কমিশনে আমার নির্দেশ উপেক্ষিত- মাহবুব: ঢাকায় নির্বাচনী প্রচারণায় সংঘর্ষ
-
মাহবুব তালুকদার
ঢাকা সিটি নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে নির্বাচন কমিশন সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেনি বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। আজ (রোববার) সকালে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের কাছে এমন মন্তব্য করে মাহবুব তালুকদার জানান, নির্বাচন কমিশনের ভেতরেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই।
তিনি অভিযোগ করেন, ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণার পর থেকে আজ পর্যন্ত কমিশনের যে তিনটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, তার কোনোটিতে নির্বাচনী আচরণবিধি, অনিয়ম বা প্রার্থীদের অভিযোগ সম্পর্কে কোনো আলোচনা হয়নি। ২৮ জানুয়ারি কমিশনের পরবর্তী যে সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, তাতেও ঢাকা সিটি করপোরেশন সম্পর্কে কোনো বিষয় এজেন্ডাভুক্ত করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, এসব অভিযোগের পেছনে যে অসন্তোষ আছে, তা বিস্ফোরিত হলে সিটি করপোরেশন নির্বাচন যথোপযুক্তভাবে অনুষ্ঠিত হবে না, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এর দায়ভার নির্বাচন কমিশনকে বহন করতে হবে।
নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার দুঃখের সঙ্গে বলেন, 'কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব ও ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দুই রিটার্নিং অফিসারের কাছে আমি প্রার্থীদের বিভিন্ন অভিযোগ সম্পর্কে তথ্যাদি জানাতে বলেছিলাম। এসব অভিযোগের বিষয়ে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে ২০ জানুয়ারি তারিখের মধ্যে আমার কাছে পেশ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলাম। কিন্তু আমার সেই নির্দেশ উপেক্ষিত হয়েছে এবং কোনো তথ্যই আমাকে সরবরাহ করা হয়নি।'
তিনি আরও বলেন, 'নির্বাচন কমিশন সভায় আমার প্রস্তাব বা সুপারিশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে অগৃহীত হয়। আমাকে সংখ্যালঘিষ্ঠ হিসেবে না দেখে আমার বক্তব্যের বিষয়বস্তুর মেরিটকে বিবেচনায় নেয়া সমীচীন বলে মনে করি। আমার ধারণা কমিশন সভায় আমার বক্তব্য প্রদানের স্থান সংকুচিত হয়ে পড়েছে। নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরেই কোনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই। আমরা নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষা করতে চাই। আমাদের কর্মকাণ্ডে তা দৃশ্যমান হওয়া বাঞ্ছনীয়।
গোপীবাগে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ
এদিকে, আজ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কপোরেশনের নির্বাচনী প্রচারণায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার দুপুরে রাজধানীর গোপীবাগে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। আধাঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘর্ষের মাঝে গণমাধ্যম কর্মীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
সংঘর্ষ শেষে মেয়রপ্রার্থী ইশরাক হোসেন নিজ বাসায় এক তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনে জানান, গণসংযোগ থেকে বাসায় ফেরার পথে তার উপর হামলা হয়। তার একজন কর্মীকে প্রতিপক্ষ আটকে রাখার খবর পেয়ে তিনি এগিয়ে গেলে হামলার মুখে পড়েন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, কেবল ইটপাটকেল না, তাদের দিকে গুলিও ছোড়া হয়েছে।
আওয়ামী লীগের সমর্থকেরা বলছেন, ইশরাকের মিছিল থেকে উসকানিমূলক স্লোগান দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বিএনপির সমর্থকেরা বলছেন, তারা শান্তিপূর্ণ মিছিল নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ করে হামলা চালানো হয়।
তবে পুলিশ জানিয়েছে, তারা কোনো গুলির খবর জানে না। পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে আছে। প্রচারণার ব্যাপারে আগে থেকে তাদের জানালে তারা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য সচেষ্ট থাকতেন।
বিএনপি প্রার্থী ইশরাকের বাসায় ব্রিটিশ হাইকমিশনার
নির্বাচনী প্রচারণায় হামলার পর বিএনপির মেয়রপ্রার্থী ইশরাক হোসেনের বাসায় গেছেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট ডিকসন। আজ দুপুর পৌনে ৩টার দিকে তিনি ইশরাকের গোপীবাগের বাসায় যান। ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট ডিকসন বলেছেন, হামলার বিষয়টি আমরা শুনেছি। নির্বাচনে হামলা প্রত্যাশিত নয়। আমরা একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন দেখতে চাই।
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে; কাদের
ওদিকে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে এবং এতে সরকারের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ থাকবে না।
রোববার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে মোটরচালক লীগের সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘সরকারের সব এজেন্সি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানদের আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলে দিয়েছেন ঢাকা সিটি নির্বাচনে যেন সরকারের কেউ কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না করে। এই ব্যাপারে ক্লিয়ার ম্যাসেজ সবাইকে তিনি দিয়েছেন।’
নির্বাচন নিয়ে বিএনপি নেতাদের সংশয়ের বিষয়টি দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এখানে সংশয়ের কোনো কারণ নেই। শেখ হাসিনা বলেছেন নির্বাচনে জনগণ যা চায় তাই হবে। এত কাজ করার পরও জনগণ যদি ভোট না দেয় তবে জবরদস্তি করে জনসমর্থন আদায় করে ক্ষমতায় থাকার কোনো ইচ্ছা আমার নেই।’#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২৬
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।