কোভিড-১৯: বাংলাদেশে একদিনে ৭৯০ জন আক্রান্তের রেকর্ড, মৃত আরও ৩
বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত ৭৯০ জন রোগী শনাক্ত করা হয়েছে যা গত দুই মাসের মধ্যে সর্বাধিক। এ নিয়ে মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৯১৯ জনে। পাশাপাশি গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৮৬ জনে।
আজ (বুধবার) করোনাভাইরাস নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে এসব তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।
তিনি জানান, নতুন মারা যাওয়া তিনজনের মধ্যে দুজন পুরুষ ও একজন মহিলা। এদের মধ্যে দুজন ষাটোর্ধ্ব বয়সী। একজনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। আর তিনজনের মধ্যে দুজন ঢাকার ও একজন ঢাকার বাইরে।
অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল ৬ হাজার ৭৭১টি। এর মধ্যে ৬ হাজার ২৪১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।
তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৮৪ জনসহ বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন এক হাজার ৭৯৪ জন। এ সময় ৮৪ জনসহ মোট সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ৩২৭ জন।
প্রাণ গেল আরও এক পুলিশ সদস্যের
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন রঘুনাথ রায় নামের আরেক পুলিশ সদস্য। আজ বুধবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে তিনি মারা যান। এ নিয়ে করোনা আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশ পুলিশের ৬ সদস্য মৃত্যবরণ করলেন।
৪৮ বছর বয়সী রঘুনাথ সহকারি উপপরিদর্শক (এএসআই) হিসেবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট (পিওএম) দক্ষিণ বিভাগের আলফা কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, রঘুনাথ রায়ের করোনা ভাইরাস ধরা পড়ার পর তিনি রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। আজ সকাল ৮টা ২০ মিনিটে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
রঘুনাথ রায়ের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলায়। পুলিশের ব্যবস্থাপনায় রঘুনাথ রায়ের মরদেহ তার গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।
প্রতিটি জেলায় ল্যাব স্থাপনে আইনি নোটিশ
করোনাভাইরাসজনিত কোভিড-১৯ রোগ শনাক্তকরণে প্রতিটি জেলায় পিসিআর ল্যাব স্থাপনের জন্য সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে স্বাস্থ্য সচিব, অর্থ সচিবকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় এ বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
আজ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মনিরুজ্জামান লিংকন ই-মেইলযোগে জনস্বার্থে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রতিটি জেলায় পিসিআর ল্যাব স্থাপনে নোটিশ পাঠান ।
নোটিশে বলা হয়, যেহেতু করোনাভাইরাস একটি সংক্রামক ব্যাধি, তাই অধিক সংখ্যক মানুষ করোনাভাইরাসে সংক্রমিত কিনা, সেটা পরীক্ষা করা ছাড়া এই ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ করা একেবারেই অসম্ভব।
নেআটিশে আরো বলা হয়েছে, যেহেতু বর্তমানে সারা বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমিত হয়েছে এবং প্রতিটি জেলা শহরে পিসিআর ল্যাব স্থাপন না হওয়ায় প্রতিটি জেলায় তাদের নমুনা সংগ্রহ করে অন্য জেলায় পাঠানো হচ্ছে, যে রিপোর্ট আসতে অনেক ক্ষেত্রে ৭ থেকে ১০ দিন সময় লেগে যাচ্ছে, উক্ত সময়ের মধ্যে কোনো ব্যক্তি সংক্রমিত কিনা তা চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছে না। ইতোমধ্যে যদি কেউ সংক্রমিত হয়ে থাকে, তাহলে তার ক্ষেত্রে আইসোলেশন বা তার চিকিৎসার সুযোগ তৈরি হচ্ছে না, যার ফলে এই ভাইরাস সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয় বলে জানায় সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। আর ১৮ মার্চ প্রথম একজনের মৃত্যুর সংবাদ জানানো হয়। করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে প্রথমে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। পরে এ ছুটি ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। পরে এ ছুটির মেয়াদ ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে চতুর্থবারের মতো ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। দেশবাসীকে নিজ বাড়িতে থাকার আহ্বান জানানো হয়। পরে সেটাও বাড়ানো হয় ৫ মে পর্যন্ত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় তা ১৬ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/আবদুর রহমান খান/৬
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।