ঢাকা সিটি নির্বাচন: ৪ মেয়র প্রার্থী ও সিইসি যা বললেন
-
ভোটারদের লাইন
প্রথমবারের মতো ব্যালট পেপারের পরিবর্তে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন। ইতোমধ্যে ভোট দিয়েছেন ঢাকা উত্তরে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম ও বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল এবং দক্ষিণে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস ও বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন।
ঢাকাবাসী আমাকে নিরাশ করবে না: তাপস
আজ (শনিবার) সকালে নিজ নিজ ভোট কেন্দ্রে প্রথম ভোট দিয়ে বের হয়ে তারা কথা বলেছেন সাংবাদিকদের সঙ্গে। ঢাকা দক্ষিণে আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ধানমন্ডির ড. মালেকা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ভোট দিয়েছেন। ভোট দেয়ার পরে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। শান্তিপূর্ণভাবেই ভোটগ্রহণ চলছে। নির্বাচনে হার-জিত থাকতে পারে, রেজাল্ট যাই হোক তা আমি মনে নেব। তবে আমি আশা করি ঢাকাবাসী আমাকে নিরাশ করবে না।’
বিএনপির এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট নিয়োগের সাংগঠনিক শক্তি বিএনপির নেই। তারা এখন আওয়ামী লীগকে দোষারোপ করছে।
এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না: ইশরাক
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন আজ সকালে শহীদ শাহজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন। ভোট দেয়ার পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, কয়েক জায়গা থেকে অভিযোগ এসেছে- আমার এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। সে অভিযোগ তিনি ম্যাজিস্ট্রেটকে জানিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেছেন।
ইশরাক আরও বলেছেন, “জীবনে প্রথমবারের মতো ভোট দিয়েছি। এখন আমি বাসায় ফিরবো না। কেন্দ্রে কেন্দ্রে ঘুরবো। কোনও কিছুই আমাকে আটকাতে পারবে না। আজ আমি সব মোকাবেলা করতে প্রস্তুত। আমি একটুও ছাড় দেব না।”
সেসময় তিনি নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিও আহ্বান জানান।
ফলাফল যাই হোক, মেনে নেব: আতিক
জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী হলেও ভোটের ফলাফল যাই হোক মেনে নেবেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আতিকুল ইসলাম।
রাজধানীর উত্তরায় এক নম্বর ওয়ার্ড আওতাধীন নওয়াব হাবীবুল্লাহ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে নিজ ভোটাধিকার প্রয়োগ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান আতিকুল ইসলাম।
আতিক বলেন, আমি আগেও নির্বাচন করেছি, বিজিএমইএ নির্বাচন করেছি। ভোটের ফলাফল যেমনই হোক মেনে নেব। তবে, আমি জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। বিগত ৯ মাস যেভাবে কাজ করেছি, দেশজুড়ে নৌকা যে উন্নয়ন করেছে, তা জনগণ মনে রাখবে এবং নৌকায় ভোট দেবে বলে আমার বিশ্বাস।
হাল ছাড়ছি না: তাবিথ আউয়াল
ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল বলেছেন, 'সার্বিকভাবে বলা যায়, আমরা একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে হয়তো যাচ্ছি না। তবে হাল ছাড়ছি না। মনোবল ভাঙছি না।'
শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর গুলশানে মানারাত ইন্টারন্যাশনাল স্কুল কেন্দ্রে নিজের ভোট দেয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি এ কথা বলেন।
তাবিথ বলেন, অনেকগুলো অভিযোগ পেয়েছি। অনেক কেন্দ্রে বিএনপির এজেন্ট প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। আমি নিজে এসব দেখতে যাব। আমি নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আহবান জানাব, তারা যেন দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেয়। এজেন্টরা যেন কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারে।
তিনি বলেন, ‘সরকারি মহল ও নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশ্য আমরা আগে থেকেই জানতাম। তবে শেষ দৃশ্য দেখার জন্য ভোটের মাঠে আছি। দেখি নির্বাচন কমিশনের মনোভাব বদলায় কি-না। আমরা হাল ছাড়ছি না। মনোবল ভাঙছি না।’
পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্রে টিকে থাকার সামর্থ্য থাকতে হবে: সিইসি
পোলিং এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রে টিকে থাকার সামর্থ্য থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা।
সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। বিএনপির এজেন্ট প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, “পোলিং এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রে অবস্থান করার সক্ষমতা থাকা উচিত। এ রকম কোনো অভিযোগ পেলে তারা প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও ম্যাজিট্রেটের কাছে যাবে। তখন তারা পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্রে ঢুকিয়ে দিবে।”
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি নূরুল হুদা বলেন, ভোটের পরিবেশ অনেক ভালো। ভোটারদের উপস্থিতি একটু কম। পরে হয়তো উপস্থিতি বাড়বে।
ভোটারদের উপস্থিতি কম হওয়ার মানে কি নির্বাচন কমিশন ভোটারদের আস্থা অর্জন করতে পারেনি- এমন প্রশ্নের উত্তরে নূরুল হুদা বলেন, আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করেছি। সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করেছি। এখন ভোটার উপস্থিতি কম হলেও পরে বাড়বে বলে আশা করছি।
বেশকিছু জায়গায় সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে, আপনারা কি এমন নির্বাচন চেয়েছিলেন? প্রশ্নের উত্তরে নির্বাচন কমিশনার বলেন, “না, আমরা এমন নির্বাচন চাইনি।”
অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কাজ হলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখা। কোনো ভোটারকে কেন্দ্রে আনা নয়।”
দুই সিটিতে মেয়র পদে লড়ছেন ১৩ জন প্রার্থী। এরমধ্যে উত্তরে ছয়জন এবং দক্ষিণে সাতজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।