সরকারি ত্রাণ আত্মাসাৎ হয়ে যাচ্ছে- রিজভী : বাড্ডায় ত্রাণের দাবিতে মিছিল
-
রুহুল কবির রিজভী
বাংলাদেশে ক্ষমতাসীনদের আত্মসাৎ ও লুটপাটের কারণেই সারাদেশে ত্রাণ নিয়ে হাহাকার চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
আজ (মঙ্গলবার) সকালে রাজধানীতে ‘ফিউচার অব বাংলাদেশ’ নামক সংগঠনের উদ্যোগে ঘরে ঘরে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছিয়ে দেয়ার এক কর্মসূচির উদ্বোধন করতে গিয়ে তিনি এ অভিযোগ করে। রাজারবাগে ইস্টার্ন পয়েন্টের কাছে একটি বাসার সামনে এ অনুষ্ঠান হয়। সেখানে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে কয়েকজনে ত্রাণ দেন রিজভী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফিউচার অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক শওকত আজিজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাজেদ বিন হাসান, কে জি সেলিম প্রমূখ।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, আজকে সরকারি যে ত্রাণ, এই ত্রাণ আত্মাসাৎ হয়ে যাচ্ছে। কাদের দ্বারা? এই সরকারি দলের লোকদের দ্বারা। হাহাকার করছে খুলনার রেল স্টেশনের শ্রমিকরা একটু ত্রাণের জন্য। কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালের নার্সরা খাবার পাচ্ছে না। অথচ ক্ষমতাসীন দলের লোকজনদের বাড়িতে চাল বোঝাই হয়ে যাচ্ছে। কার চাল? জনগণের চাল। তাদের টাকায় কেনা চাল।
সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরে তিনি বলেন, যখন সকল মহল থেকে বলা হচ্ছে যে, সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এই মহামারী মোকাবিলা করতে হবে। তখন আমরা দেখতে পারছি যে, সরকার একগুয়েমী করছে। একতরফাভাবে কাজ করতে গিয়ে শুধু নিজের দলের লোকজনদের পেট ভরানোর কাজটা গত ১০ বছর ধরে যেভাবে করেছেন এখনও সেটাই করছে। যখন মানুষ রাস্তায় মরে পড়ে থাকছে, মানুষ একটু খাবারের জন্য হাহাকার করছে। রেল স্টেশনে, পথে-ঘাটে একটা ত্রাণের আশায় মানুষ দিনের দিন সেখানে গ্রীষ্মের প্রখর রোদ্রের মধ্যে অপেক্ষা করছে তারা ত্রাণ পাচ্ছে না। সেখানে ত্রাণ লুটপাট হয়ে যাচ্ছে। এভাবে একটা দেশ চলতে পারে না। আমরা এখনো বলছি যে, জনগণের এই দুর্দশা লাঘব করার জন্য সকলকে একসাথে এগিয়ে এসে কাজ করতে হবে।
রিজভী বলেন, আজকে যারা সরকার আছেন তাদের প্রধান দায়িত্ব এই কাজটা করার। অথচ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রী তারা নানা কথাই বলছেন যে, না ত্রাণ চুরি হচ্ছে না, চাল চুরি হচ্ছে না। আমরা ঠিক মতোই দিচ্ছি। প্রতিদিনই আপনারা গণমাধ্যম খুলে দেখবেন, শুধুমাত্র চাল চুরির ঘটনা, শুধুমাত্র ত্রাণ আত্মসাতের ঘটনা। আর ওদিকে রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে আছে একটু ত্রাণের আশায়, দুস্থরা হাহাকার করছে।
করোনা ভাইরাস সংক্রামণে সরকারের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি এখনো নেই উল্লেখ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, আমরা দেখছি, স্বাস্থ্যকর্মী যারা ডাক্তার তাদেরকে ছাটাই করা হচ্ছে। কেনো করা হচ্ছে? বিভিন্ন অজুহাত তুলে এই ছাঁটাই করা হচ্ছে। অথচ ডাক্তারদের নিরাপত্তার বিধান করছেন না, নার্সদের নিরাপত্তা বিধান করছেন না। তারা খেতে পারছেন না। আপনি আপনার একনায়কতন্ত্রের যে আচরণ, সেই আচরণটা অব্যাহত রেখেছেন। এভাবে বিশ্বব্যাপী এই মহামারীর তাণ্ডব, যে প্রাদুর্ভাব- এটা মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এখনো সময় আছে, সরকার সমন্বিত উদ্যোগ নেবেন ঐক্যবদ্ধভাবে যাতে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যায় সকলকে সচেতনতার মধ্য দিয়ে, দুস্থ মানুষের বাড়িতে গিয়ে যাতে ত্রাণ পৌঁছিয়ে দেয়া যায় সেই ব্যবস্থাটাই গ্রহণ করবেন।
এদিকে, ত্রাণের জন্য রাজধানীর বাড্ডা এলাকার লিংকরোডে রাস্তায় নেমেছেন শত শত মানুষ। ত্রাণ চেয়ে বিক্ষোভ করছেন তারা।
আজ (মঙ্গলবার) সকাল ১০টা থেকে তাদের বিক্ষোভ শুরু হয়। বেলা ১১টার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের ঘরে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করলেও কাজ হয়নি। রাস্তায় রিকশা উল্টে রেখে বিক্ষোভ করছেন তারা।
বিক্ষোভকারীরা বলছেন, পেটের ক্ষুধায় তারা রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছেন। তারা কাউন্সিলদের কাছে গেলেও ত্রাণ পাননি। মুখ দেখে দেখে ত্রাণ দেয়া হচ্ছে বলে তারা দাবি করছেন শ্রমিকরা। এই কারণে ত্রাণ দেয়ার পদ্ধতিতে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর তদারকি চেয়েছেন অনেকে। তাদের কেউ কেউ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ত্রাণ দেয়ার দাবি করেছেন।
বিক্ষোভকারীরা জানান, রাস্তায় বিক্ষোভকারীদের কেউবা বাড়ি বাড়ি কাজ করেন, কেউ রাজমিস্ত্রী, কেউ রিকশাচালক কেউবা শ্রমিক। লকডাউন হলেও তাদেরকে কেউ ত্রাণ দেননি বলে অভিযোগ করেছেন তারা।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৪
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।