাভের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। কারণ, এসব সংগঠনে পদের অর্থ হচ্ছে বিপুল অর্থ-বিত্ত উপার্জন। এছাড়াও এদের মূল সংগঠনের নেতারা ছাত্র নেতাদের নিজের স্বার্থে ব্যবহার করে বলে স্বার্থের সংঘাতে এরাও নানা উপধারায় বিভক্ত থাকে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে এ দু’টি প্রভাবশালী ছাত্রসংগঠনে আভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক চর্চা নেই। এদের নেতৃত্ব উপর থেকে চাপিয়ে দেয়া হয়।
অনুরূপ মন্তব্য করে সর্বদলীয় ইসলামী ছাত্র ঐক্যের সমন্বয়কারী মুহাম্মদ আবুল হাকিম রেডিও তেহরানকে বলেছেন, আদর্শহীনতা, দেশপ্রেমের অভাব আর ব্যক্তিগত ফায়দা হাসিলকে প্রাধান্য দেবার কারণেই এ দু’টি ছাত্রসংগঠনের মধ্য এমন আভ্যন্তরীণ সংঘাত মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে।
এদিকে, ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতরা দীর্ঘ ৩৩ দিনের অবস্থান কর্মসূচি শেষে গতকাল শুক্রবার দুপুর ২টা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আমরণ অনশন শুরু করেছে। তাদের চার-দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি চালিয়ে যাবে বলে তারা জানিয়েছে।
ছাত্রলীগে এ বিক্ষুদ্ধ অংশের দাবি হচ্ছে- প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ; ছাত্রলীগের কমিটির যে ১৯ জন বিতর্কিত নেতার পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে তাদের পদ ও নাম প্রকাশ; কমিটিতে বিতর্কিত যত জন রয়েছেন তাদের সবার পদ শূন্য ঘোষণা; পদবঞ্চিতদের মধ্যে থেকে যোগ্যতার ভিত্তিতে শূন্য পদগুলোতে পদায়ন এবং মধুর ক্যান্টিন ও টিএসসিতে তাদের ওপর হামলার সুষ্ঠু বিচার।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে ছাত্রলীগের ২৯তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবার দীর্ঘ একবছর পর গত ১৩ মে ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এ কমিটির শতাধিক নেতার বিরুদ্ধে গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে পদ পাওয়া এবং বিভিন্ন অন্যায়, অপকর্ম ও অনুপ্রবেশের অভিযোগ ওঠে। অনেকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার আসামি থেকে শুরু করে বিবাহিত, বিএনপি-জামায়াত সংশ্লিষ্টতা, মাদকসেবন বা মাদক ব্যবসায়ে জড়িত থাকা, চাকরি, ব্যবসা ঠিকাদারিতে যুক্ত থাকা ইত্যাদি অভিযোগ ওঠে। কমিটি ঘোষণার দিনই বিতর্কিতদের বাদ দেওয়ার দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন প্রায় অর্ধশত নেতা। মধুর ক্যান্টিন ও টিএসসিতে বিক্ষোভকারী বঞ্চিতদের ওপর দু’দফায় হামলা করে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা।
অপরদিকে, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির বিলুপ্ত করে নতুন করে নির্বাচনের সিডিউল প্রকাশ ও নির্বাচনে প্রার্থীতার যোগ্যতায় বয়সসীমা, ছাত্রত্বের মেয়া উত্তীর্ণ হওয়া ও অবিবাহিত থাকার শর্ত জুড়ে দেবার প্রতিবাদে ছাত্রদলের মেয়াদোত্তীর্ণ নেতা-কর্মীদের একটি অংশ ইতোমধ্যে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় অফিসে চড়াও হয়ে ভাংচুর চালিয়েছে। বয়সসীমা বাতিল করে কমিটির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার দাবিতে অনঢ় অবস্থানে রয়েছে ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধ অংশটি।
ছাত্রদলের মধ্যে নানা উপধারার কারণে সৃষ্ট সংকট এ নিয়ে মূল বিএনপিতেও নানা লবিং সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি লন্ডনে অবস্থানরত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকেও এর মধ্য জড়াতে হয়েছে।
আজ (শনিবার) বিকেলে স্থায়ী কমিটির নেতারা বৈঠকে বসছেন। এই বৈঠকের মূল এজেন্ডই হচ্ছে ছাত্রদলের সঙ্কট সমাধান।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।