সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য ভোটের পরও বিএনপির হরতাল হঠকারীমূলক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i77135-সুষ্ঠু_ও_গ্রহণযোগ্য_ভোটের_পরও_বিএনপির_হরতাল_হঠকারীমূলক_স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, ‘সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য ভোটের পরও বিএনপির হরতাল আহ্বান হঠকারীমূলক। আগামীকাল এসএসসি পরীক্ষা রয়েছে, এ অবস্থায় হরতাল আহ্বান করে তারা জনবিচ্ছিন্নতার কাজ করেছে।’
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২০ ১১:২০ Asia/Dhaka
  • আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল
    আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল

বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, ‘সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য ভোটের পরও বিএনপির হরতাল আহ্বান হঠকারীমূলক। আগামীকাল এসএসসি পরীক্ষা রয়েছে, এ অবস্থায় হরতাল আহ্বান করে তারা জনবিচ্ছিন্নতার কাজ করেছে।’

আজ (রোববার) দুপুরে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, ঢাকা সিটি করপোরেশনের ভোট নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। মানুষ নির্বিঘ্নে ভোট দিয়েছে।

আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ছিল, সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার। সবার জন্য নিরাপদভাবে ভোট দেওয়ার পরিবেশ তৈরি করার। নির্বাচনের সময় যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকে, তারপরও প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা সেভাবেই তা পালন করেছি।

এ সময় ঢাকা সিটি নির্বাচন সুন্দরভাবে সম্পন্ন করায় নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

ড. হাছান মাহমুদ

তিন কারণে ভোটার উপস্থিতি কম: তথ্যমন্ত্রী

এদিকে, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, কাল বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে।

আজ (রোববার) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। ভোটার উপস্থিতি কম প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান বলেন, আমি হিসাব করে দেখেছি, মোটামুটিভাবে ২৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। তবে ভোটার উপস্থিতি আরো বেশি হতো। কম হওয়ার পেছনে তিনটি কারণ রয়েছে।

প্রথমত- টানা তিনদিনের ছুটি ছিল, সে কারণে ঢাকার অনেক ভোটার গ্রামে চলে গেছেন।

দ্বিতীয়ত- বিএনপি শুরু থেকেই ইভিএম নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা চালিয়েছে। এতে মানুষের মধ্যে ইভিএম নিয়ে সংশয় তৈরি করেছে। ফলে ৭৫ শতাংশ ভোটার কম উপস্থিত হয়েছে। কারণ তারা এটির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।

তৃতীয়ত- তারা (বিএনপি) প্রথম থেকে বলে আসছে, এই নির্বাচনকে আন্দোলনের মাধ্যম হিসেবে নিয়েছে বিএনপি। একই সঙ্গে নির্বাচনের দুই দিন আগে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেছেন আমরা একটি সফলতা পেয়েছি। নির্বাচনের কারণে আমরা ঘর থেকে বের হতে পারছি। ফলে জনগণের মধ্যে এই ধারণা জন্মেছে যে, তারা জয় লাভের জন্য নির্বাচন করছে না। নির্বাচনটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হচ্ছে না সেটা বিএনপি খোলাসা করেছে। তারা জয় লাভের লক্ষ্যে নয়, আন্দোলনের অংশ হিসেবে নিয়েছে। সে কারণে অনেক ভোটার ভোট দিতে উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছে। এসব কারণেই ভোটার উপস্থিতি কম হয়েছে।

আমেরিকার উদাহরণ টেনে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে যারা ভোট দেওয়ার জন্য যোগ্য তার ৯৯.৮ শতাংশ লোক ভোটার হয়। আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যারা ভোট দেওয়ার জন্য যোগ্য তাদের মধ্যে মাত্র ৬০ শতাংশ ভোটার হয়। আর সেই ৬০ শতাংশের মধ্যে ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ ভোট পড়ে। সে হিসেবে আমাদের এখানে ভোটারের উপস্থিতি ভোটদানের যোগ্য ভোটারের তুলনায় গতকাল যে নির্বচান হয়েছে সেখানে উপস্থিতি ভালো ছিল।

গতকাল শনিবার ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা উত্তর সিটিতে মেয়র পদে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের আতিকুল ইসলাম। ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। ঢাকা উত্তর সিটিকে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন তাবিথ আউয়াল ও দক্ষিণে প্রার্থী ছিলেন ইশরাক হোসেন। নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে রাজধানীতে হরতালের ডাক দিয়েছে বিএনপি।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২ 

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।