বাংলাদেশে করোনায় মৃত আরও ৫, একদিনে সর্বোচ্চ ৬৮৮ জন শনাক্ত
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i79594-বাংলাদেশে_করোনায়_মৃত_আরও_৫_একদিনে_সর্বোচ্চ_৬৮৮_জন_শনাক্ত
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে ১৮২ জনের। নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৬৮৮ জন। এটি ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড। সব মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ১৪৩ জনে। 
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
মে ০৪, ২০২০ ১১:১৫ Asia/Dhaka
  • বাংলাদেশে করোনায় মৃত আরও ৫, একদিনে সর্বোচ্চ ৬৮৮ জন শনাক্ত

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে ১৮২ জনের। নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৬৮৮ জন। এটি ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড। সব মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ১৪৩ জনে। 

আজ (সোমবার) দুপুরে স্বাস্থ্য বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এ তথ্য জানান। তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল ৬ হাজার ৩১৫টি। এর মধ্যে ৬ হাজার ২৬০টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৮৮ জনের শরীরে করোনার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ১৪৩ জন। অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা আরও জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় যারা মারা গেছেন তারা সবাই পুরুষ। তিনজন ঢাকার, একজন সিলেট ও একজন ময়মনসিংহের বাসিন্দা। এসব ব্যক্তিদের তিনজন ষা‌টোর্ধ্ব, একজন পঞ্চাশোর্ধ্ব এবং একজন ত্রিশোর্ধ্ব।

অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা

স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আরও জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪৭ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে গেছেন। এ নিয়ে মোট সুস্থ হলেন ১ হাজার ২১০ জন।

তিনি বলেন, ‘আমরা নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা বাড়িয়েছি। সব মিলিয়ে এখন ৩৩টি প্রতিষ্ঠানে নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। আজ যাদের হিসাব দেওয়া হয়েছে তাদের তালিকা আমরা এসব প্রতিষ্ঠান থেকে পেয়েছি। এদের মধ্যে ৯০ জনকে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে।’

নাসিমা সুলতানা আরও জানান, সারাদেশে আইসোলেশন শয্যা রয়েছে নয় হাজার ৭৩৮টি। ঢাকার ভেতরে রয়েছে তিন হাজার ৯৪৪টি। ঢাকা সিটির বাইরে শয্যা রয়েছে পাঁচ হাজার ৭৯৪টি। আইসিইউ রয়েছে ৩৪১টি, ডায়ালাসিস ইউনিট রয়েছে ১০২টি।

আইইডিসিআর-এ নমুনা পরীক্ষা বন্ধ

মহামারি নোভেল করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) নমুনা  সংগ্রহ ও পরীক্ষা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। এখন থেকে করোনার নমুনা সংগ্রহ করবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আবুল কালাম আজাদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন আইইডিসিআর এখন থেকে বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও এর নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে গবেষণা কাজ পরিচালনা করবে। তিনি জানান,  সারা দেশে এই ভাইরাস সংক্রমণের পরিধি বেড়েছে এবং ভবিষ্যতে এটা আরও বাড়বে বলে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

অক্সিজেন সংকট

বর্তমানে যেসব হাসপাতালে করোনা চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে সেগুলোর অধিকাংশতেই কেন্দ্রীয়ভাবে অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা নেই।

এদিকে, করোনা রোগীর চিকিৎসার জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডারের চাহিদা বৃদ্ধির কারনে এর দামও বৃদ্ধি পেয়েছে দামও।

সাধারণত একটি সিলিন্ডার থেকে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা অক্সিজেন পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে একদিনেই একজন রোগীর ৬টি অক্সিজেন সিলিন্ডার প্রয়োজন। এ অবস্থায় বেসরকারি অক্সিজেন সরবরাহ প্রতিষ্ঠানগুলোকে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। 

করোনায় বন্দিমুক্তি

দেশের কারাগারগুলোতে করোনা সংক্রমণ কমাতে লঘু দন্ডে দন্ডিত প্রায় তিন হাজার  কারাবন্দিকে মুক্তি দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কয়েক ধাপে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে এসব বন্দিদের। বিশেষ বিবেচনায় মোট ২ হাজার ৮৮৪ কারাবন্দি শনিবার প্রথম ধাপে ১৭০ আর রোববার মুক্তি দেয়া হয় ৩৮৫ জনকে।

এন-৯৫ কেলেঙ্কারি

দেশে নভেল করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রাদুর্ভাবের শুরুতে বেসরকারি স্বাস্থ্য সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান জেএমআই গ্রুপ সরকারি হাসপাতালের জন্য এন-৯৫ মুদ্রিত মোড়কে নকল মাস্ক সরবরাহ করে। এ কেরেঙ্কারি ফাঁস হবার পর সরকার গঠিত তদন্ত কমিটি এ বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে গত ২৮ এপ্রিল। তবে জমা হওয়ার পর এক সপ্তাহের মধ্যেও সে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।

ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি রাইটস অ্যান্ড রেসপন্সিবিলিটিস (এফডিএসআর) জানিয়েছে নিম্ন মানের মাস্ক ও পিপিই সরবরাহের কারণেই চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আক্রান্ত হচ্ছে। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত প্রায় আটশ’ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।  

ওদিকে, নকল এন-৯৫ মাস্ক সরবরাহ বা এন-৯৫ মাস্ক কেলেঙ্কারি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষ থেকেও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি এরই মধ্যে কাজও শুরু করেছে।

গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয় বলে জানায় সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। আর ১৮ মার্চ প্রথম একজনের মৃত্যুর সংবাদ জানানো হয়। করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে প্রথমে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। পরে এ ছুটি ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। পরে এ ছুটির মেয়াদ ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে চতুর্থবারের মতো ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। দেশবাসীকে নিজ বাড়িতে থাকার আহ্বান জানানো হয়। পরে সেটাও বাড়ানো হয় ৫ মে পর্যন্ত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় আজ তা ১৬ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/আবদুর রহমান খান/৪

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।