করোনাভাইরাস: বাংলাদেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৫০, নতুন শনাক্ত ৯৬৯
বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯৬৯ জন করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৬৬০ জন। এছাড়া গত একদিনে করোনা আক্রান্ত আরও ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫০।
আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের কোভিড-১৯ সংক্রান্ত নিয়মিত বুলেটিনে সংস্থাটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এসব তথ্য তুলে ধরেন।
অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, ৩৮টি ল্যাবে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল ৬ হাজার ৮৪৫টি। নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৬ হাজার ৭৭৩টি। এ পর্যন্ত সর্বমোট ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬৩৮ টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।
তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরও ২৪৫ জন। সব মিলিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন তিন হাজার ১৪৭ জন।
করতালির অভিনন্দন জানাবে নাগরিক সমাজ
এদিকে, করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে ফ্রন্টলাইন যোদ্ধা হিসেবে যারা কাজ করছেন এবং এরইমধ্যে যারা প্রাণ হারিয়েছেন সেসব শহীদদের প্রতি সম্মান জানাতে রাজধানীতে আজ সন্ধ্যায় টানা এক মিনিট করতালি দেয়ার কর্মসূচি নেয়া হয়েছে।
রাজধানীর মতিঝিল সরকারি স্কুলের একদল প্রাক্তন শিক্ষার্থী, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন এবং ফেসবুক ব্যবহারকারী গ্রুপ যৌথভাবে এ কর্মসূচির উদ্যোগ নিয়েছে।
করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে ডাক্তার, নার্স, পুলিশ, সেনাবাহিনী, র্যাব, প্রশাসন, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ জীবনবাজি রেখে কাজ করে যাচ্ছেন। সম্মুখসারির যোদ্ধা এবং শহীদদের সম্মান জানাতে তাদের এ কর্মসূচি বলে জানান আয়োজকরা।
আয়োজকদের অন্যতম সাবেক অতিরিক্ত সচিব ইকরাম আহমেদ জানিয়েছেন, আমরা মতিঝিল সরকারি স্কুলের একদল প্রাক্তন শিক্ষার্থী, 'প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন' এবং ফেসবুক ব্যবহারকারীরা এ কর্মসূচির আয়োজন করেছি। এর মধ্যদিয়ে আমরা আমাদের জীবন বাঁচাতে যারা কাজ করে যাচ্ছি তাদের প্রতি ধন্যবাদ-কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে যাচ্ছি
আজ সন্ধ্যা সাতটায়- 'আমরাও জানি মানুষকে সম্মান দেখাতে, আমরাই বাংলাদেশ' ব্যানারে এই কর্মসূচির পালন করা হবে।
তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এ কর্মসূচিতে দেশের সর্বস্তরের মানুষ যে যেখানে থাকবেন, সেখান থেকেই করোনায় সম্মুখ সারির যোদ্ধাদের অবদানের প্রতি এক মিনিট অবিরাম করতালি দিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে। পরবর্তী মঙ্গলবার অর্থাৎ ১৯শে মে তেও একই কর্মসূচি পালন করা হবে।
বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। আর ১৮ মার্চ প্রথম একজনের মৃত্যুর সংবাদ জানানো হয়।
করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে প্রথমে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। পরে এ ছুটি ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। পরে এ ছুটির মেয়াদ ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে চতুর্থবারের মতো ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। দেশবাসীকে নিজ বাড়িতে থাকার আহ্বান জানানো হয়। পরে সেটাও বাড়ানো হয় ৫ মে পর্যন্ত। পরে পঞ্চমবারের মতো করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে ১৬ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার।
ছুটির সময়ে অফিস-আদালত থেকে গণপরিবহন, সব বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে কাঁচাবাজার, খাবার, ওষুধের দোকান, হাসপাতাল, জরুরি সেবা এই বন্ধের বাইরে থাকছে। জনগণকে ঘরে রাখার জন্য মোতায়েন রয়েছে সশস্ত্র বাহিনীও।
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/আবদুর রহমান খান/১২
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।