১৭০ কেন্দ্র দখলের ষড়যন্ত্র চলছে- তাপস : ভোট ডাকাতির ছক করেছে সরকার- রিজভী
-
গণসংযোগে শেখ ফজলে নূল তাপস
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছেন, 'আমরা খবর পেয়েছি, ১৭০টি কেন্দ্র দখলের ষড়যন্ত্র চলছে। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করব, তারা যেন আশু পদক্ষেপ নেয়, যেন নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকে। আমি বিশ্বাস করি, সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকলে নৌকা বিপুল ভোটে জয়ী হবে।'
নির্বাচনি প্রচারণার শেষ দিনে আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে মতিঝিল ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের সামনে নির্বাচনি গণসংযোগ শুরুর আগে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, 'আজ নির্বাচনি গণসংযোগে আমাদের শেষ দিন। আমরা নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে চলে এসেছি। ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকাবাসী নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাকেসহ আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের নির্বাচিত করে তাদের সেবক হিসেবে রায় দেবেন- এটা আমার বিশ্বাস।'
নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়ে তাপস বলেন, 'আমরা কিছুটা শঙ্কিত এ কারণে যে প্রতিপক্ষের মেয়র প্রার্থী নিজে আমাদের কাউন্সিলরের গণসংযোগে উপস্থিত হয়ে আক্রমণ করেছেন। বিএনপি প্রার্থী পিএস অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে গোলাগুলি করেছেন, তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলব, ঢাকাবাসীকে এসব সন্ত্রাসীদের হাত থেকে পরিত্রাণ দিন। ভোটাররাসহ ঢাকাবাসী আপনাদের সঙ্গে থাকবে, আমরাও ভোটারসহ ঢাকাবাসীদের সঙ্গে থাকব।'
৫০০ সন্ত্রাসী নিয়োগ করবে বিএনপি: সেতুমন্ত্রী
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে দাগী ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের ভাড়া করে ঢাকায় এনেছে। বিএনপির নির্বাচন মানে ভোট চুরি, জাল ভোট এবং কেন্দ্র দখল।
আজ (বৃহস্পতিবার) ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। নির্বাচনে জনসমর্থন না পেয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে তারা পাঁচশ’ সন্ত্রাসী নিয়োগ করবে বলে জানতে পেরেছি।
ভোট ডাকাতির ছক তৈরি করেছে ক্ষমতাসীন সরকার: রিজভী
এদিকে, ক্ষমতাসীন দল বহিরাগত সন্ত্রাসীদের দিয়ে ভোট ডাকাতির ছক তৈরি করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘পুরো ঢাকা সিটিতে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা হচ্ছে।’ এর মধ্যেই ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান বিএনপির এই নেতা।
আজ রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রিজভী।
তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশই তৈরি হয়নি, যাতে করে মানুষ ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন। ইভিএমের প্রতি যে মানুষের অনাস্থা ও অনাগ্রহ দেখা গেছে, নির্বাচন কমিশন মসজিদের মাইক দিয়েও ইভিএমের কার্যক্রম দেখাতে লোক খুঁজে পায়নি। মানুষ এটিকে প্রতারণার মেশিন বলেই মনে করছে। তারপরও সব প্রতিকূলতা ও নীলনকশা উপেক্ষা করে জনগণ ভোট দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানাই, নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যান, নিজের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করুন, দুঃশাসনের জবাব দিন।’
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, পৃথিবীতে যুগে যুগে দু-একজন গণবিরোধী স্তাবক ও বিশ্বাসঘাতকদের সৃষ্টি হয়েছে, যাদের কারণে একটি জাতি স্বাধীনতা হারিয়েছে অথবা করুণ দশায় পতিত হয়েছে। এই পা-চাটা গোলামরা শুধু নিজেদের পদ ও ক্ষমতার স্বার্থে পুরো জাতিকে ভয়াবহ বিপদের মুখে ফেলে দেয়। তাদের মতোই নতুন এক নিলাজ, দলকানা ও সেবাদাস সিইসি কে এম নূরুল হুদাকে জাতির স্কন্ধে চাপিয়ে দিয়েছে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ।’
মেয়র প্রার্থী ইশরাকের পিএস গ্রেপ্তার
ঢাকা সিটি নির্বাচনে প্রচারের সময় রাজধানীর গোপীবাগে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় মামলায় আরিফুল ইসলাম নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা (পূর্ব) বিভাগ।
বৃহস্পতিবার ভোররাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর হাতিরঝিল থানার মহানগর প্রজেক্ট এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান অতিরিক্ত কমিশনার আবদুল বাতেন। তিনি জানান, গ্রেপ্তার আরিফুল ইসলাম (৪৭) ছাত্রদলের একজন সাবেক নেতা ও বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী ইশরাকের পিএস। তার কাছ থেকে ১টি .২২ বোরের বিদেশি পিস্তল ও ৫০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
আব্দুল বাতেন বলেন, গত ২৬ জানুয়ারি রাজধানীর ওয়ারী থানার গোপীবাগ এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণাকালে সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। উল্লেখিত ঘটনার প্রেক্ষিতে ওয়ারী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। থানা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা বিভাগও ছায়া তদন্ত শুরু করে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের পাশাপাশি ভিডিও ফুটেজ ও স্থিরচিত্র সংগ্রহ করে সেগুলো যাচাই করে আরিফুল ইসলামকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি গুলি করার কথা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৩০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।