দুর্যোগপূর্ণ অবস্থা ও মহামারিতে বিভক্তি কোনোভাবেই কাম্য নয়: কাদের
-
ওবায়দুল কাদের
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দেশের এই দুর্যোগপূর্ণ অবস্থা ও মহামারিতে জাতি হিসেবে আমাদের বিভক্তি কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ সময় সকলের ঐক্যের মনোভাব থাকা ভালো। এ লড়াইয়ে পরস্পর পরস্পরকে সুরক্ষা না দিলে নিজেদের সুরক্ষাই হুমকির মুখে পড়বে।
শুক্রবার নিজ বাসভবনে ব্রিফিংকালে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, করোনা ভাইরাস বৈশ্বিক সমস্যা। তাই আমাদের দেশও করোনায় আক্রান্ত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমাদের ঘরে ঘরে সচেতনতার দুর্গ গড়ে তুলতে হবে। আমরা যদি সকলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে ঘরে থাকি তাহলে আমাদের জয় হবেই ইনশাল্লাহ।
এই সংকটে চিকিৎসক, নার্স আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনী ও গণমাধ্যম এবং প্রশাসনসহ যারা মাঠে কাজ করছে তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, সবাই সচেতন হয়ে করোনা ভাইরাস মোকাবেলা করতে হবে। সবাই সচেতন হলেই এই সমস্যা থেকে থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব হবে। করোনা ভাইরাস বৈশ্বিক সমস্যা, তবে করোনা প্রার্দুভাবে ইউরোপ এবং আমেরিকার তুলনায় আমরা ভালো আছি। ঐক্যবদ্ধভাবে করোনা মোকাবেলা করতে পারলে কাল মেঘ অচিরেই কেটে যাবে ইনশাল্লাহ।
আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সকল ইউনিয়নের ত্রাণ কমিটি গঠন করে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ত্রাণ বিতরণের স্বচ্ছতায় সহযোগিতা করার জন্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আহ্বান জানাচ্ছি।
এ সময় তিনি আবারো সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ত্রাণ বিতরণে কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না। এ বিষয়ে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। দলীয় পরিচয়ে কেউ ত্রাণ নিয়ে নয়-ছয় করলে ছাড় দেয়া হবে না।
একই রকম সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন দলের অপর নেতা তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। শুক্রবার রাজধানীর মিন্টু রোডে সরকারি বাসভবনে সমসাময়িক বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেছেন, যে দলেরই হোক, ত্রাণে অনিয়ম দুর্নীতি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি জানান, করোনা ভাইরাসে সঙ্কটে দেশের খেটে খাওয়া মানুষের জীবন-জীবিকা ও অর্থনীতির জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১২ বিলিয়ন ডলার (১ লাখ হাজার কোটি টাকা) বরাদ্দ দিয়েছেন, যা দেশের মোট জিডিপির ৩.৩ শতাংশ।
এ সময় ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আপনারা দেখেছেন বিভিন্ন গণমাধ্যমে ত্রাণের জন্যে বিক্ষোভ হয়েছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। কিন্তু সরকারের কাছে গোয়েন্দা তথ্য আছে, এই বিক্ষোভগুলোর অনেকগুলোর পিছনে রাজনৈতিক ইন্ধন ছিল। লোক ভাড়া করে এনে বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ করানো হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার সকল দুস্থ মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেয়ার জন্যে বদ্ধপরিকর। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন, পুলিশ বাহিনী মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছে। এছাড়া ত্রাণের জন্যে হটলাইন খোলা হয়েছে। সেখানেও কেউ ফোন করলে ত্রাণ পৌঁছে দেয়া হবে।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/বাবুল আখতার/১৭
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।