ত্রিমুখী সংকটে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প: বেতনের দাবিতে আজও বিক্ষোভ
-
বকেয়া বেতনের দাবিতে নারায়ণগঞ্জের ইউনিটেক্স কটন ওয়্যার কারখানার শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করেন।
করোনা মহামারীর কারণে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের রপ্তানি কমে গেছে। টানা লকডাউনের কারণে কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। আর বেতন পরিশোধের দাবিতে শ্রমিকরা রাস্তায় নেমেছে। এমন ত্রিমুখী সংকটে পড়ে কারখানা বন্ধ করে দেয়া, লে-অফ ঘোষণা করা এবং শ্রমিক ছাটাইয়ের পথ বেছে নিয়েছে অনেক কারখানা মালিক।
সম্পূর্ণ বেসরকারি উদ্যাগে গড়ে ওঠা তৈরি পোশাক শিল্প বাংলাদেশের প্রধান বৈদেশিক মূদ্রা আয়ের খাত। তৈরি পোশাক খাতে নিয়োজিত থেকে জীবিকা অর্জন করছে প্রায় ৪০ লক্ষ শ্রমিক– যাদের বেশীরভাগই হচ্ছেন মহিলা।
করোনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এ শিল্পের জন্য সরকার সম্প্রতি পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যকেজ ঘোষণা করেছে। এ প্রণোদনা তহবিল থেকে দু’শতাংশ হারে সুদে আপদকালীন অর্থ ঋণ যোগান দেয়া হচ্ছে কারখানা মালিকদের। তবে শর্ত দেয়া হয়েছে- এ অর্থ দিয়ে শ্রমিকদের আগামী জুন পর্যন্ত তিন মাসের বেতন পরিশোধ করতে হবে।
কিন্তু, অনেক কারখানা শ্রমিকদের মার্চ মাসের বেতন এখনো পরিশোধ করেনি। এ কারণে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা গত কয়েকদিন ধরে রাজধানী ঢাকাসহ পার্শবর্তী নারায়ণগঞ্জ, সাভার, আশুলিয়া, টঙ্গি, গাজীপুর ও চট্টগ্রামে বিক্ষোভ করেছেন। আজকেও বিক্ষোভ হয়েছে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে।
তৈরি পোশাক খাতের এ সংকট প্রসঙ্গে বাংলাদেশ শ্রম অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক আবুল হোসাইন রেডিও তেহরানকে বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে পোশাক কারখানায় বিদেশি অর্ডার বন্ধ হবার অজুহাতে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করা হচ্ছে না, কারখানা লে-অফ ঘোষণা করা হচ্ছে, শ্রমিক ছাটাই করা হচ্ছে, এমনকি কোনো ধরনের ঘোষণা ছাড়াই শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ না করে কারখানা গেটে তালা লাগিয়ে দেয়া হচ্ছে। এটা শ্রমিকদের প্রতি অমানবিক আচরণ। শ্রমিকরা এটা কোনোভাবেই মেনে নেবে না।
ওদিকে, পোশাক শিল্পের সাথে সম্পর্কিত ডাইয়িং, প্রিন্টিং, এমব্রয়ডারি বা প্যাকেজিং- এসব ব্যাওয়ার্ড লিংকেজ ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক ও মালিকদের অবস্থা আরো করুণ। এমনটিই রেডিও তেহরানের কাছে জানালেন নারায়ণগঞ্জের কাজী ওয়াশিং প্লান্টের মালিক কাজী গোলাম হোসেন।
এদিকে, আজকেও বকেয়া বেতন ভাতা পরিশোধের দাবিতে আজকেও গাজীপুরে ইস্ট-ওয়েস্ট গ্রুপের নিউওয়ে ফ্যাশনস লিমিটেড পোশাক কারখানার শ্রমিকরা লকডাউনের নিয়ম ভেঙে কারখানার সামনের সড়কে বিক্ষোভ করেছে। শ্রমিকরা জানিয়েছে, তাদের তিন মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে।
মহাসড়কে দাঁড়িয়ে মাস্কে মুখ ঢাকা শ্রমিক শেফালী আক্তার চোখ মুছতে মুছতে বলেন, ‘ঘরে চাল নাই, ডাল নাই, তরকারি কিচ্ছু নাই। ছেলেটার পেট ব্যথা-ওষুধ কেনার টাকা নাই। বাসা ভাড়ার জন্য চাপ দিতাছে মালিক। দিতে পারছি না। এভাবে মরে যাওয়ার চেয়ে করোনায় মইরা যামু তাও শান্তি।’
একইভাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম দু’ঘণ্টার জন্য মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করেছেন সোনারগাঁয়ের টিপরদী এলাকার ইউসান নিট কম্পোজিট লিমিটেডের শ্রমিকরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৬
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।