ঢাকা সিটি নির্বাচন: ভোটারের কম উপস্থিতি ও ইভিএম বিভ্রাট নিয়ে হতাশা
-
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে শনিবার দুপুর ১টায় ভোটার শূন্য রাজধানীর বংশালে বীরশেষ্ঠ মতিউর রহমান বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্র। (ছবি: পিবিএ)
যেমনটি আশা করা হয়েছিল তেমন কোনো উৎসব মুখরতা দেখা যায় নি ঢাকা মহানগরীর দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে। ভোটারদের কম উপস্থিতি, ইভিএম-এর অকার্যকরিতা, কেন্দ্রে বিএনপি’র পোলিং এজেন্টদের অনুস্থস্থিতি বা বের করে দেওয়া এবং বেশকিছু কেন্দ্রে হাঙ্গামায় সাংবাদিকসহ শতাধিক আহত হবার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে আজকের সিটি নির্বাচন।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হলেও ভোটার উপস্থিত কম বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাশেম।
ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উত্তরার ৫ নম্বর সেক্টরের একটি কলেজ কেন্দ্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উত্তর সিটির রিটার্নিং কর্মকর্তা আরও বলেন, ১৩১৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৪টিতে অভিযোগ পেয়েছি। এর মধ্যে বাড্ডা, মোহাম্মদপুর, লালবাগ রয়েছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মিরপুর-১০ নম্বরের আদর্শ নগর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে বেলা ১২টার দিকে সাংবাদিকরা পরিদর্শনে গিয়ে দেখতে পান সেখানে কোনো ভোটার নেই। পোলিং এজেন্টরা ভোটারদের অপেক্ষায় প্রহর গুণছেন।
তবে দুপুর ১টার পর থেকে কিছু কিছু এলাকার কেন্দ্রে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভোটারদের উপস্থিতি দেখা গেছে। এর মধ্যে কিছু কিছু কেন্দ্রে বিকেল ৩টা নাগাদ ৩০ শতাংশেরও বেশি ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছেন প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা।
আজ সকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন শহীদ শাহজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেয়ার পর সাংবাদিকদের বলেন, কয়েক জায়গা থেকে অভিযোগ এসেছে- আমার এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। সে অভিযোগ তিনি ম্যাজিস্ট্রেটকে জানিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেছেন।
ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার প্রায় তিন ঘণ্টা পরও ভোটার উপস্থিতির কমতি এবং হাঙ্গামার খবর পেয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার মন্তব্য করেছেন, এমনটি তারা চায় নি।
তবে ভোটারের উপস্থিতি বাড়ানোর কাজটা নির্বাচন কমিশনের নয় এমন মন্তব্য করে সিইসি বলেন, নির্বাচনী এজেন্টদের কেন্দ্রে টিকে থাকার সাহস দেখাতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং অফিসার, ম্যাজিস্ট্রেট ও আইন-শৃংখলার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তার সাহায্য নিতে হবে।
খোদ সরকারি দলের মেয়র প্রার্থী শেখ ফজলে নুর তাপস তার হতাশার কথা ব্যক্ত করে বলেছেন, তার আশা ছিল অন্তত: ৬০ ভাগ ভোট কাষ্ট হবে।
এ সময় ইভিএম নিয়েও তার নেতিবাচক মতামত তুলে ধরেন ঢাকা দক্ষিণের মেয়র প্রার্থী শেখ ফজলে নুর তাপস।
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ার জন্য দক্ষিণে বিএনপি মনোনীত মেয়রপ্রার্থী ইশরাক হোসেন ও কূটনীতিকদের দায়ী করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।
আজ আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, 'বিএনপি মনোনীত মেয়রপ্রার্থী ইশরাক হোসেন কয়েকদিন ধরে যেসব কথাবার্তা বলছেন তা দাঙ্গাবাজ, উস্কানিমূলক কথা। এছাড়া বিদেশি কূটনীতিকদের তৎপরতা আমরা দেখেছি সেটি তো আছেই, তারপর রয়েছে ভোটারদের অলসতা এবং শীতের বিষয়। সব মিলিয়ে ভোটারদের মধ্যে একটা দ্বিধা ছিল। এর একটা প্রভাব পড়েছে ভোটের ওপর। যার ফলে ভোটারদের উপস্থিতি কিছুটা কম মনে হচ্ছে।'#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।