ঢাকা সিটি নির্বাচন: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে বিএনপির প্রশ্ন
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি। এদিকে, ঢাকার দুই সিটির ৫০টি ভোটকেন্দ্র নিয়ে চিন্তিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
আজ (মঙ্গলবার) বিকেলে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে বাংলাদেশে যে অবস্থা বিরাজমান ছিল অর্থাৎ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক নেতা-কর্মীদের হয়রানি, মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দায়ের, বিএনপি নেতা-কর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তাদের ঘুম কেড়ে নেয়ার নীতি- সেটা এবার সিটি নির্বাচনেও তারা অব্যাহত রেখেছে।
রিজভী বলেন, নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আওয়ামী লীগকে জেতাতে ততটাই মরিয়া হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে ঢাকা শহরে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের আনাগোনা বেড়ে গেছে। বরাবর নির্বাচনের পূর্বে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয় এবং বৈধ অস্ত্র জমা নেয়া হয়। এবারে ঢাকা সিটি নির্বাচনে সেই উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
মঙ্গলবার বিকেলে ধানের শীষের প্রার্থী ইশরাক হোসেন জানান, ধানমন্ডিতে বিএনপির পূর্ব নির্ধারিত প্রচারণা কর্মসূচিতে সেখানকার ওসি ও ডিসি দাঁড়িয়ে থেকে বিএনপি নেতা-কর্মীদের প্রচার-প্রচারণায় বাধা দিয়েছে।
রিজভী বলেন, গত রোববার গোপীবাগে ধানের শীষের প্রার্থী ইশরাক হোসেনের প্রচারণায় আওয়ামী সন্ত্রাসীদের সশস্ত্র হামলার ঘটনার পর উল্টো বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বানোয়াট মামলা দায়ের করার পর এ পর্যন্ত ১০-১২ জনকে গ্রেফতার করে এখন রিমান্ডের নামে চলছে অকথ্য নির্যাতন। ৫০ জন বিএনপি নেতাকর্মীকে আসামিসহ শতাধিক অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এই অজ্ঞাতনামা আসামি করার মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে গণগ্রেফতার চালিয়ে এলাকাকে বিএনপি নেতাকর্মী ও ভোটারশূন্য করা।
নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্ট করার চেষ্টা হচ্ছে: তাপস
ওদিকে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর রাজারবাগ এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগ কর্মসূচিতে অভিযোগ করেছেন, সন্ত্রাসী কার্যকলাপের মাধ্যমে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্ট করার চেষ্টা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমরা চাই নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ যাতে কোনোভাবে নষ্ট না হয়। কোনো সন্ত্রাসী কার্যকলাপের মাধ্যমে কেউ যাতে পরিবেশকে বিঘ্নিত করতে না পারে। নির্বাচন কমিশনসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আমি অনুরোধ করব কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে সুষ্ঠু পরিবেশ যাতে বজায় রাখতে তারা যেন ব্যবস্থা নেন।
৫০ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ
এদিকে, ঢাকার দুই সিটির ৫০টি ভোটকেন্দ্র নিয়ে চিন্তিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ১২৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৯২টি ওয়ার্ডে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। এই ৯২টি ওয়ার্ডের ৫০টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছে পুলিশ। আবার এর মধ্যে ১৮টি কেন্দ্র অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঝুঁকিপূর্ণ ৫০টি কেন্দ্রের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটিতে ২৩টি আর দক্ষিণ সিটিতে রয়েছে ২৭টি কেন্দ্র।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত: পুলিশ কমিশনার
এ প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল বাতেন বলেছেন, বহিরাগতরা যাতে কোনোপ্রকার হাঙ্গামা করার সুযোগ না পায় সে ব্যাপারে আইন-শৃংখলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৪০ হাজার সদস্য ভোটের সময় মাঠে থাকবে। কেন্দ্রভিত্তিক সাধারণ কেন্দ্রে ১৬ জন ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ১৮ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য থাকবে। এছাড়া স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসাবে র্যাব ও বিজিবি মোতায়েন থাকবে।
ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আগাম সতর্কতা হিসেবে সংশ্লিষ্ট থানা ও পুলিশ ফাঁড়িগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভোটকেন্দ্রগুলো ও আশপাশের এলাকায় থানা পুলিশের মোবাইল পার্টি, পিকেট পার্টি, হাঁটা পার্টি, গাড়ি টহল পার্টিকে বেশি সক্রিয় হতে বলা হয়েছে। বিট পুলিশিংকে আরো কার্যকর ভূমিকা পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভোটকেন্দ্রের আশপাশে বসাতে বলা হয়েছে চেকপোস্ট। এছাড়াও ভোটের কয়েক দিন আগে থেকে ভোটকেন্দ্রের আশপাশের এলাকাগুলোতে দুর্বৃত্তদের দমনের জন্য বাসাবাড়িগুলোতে ব্লক রেইড দেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।#
পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২৮
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।