বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ ঘর পাবে, জমি পাবে: শেখ হাসিনা
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i71966-বাংলাদেশের_প্রতিটি_মানুষ_ঘর_পাবে_জমি_পাবে_শেখ_হাসিনা
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও ঘনবসতির কথা বিবেচনায় নিয়ে গৃহায়ণ, শিল্প প্রতিষ্ঠান, রাস্তা-ঘাটসহ যাবতীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন সুপরিকল্পিতভাবে সম্পন্ন করার জন্য গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
(last modified 2026-06-24T09:59:37+00:00 )
জুলাই ১৫, ২০১৯ ১২:১৫ Asia/Dhaka
  • শেখ হাসিনা
    শেখ হাসিনা

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও ঘনবসতির কথা বিবেচনায় নিয়ে গৃহায়ণ, শিল্প প্রতিষ্ঠান, রাস্তা-ঘাটসহ যাবতীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন সুপরিকল্পিতভাবে সম্পন্ন করার জন্য গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ (সোমবার) দুপুরে রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন রোডে ৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতায় গণপূর্ত অধিদফতরের ৪টি এবং জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ৩টিসহ মোট ৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

ফ্ল্যাট বা ঘরবাড়ি নির্মাণের সময় পরিবেশগভাবে ও স্বাস্থ্যগত দিকগুলোর দিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে আর্কিটেক্ট-ইঞ্জিনিয়ারদের অনুরোধ করেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আগে আট ভাগ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী আবাসন সুবিধা পেত। এখন ৪০ ভাগ পাচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি আমরা বেসরকারি মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্তদের জন্য ফ্ল্যাট প্রকল্প করেছি। উত্তরা, ভাষানটেক, মিরপুরসহ বিভিন্ন স্থানে এসব ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হচ্ছে। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীরা জড়িত। তারা যেন মনোযোগ দিয়ে ভালোভাবে কাজ করতে পারে, আবাসন নিয়ে যাতে তাদের চিন্তা করতে না হয়, সে কারণে এ ব্যবস্থা নিচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আমরা যে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি, তাতে সরকারি, বেসরকারি চাকরিজীবীসহ বস্তিবাসীরাও ফ্লাটে বসবাস করার সুযোগ পাবে।  বাংলাদেশের একটি মানুষও গৃহছাড়া থাকবে না। প্রতিটি মানুষ ঘর পাবে, জমি পাবে।

এসময় ঢাকার যানজট কমানোসহ নাগরিক সুযোগ-সুবিধায় সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, 'এই উন্নয়নটা শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক না। আমরা একেবারে প্রত্যেকটি মহানগর জেলা, উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে করতে চাই।’

এ লক্ষ্যে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলাসহ বিসিক শিল্প নগরীগুলোকে সম্প্রসারিত করা হচ্ছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এভাবে শিল্পায়নটাও পরিকল্পিতভাবে করা হবে। আর স্কুল-কলেজ যেগুলোই হোক না কেন, সেগুলি সুষ্ঠু  পরিকল্পনার মাধ্যমে হতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘রাস্তা-ঘাট বা ভবন যাই হোক তা পরিকল্পিতভাবে করতে পারলে আমাদের এই ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার মানুষের জন্য জীবনমান উন্নত করতে পারব। আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ আবাসনের ব্যবস্থাও তাদের জন্য করতে পারব। শুধু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই না সব শ্রেণির মানুষের জন্য বাসস্থান নির্মাণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই উদ্যোগ নিয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই, বাংলাদেশ সম্পূর্ণভাবে দারিদ্র্যমুক্ত হবে, উন্নত হবে এবং সমৃদ্ধশালী হবে। আমরা জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলব। ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ও ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করব। এরই মধ্যে দেশকে ক্ষুধামুক্ত করেছি, আমরা দারিদ্র্যমুক্তও করতে চাই। যেন বাংলাদেশ এই অঞ্চলের সব থেকে সমৃদ্ধশালী উন্নত বাংলাদেশ হিসাবে গড়ে উঠবে।’

এসময় প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করা উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে যারা আবাসিক হিসাবে বসবাস করবেন তাদেরকে ফ্ল্যাটগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাসহ যত্ন সহকারে নিজ নিজ দায়িত্বে রাখার অনুরোধ করেন এবং ভবনগুলোর অসম্পন্ন কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানান তিনি।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন- সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকারসহ অন্যরা।#

 

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৫

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।