বিএনপির নাশকতার আশঙ্কায় ঢাকা সিটি নির্বাচনে ভোটার কম ছিল: তথ্যমন্ত্রী
-
বক্তব্য রাখছেন ড. হাছান মাহমুদ
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, '২০১৪ সালে নির্বাচন বানচাল করতে ৫০০ ভোট কেন্দ্র জ্বালিয়ে দিয়েছিল বিএনপি। প্রিজাইডিং অফিসারসহ নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেককে হত্যা করেছিল। ভোটারকে হত্যা করেছিল। সুতরাং তারা যখন ঘোষণা দেয় নির্বাচন আন্দোলনের অংশ তখন মানুষ সেই হাঙ্গামার আশঙ্কার কারণে ঢাকা সিটি নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে যায়নি।'
আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী বলেন, '২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিএনপি সারাদেশে ব্যাপক নাশকতা সৃষ্টি করেছিল। এবারো তারা নির্বাচনে অংশ নিয়ে বলেছে, নির্বাচনে অংশ নেওয়া তাদের আন্দোলনের অংশ। বিএনপির আন্দোলন সম্পর্কে মানুষ জানে।'
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, 'ঢাকা সিটি নির্বাচন ভালো হয়েছে। উপমহাদেশের মানদণ্ডে বিচার করলেও বলতে হবে এটি একটি ভালো নির্বাচন হয়েছে। আমরা অতীতে দেখেছি যখনই স্থানীয় সরকার নির্বাচন হয়, তখনই হাঙ্গামা হয়, কেন্দ্র দখল, সিল মারা হয়। এই নির্বাচনে কোনো সিলমারা হয়নি। হাঙ্গামা হয়নি।'
তিনি বলেন, 'ঢাকা সিটির নির্বাচনে উত্তর সিটিতে ২৫ শতাংশ, দক্ষিণে ২৯ শতাংশ ভোট পড়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও এমনই ভোট পড়ে। সেই হিসেবে বললে এই ভোটও একেবারে কম নয়।'
এসময় ড. হাছান মাহমুদ আরো বলেছেন, বিএনপি সবসময় প্রযুক্তিকে ভয় পায়, আর যখনই নির্বাচনে হেরে যায় তখন তাদের অভিযোগ ‘নাচতে না জানলে উঠান বাঁকার’ মতো হয়। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন নিয়ে বুধবার বিএনপি সংবাদ সম্মেলনে তাদের অভিযোগও সেরকম ছিল।
বিএনপি এখন আজগুবি অভিযোগ তুলছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করছে, ইভিএম মেশিনে নাকি রাতভর ভোট দেয়া হয়েছে। সেই সুযোগ থাকলে ভোট ২৫ শতাংশ হতো না, ৬০ ভাগই হতো। ইভিএম মেশিনে চুরি করা যায় না। ইভিএম নিজেই প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং এজেন্ট এর মত কাজ করে।
তথ্যমন্ত্রী বিএনপিকে এ ধরনের আজগুবি অভিযোগ উপস্থাপন না করে বাস্তবতাকে মেনে নেয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আপনাদের নেতাকর্মীরা কেন আপনাদের কাছ থেকে সরে গেছেন এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা কেন ভোটের দিন মাঠে ছিল না সেই বিশ্লেষণ করুন। তাহলে আপনাদের দল উপকৃত হবে।
এদিকে, বিএনপির সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান ও পুনর্নির্বাচনের দাবি প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এটা মামা বাড়ির আবদার নাকি।
আজ রাজধানীতে আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর বৈঠক শেষে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি এখন বলার জন্য এসব বলছে। বিরোধিতা করার জন্য বিরোধিতা করছে। বিএনপি নিজেও জানে এই নির্বাচনে কোনো ধরনের সহিংসতা হয়নি। আমি বলব- শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জনগণের ভোটে তারা নির্বাচিত হয়েছে।’
এদিকে, সিটি নির্বাচনের ফলাফল বাতিলের দাবিতে রাজধানীর থানায় থানায় বিক্ষোভ করেছে বিএনপি। গতকাল মঙ্গলবার পুলিশি বাধা, হামলা ও গ্রেফতার উপেক্ষা করে বিএনপি ও তার অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এ বিক্ষোভ পালন করেন। সিটি নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে এর আগে রবিবার হরতালও পালন করে দলটি।
গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি সিটি নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নতুন করে সিটি নির্বাচন দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণের ওপর আস্থা নেই বলেই ভোট ডাকাতির আশ্রয় নিয়েছে সরকার। আমরা খুব স্পষ্ট করে বলতে চাই, ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটেনি। এ নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারেনি। সুতরাং এ নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে পুনরায় নতুন নির্বাচন দিতে হবে। তাই আমরা নতুন নির্বাচনের আহ্বান জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে নিরপে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন ফলাফল ঘোষণা করতে হবে। এই সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ওপর জনগণের কোনো আস্থা নেই তা সিটি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আরো একবার প্রমাণিত প্রমাণ হয়েছে।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৬
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।