ঢাকা সিটি নির্বাচনে ভোটারদের কম উপস্থিতি: বিভিন্ন মহলের প্রতিক্রিয়া
-
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে শনিবার দুপুর ১টায় ভোটার শূন্য রাজধানীর বংশালে বীরশেষ্ঠ মতিউর রহমান বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্র।
মাসব্যাপী প্রস্তুতি, প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ এবং ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার পর গতকাল ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের দুই সিটিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভোটারদের কম অনুপস্থিতি বিরাট প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে।
ভোটের দিন মাইকিং করেও অনেক কেন্দ্রে কাঙ্ক্ষিত সংখ্যক ভোটারদের উপস্থিত করানো যায় নি। কেন এমনটি হয়েছে তা নিয়ে রীতিমতো চিন্তায় পড়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
ঢাকা দক্ষিণে ২৯ শতাংশ এবং উত্তরে ২৫ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা ধারনা করে বলেন, ঢাকার উভয় সিটি নির্বাচনে ভোট পড়েছে গড়ে ৩০ ভাগের মধ্যে। নির্বাচন কমিশনের সদস্য মাহবুব তালুকদার সাংবাদিকদের বলেন, শতকরা ২৫ ভাগের মতো ভোট পড়েছে। কিন্তু তাতে ফলাফলের কোনো হের ফের হয়নি।
গতকালের সিটি নির্বাচন প্রসঙ্গে ক্ষতাসীন দল আওয়ামী লীগ বলেছে, বাংলাদেশের গত একশ’ বছরের ইতিহাসে এমন সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় নি।
অপরদিকে নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি সিটি নির্বাচনকে একটি 'বিরাট তামাশা' উল্লেখ করে এর ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে এবং এর প্রতিবাদে আজ ঢাকায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করছে।
তবে সব কিছুকেই ছাপিয়ে মুখ্য আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে ভোটারা কেন কেন্দ্রে এলেন না, এমনকি তরুণ প্রজন্মের মাঝে নির্বাচনের ব্যাপারে কেন এই অনাগ্রহ?
গতকাল ভোট দেয়ার পর গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন গণমাধ্যমের কাছে এর জবাব খুঁজতে অনুরোধ করেছেন।
এবারে নির্বাচন বয়কটকারী বাম রাজনৈতিক দল বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক সার্বিক নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করে রেডিও তেহরানকে বলেছেন, এটি ছিল মূলত নির্বাচন কমিশন ও সরকারের নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি একটি গণঅনাস্থার বহিঃপ্রকাশ।
অপেক্ষাকৃত শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু পরিবেশ থাকার পরও ভোটারদের ব্যাপকভাবে অনুপস্থিতি এবং বিশেষ করে প্রযুক্তিতে আগ্রহী তরুণ ভোটাররা কেন বুথে এলেন না তা নিয়ে গবেষণা করা দরকার বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনেরা।
এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট নাগরিক ড. রেহমান সোবহান গণমাধ্যমকে বলেছেন, মানুষ যদি ভোটে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে তাহলে গণতন্ত্র সচল থাকে না।
এদিকে, এবারই প্রথম সকল কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করে ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু তা নিয়েও ভোটারদের মাঝে ছিল একরকম দ্বিধা-দ্বন্দ্ব। ইভিএম-এ ভোট দিতে গিয়ে অনেক ভোটারই বিড়ম্বনায় পড়েন। খোদ প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার আঙুলের ছাপ শনাক্ত করতে পারেনি ইভিএম। তাই তাকে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি কার্ড) দেখিয়ে নিজের ভোট দিতে হয়েছে।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।