পাবনায় শেখ হাসিনার ট্রেনে গুলি: বিএনপি নেতাসহ ৯ জনের ফাঁসি
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i71680-পাবনায়_শেখ_হাসিনার_ট্রেনে_গুলি_বিএনপি_নেতাসহ_৯_জনের_ফাঁসি
১৯৯৪ সালে পাবনার ঈশ্বরদীতে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার ট্রেনে গুলির মামলায় ৯ জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আদালত। একই মামলায় ২৫ জনকে যাবজ্জীবন এবং ১৩ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
(last modified 2026-06-24T09:59:37+00:00 )
জুলাই ০৩, ২০১৯ ০৮:২৫ Asia/Dhaka
  • পাবনায় তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা।
    পাবনায় তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা।

১৯৯৪ সালে পাবনার ঈশ্বরদীতে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার ট্রেনে গুলির মামলায় ৯ জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আদালত। একই মামলায় ২৫ জনকে যাবজ্জীবন এবং ১৩ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

পাবনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক মো. রোস্তম আলী আজ (বুধবার) দুপুর ১২টার দিকে এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় মামলার ৫২ আসামির মধ্যে ৩২ জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও তৎকালীন উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু, ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র মোখলেছুর রহমান বাবলু, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আখতারুজ্জামান আখতার, তৎকালীন উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি ও ঈশ্বরদী কলেজের সাবেক ভিপি রেজাউল করিম শাহিন, বিএনপি নেতা শহিদুল ইসলাম অটল, তৎকালীন ছাত্রদল নেতা মাহবুবুর রহমান পলাশ, তৎকালীন পৌর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা নুরে আলাম শ্যামল, তৎকালীন ছাত্রদল নেতা আজিজুর রহমান শাহিন ওরফে প্রবলেম শাহিন ও পৌরসভার সাবেক কমিশনার শামসুল আলম।  

যাবজ্জীবনপ্রাপ্তরা হলেন—আল আমিন, খোকন (বর্তমানে মৃত) , ইসলাম হোসেন জুয়েল, আলাউদ্দিন বিশ্বাস, শিমু, আনিস শেখন, নুরুল ইসলাম, আক্কেল আলী, রবি, এনাম, কল্লোল, কালা বাবু, মামুন, সেলিম আহমেদ, মামুনুর রহমান, তুহিন, লিটন, আবদুল্লাহ আল মামনু রিপন, লাইজু, আব্দুল জব্বার, আব্দুল হাকিম টেনু, আবুল কালাম, আলমগীর হোসেন, পলাশ ও পায়েল।

আর ১০ বছর কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—রাজু, বাবলু, আনোয়ার হোসেন জনি, বরকত, মুক্তা, মুকুল, দোলাল সরদার, জামরুল, তুহিন বিন ছিদ্দিক, মওলা, ফজলুর রহমান, আব্দুল বারিক ও রস্তম। 

 রায় ঘোষণা শেষে আদালতে আসামিরা

গত সোমবার পাবনার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-১ এ মামলায় কারাগারে থাকা বিএনপির ৩০ নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে উভয়পক্ষের আইনজীবীরা তাদের যুক্তি তুলে ধরেন। উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে বিচারক রোস্তম আলী এ মামলার রায়ের জন্য বুধবার দিন ধার্য করেন।

এদিকে মামলার রায়ের আগে পলাতকদের মধ্যে হুকুমদাতাসহ আরও দু’জন গতকাল (মঙ্গলবার) আত্মসমর্পণ করেন। তারা হলেন- ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মকলেছুর রহমান বাবলু এবং বিএনপি নেতা আব্দুল হাকিম টেনু। পাবনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক রুস্তম আলীর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে তিনি জামিন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর খুলনা থেকে ট্রেনে ঈশ্বরদী হয়ে সৈয়দপুরের দলীয় কর্মসূচিতে যাচ্ছিলেন তৎকালীন বিরোধীদলের নেত্রী শেখ হাসিনা। তাকে বহনকারী ট্রেনটি ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্টেশনে প্রবেশের মুহূর্তে ওই ট্রেন ও শেখ হাসিনার কামরা লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। স্টেশনে যাত্রাবিরতি করলে আবারও ট্রেনটিতে হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় পরবর্তীতে দলীয় কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করে শেখ হাসিনা দ্রুত ঈশ্বরদী ত্যাগ করেন। পরে ঈশ্বরদী রেলওয়ে জিআরপি থানার ওই সময়কার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাদী হয়ে তৎকালীন ছাত্রদল নেতা ও বর্তমানে ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুসহ সাতজনকে আসামি করে মামলা করেন।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর পুলিশ মামলাটি পুনঃতদন্ত করে। তদন্ত শেষে নতুনভাবে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ ৫২ জনকে এ মামলার আসামি করা হয়। মামলা করার পর ওই বছর কোনো সাক্ষী না পেয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয় পুলিশ। কিন্তু আদালত ওই প্রতিবেদন গ্রহণ না করে অধিকতর তদন্তের জন্য তা সিআইডিতে পাঠান। পরে তদন্ত শেষে পুলিশ মোকলেছুর রহমান বাবলু, জাকারিয়া পিন্টুসহ ৫২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৩

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।