আরও ৪৯ চিকিৎসক আক্রান্ত
বাংলাদেশে একদিনে সর্বোচ্চ ৫৪৯ জনের দেহে করোনা শনাক্ত, মৃত্যু ৩
বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫৪৯ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এটি একদিনে সর্বোচ্চ। এ নিয়ে দেশে মোট কোভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা এখন ছয় হাজার ৪৬২ জন। এছাড়া, গত একদিনে মারা গেছে তিনজন। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে ১৫৫ জন কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন।
আজ (মঙ্গলবার) কোভিড-১৯ পরিস্থিত নিয়ে আয়োজিত স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত বুলেটিনে এসব তথ্য জানান প্রতিষ্ঠানটি অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।
তিনি বলেন, নতুন করে যে তিনজন মারা গেছেন তারা তিনজনই পুরুষ এবং ঢাকার বাসিন্দা। তারা সবাই ষাটোর্ধ্ব।
ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় মোট চার হাজার ৩৩২টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৪৯ জনের মধ্যে নতুনভাবে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া গেছে। এই ২৪ ঘণ্টা সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন আটজন। এখন পর্যন্ত মোট ১৩৯ জন কোভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তি সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে গেছেন।’
২৪ ঘণ্টায় ৪৯ চিকিৎসক আক্রান্ত
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪৯ জন চিকিৎসকের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ডক্টরস ফাউন্ডেশন (বিডিএফ)।
আজ (মঙ্গলবার) সকালে এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, "বর্তমানে প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ২ জন চিকিৎসক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন।" এ নিয়ে সারাদেশে করোনাভাইরাস আক্রান্ত চিকিৎসকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৪২২ জনে।
বিডিএফ জানায়, আক্রান্তদের মধ্যে ৩০৮ চিকিৎসক ঢাকা বিভাগের। এসব চিকিৎসকদের ১৯১ জন সরকারি হাসপাতালের, ৯৭ জন বেসরকারি হাসপাতালের এবং অন্যান্য জায়গার ২০ জন রয়েছেন। এছাড়া ময়মনসিংহে ৪৬ জন, চট্টগ্রামে ১৪ জন, খুলনায় ১৩ জন,বরিশালে ১০ জন, সিলেটে ৬ জন ও রংপুর বিভাগে ৫ জন চিকিৎসক আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের বেশিরভাগই সরকারি হাসপাতালে দায়িত্বরত।
খুলনা বিভাগে আক্রান্ত ৪১ চিকিৎসক-স্বাস্থ্য কর্মী
খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় আজ পর্যন্ত ৪১ জন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী সহ মোট ১১২ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে, চারজন সুস্থ হয়েছেন এবং সাতজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বাকিরা হোম আইসোলেশনে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, খুলনা, যশোর ও কুষ্টিয়ায় পিসিআর মেশিনের মাধ্যমে করোনার নমুনা পরীক্ষা শুরু হবার পর সবকটি জেলায় এখন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। সব থেকে বেশি করোনা পজিটিভ শনাক্ত করা হয়েছে যশোর জেলায়। আর সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলায় রয়েছে মাত্র একজন করে।
অমানবিকতা তদন্তে কমিটি গঠন
ঢাকার একটি বেসরকারী হাসপাতালের স্বাস্থকর্মী লোপা মল্লিক (২১) গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় তার নিজ বাড়ীতে হোম কোয়ারেন্টাইনের নামে অমানবিক আচরণের শিকার হওয়ার ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে।
আজ সকালে কোটালীপাড়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মোহসিন উদ্দিনকে প্রধান করে তিন সদস্যের এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন- কোটালীপাড়া থানার ইন্সপেক্টর মো. জাকারিয়া ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শ্রীময়ী বাগচী। কমিটিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে
উল্লেখ্য, ঢাকার ইমপালস হাসপাতালের একজন স্বাস্থ্যকর্মী লোপা মল্লিক (২১)। করোনা পরিস্থিতির কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ছুটি দিয়ে দিলে গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) লোপা গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার লখন্ডা গ্রামের নিজ বাড়িতে আসে।
এরপর স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রশান্ত বাড়ৈর নির্দেশে এলাকাবাসী লোপার বাড়ি থেকে প্রায় ৪০০ মিটার দূরে একটি নির্জন স্থানে পুকুরের ভেতর তালপাতা দিয়ে ঝুপড়ি ঘর তৈরি করে দেয়। সেখানে তাকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে লোপা সেখানে অবস্থান করছিল।
বিষয়টি গণমাধ্যম এবং সোস্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে সর্বত্র নিন্দার ঝড় ওঠে। নড়ে চড়ে বসে প্রশাসনও। গতকাল (সোমবার) বিকেলে সেখানে ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মাহফুজুর রহমান ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সুশান্ত বৈদ্য।
তারা লোপার খোঁজ খবর নেন এবং তাকে তার নিজ বাড়িতে পৃথক একটি ঘরে কোয়ারেন্টাইনে রাখেন। সেই সাথে এ ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির আওতায় আনারও প্রতিশ্রুতি দেন ইউএনও।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/আবদুর রহমান খান/২৮
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।