'করোনায় ইউরোপ-আমেরিকার তুলনায় বাংলাদেশ ভালো': স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দাবি ও বাস্তবতা
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক আবারও দাবি করেছেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের দিক দিয়ে ইউরোপ-আমেরিকার তুলনায় বাংলাদেশ অনেক ভালো আছে। আজ (বুধবার) রাজধানীতে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সদ্য নিযুক্ত দুই হাজার চিকিৎসকের যোগদান উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি করেন।
মন্ত্রী বলেন,‘সারা বিশ্বে কোভিড-১৯ বিভিন্ন পর্যায়ে হানা দিয়েছে। ইউরোপ-আমেরিকায় আপনারা দেখেছেন কী অবস্থা। সেই তুলনায় বাংলাদেশ অনেক ভালো আছে।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এমন আত্মতৃপ্ত অভিব্যক্তি প্রকাশ পেয়েছে এমন একটি দিনে যেদিন বাংলাদেশে করোনা রোগে মৃত্যু ও শনাক্তের সংখ্যা এযাবতকালের সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
আজ (বুধবার) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের কোভিড-১৯ সংক্রান্ত নিয়মিত বুলেটিনে সংস্থাটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, এ পর্যন্ত সর্বমোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৫৩৮টি। আর গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল ৭ হাজার ৬৬২টি। আগের দিনের কিছু নিয়ে সর্বমোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৭ হাজার ৯০০টি। এর মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ ১ হাজার ১৬২ জনের শরীরে কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৮২২ জন। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত আরও ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এটিও যেকোনো সময়ে করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যু। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬৯।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞগণ মনে করেন, বাংলাদেশে মহামারি করোনার প্রকোপ যেখানে সামাজিক সংক্রমণ (কমিউনিটি ট্রান্সমিশন)-এর স্তরে পৌঁছে গেছে এবং প্রতিদিন সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে সেখানে আমাদের পক্ষে আত্মসন্তুষ্ট হবার কোন সুযোগ নেই।
দেশের সকল জেলায় রোগের সংক্রমণ ধরা পড়লেও আজ পর্যন্ত সব জেলায় নমুনা পরীক্ষার ল্যাব স্খাপন করা সম্ভব হয় নি। এর মধ্যেই দেখা যাচ্ছে নমুনা পরীক্ষার কেন্দ্র বাড়ার সাথে সাথে বেশি নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে আর বেশি রোগী শনাক্ত হচ্ছে।
এ অবস্থায় আক্রান্ত ব্যক্তির পরিবারের ঘনিষ্ঠজন এবং কর্মস্থলে ঘনিষ্ঠ সহকর্মীদের- সবারই নমুনা পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)-এর সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডাক্তার মোস্তাক আহমেদ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ মুহূর্তে লকডাইন শিথিল করে সবকিছু খূলে দেবার ফলে মানুষ সামাজিক দূরত্ব বা সুরক্ষা ব্যবস্থার তোয়াক্কা না করে যেভাবে রাস্তা-ঘাট, বাজার বা কারখানায় ভীড় করছে তাতে করেনা মহামারী ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৩
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।