বাংলাদেশে করোনায় মৃত্যু হার কমছে, এ পর্যন্ত শনাক্ত ৮ হাজার ২৩১
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) একদিনে মৃত্যুর হার কমেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। আর নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৫৭১ জন। সুস্থ হয়েছেন আরো ১৪ জন।
আজ (শুক্রবার) দুপুর আড়াইটায় মহাখালী থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। এর আগে বৃহস্পতিবার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিল ৫৬৪ জন, মৃত্যু হয় ৫ জনের। তার আগের দিন বুধবার শনাক্ত হয় ৬৪১ জন, মারা যান ৮ জন।
তিনি বলেন, ‘আমরা গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করেছি ৫ হাজার ৯৫৮টি, যা গত দিনের তুলনায় ৫ দশমিক ৯০ শতাংশ বেশি। নমুনা পরীক্ষা করেছি ৫ হাজার ৫৭৩টি, যা গত ২৪ ঘণ্টার চেয়ে ১২ দশমিক ২৫ শতাংশ বেশি। এই সংগৃহীত নমুনা থেকে শনাক্ত রোগী পেয়েছি ৫৭১ জন। এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে শনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ২৩১ জন।’
অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা জানান, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণ করেছে ২ জন। মৃতদের মধ্যে একজন পুরুষ, একজন নারী। একজন ঢাকার, একজন ঢাকার বাইরের। একজনের বয়স ৫১ থেকে ৬০, একজন ষাটোর্ধ্ব। এ পর্যন্ত মৃত্যু দাঁড়াল ১৭০ জন।’
তিনি আরও জানান, ‘হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগীদের মধ্যে ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছে ১৪ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে উঠেছে ১৭৪ জন। তবে বাড়িতে থেকে যারা চিকিৎসা নিচ্ছেন তাদের আপডেটটা আমাদের এখানে নেই।’
অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, সেন্ট্রাল পুলিশ হাসপাতাল, নিপসম ও স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের তিনটি ল্যাব করোনাভাইরাস পরীক্ষায় যুক্ত হয়েছে। এ নিয়ে মোট ৩১টি ল্যাবে কোভিড-১৯ শনাক্তের নমুনা পরীক্ষা চলছে।
কোভিড-১৯ রোগীদের প্রতি স্বাভাবিক আচরণের আহ্বান জানিয়ে ডা. নাসিমা বলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া কোনো অপরাধ নয়। যারা আক্রান্ত হচ্ছেন, তারা আর দশজন সাধারণ রোগীর মতোই একটি রোগে আক্রান্ত। তাদের প্রতি স্বাভাবিক আচরণ করতে হবে। কিন্তু আমরা অনেক জায়গা থেকেই খবর পাচ্ছি, কোভিড-১৯ আক্রান্তদের সঙ্গে সঠিক আচরণ করা হচ্ছে না। এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
উল্লেখ্য, গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয় বলে জানায় সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। আর ১৮ মার্চ প্রথম একজনের মৃত্যুর সংবাদ জানানো হয়। করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে প্রথমে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। পরে এ ছুটি ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। পরে এ ছুটির মেয়াদ ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে চতুর্থবারের মতো ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। দেশবাসীকে নিজ বাড়িতে থাকার আহ্বান জানানো হয়। পরে সেটাও বাড়ানো হয় ৫ মে পর্যন্ত।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।