শীতকালে বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ বাড়বে, বর্জ্য পানিতে কোভিড-১৯ শনাক্ত
আগামী শীত মৌসুমে বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ বাড়বে বলে বারংবার সতর্কবাণী উচ্চারণ করছেন রোগতত্ত্ব ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞগণ। সরকারের নীতি নির্ধারক মহল থেকেও এ ব্যাপারে জনগণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে ইংল্যান্ডের কিংস কলেজের এন্টি-মাইক্রোবিয়াল বিভাগের বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত গবেষক অধ্যাপক ড. মিরাজ রহমান ব্রিটেনে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশি গণমাধ্যমের কাছে এমন আশঙ্কাই ব্যক্ত করেছেন।
বর্জ্য পানিতে করোনা ভাইরাস শনাক্ত
এদিকে বাংলাদেশে বর্জ্য পানিতে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। সম্প্রতি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেসরকারি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক বর্জ্যপানি পরীক্ষা করে করোনার উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন।
বর্জ্য পানিতে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি নির্ণয়ে বাংলাদেশে পরিচালিত প্রথম এ ধরনের একটি গবেষণায় নোয়াখালীর শহীদ ভুলু স্টেডিয়ামের কোভিড-১৯ আইসোলেন সেন্টারের নর্দমা, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ও শৌচাগারের সঞ্চালন লাইন থেকে গবেষক দল ১০ জুলাই থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত মোট ১৬ বার পানির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা চালায়।
এভাবে সংগ্রহ করা বর্জ্য পানি একটি সেন্ট্রিফিউজার মেশিনের (যন্ত্রচালিত ছাঁকনি) সাহায্যে ছেঁকে ভাসমান ময়লা আলাদা করে পরে সে পানি আরটিপিসিআর পদ্ধতি ব্যবহার পরীক্ষা করে করোনা ভাইরাস শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন গবেষকেরা।

গবেষণার নেতৃত্ব প্রদানকারী বিজ্ঞানী নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ফিরোজ আহমেদ জানিয়েছেন, ১৬ বার পানির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে প্রতিবারই সংগৃহীত নমুনায় করোনাভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।
এ গবেষণার সঙ্গে যুক্ত নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক মো. জাকারিয়া বলেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ যাবৎ বর্জ্য পানিতে করোনার উপস্থিতি নিয়ে যেসব সমীক্ষা হয়েছে, তার সবই হয়েছে শহরের বিভিন্ন এলাকার পয়ঃনিষ্কাশনের জায়গা থেকে পানি সংগ্রহ করে। নোয়াখালীর গবেষণা হয়েছে সুনির্দিষ্টভাবে কোভিড-১৯ রোগীদের আইসোলেশন সেন্টারের কাছে। সেদিক থেকে গবেষণাটি সুনির্দিষ্ট।
এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও করোনা নিয়ে গঠিত সরকারি জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেছেন, কোনো এলাকায় কোভিড-১৯ পজিটিভ আছে কি না, তা নির্ণয় করতে এ ধরনের পরিবেশগত পরীক্ষা খুব দরকার। এভাবে বর্জ্যে যদি করোনাভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত করা যায়, তবে ভবিষ্যৎ ঝুঁকি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হয়।
সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) এবং আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকার ৯ শতাংশ মানুষ করোনায় আক্রান্ত। জনস্বাস্থ্যবিদেরা বলছেন, উপসর্গহীন বহু মানুষ রাজধানীসহ সারা দেশে আছে।
কোনো একটি এলাকায় উপসর্গহীন মানুষের উপস্থিতি নির্ণয় করতে বর্জ্য পানির পরীক্ষা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করেন জনস্বাস্থ্যবিদগণ। কোনো এলাকায় স্বাভাবিক পরীক্ষায় করোনা নির্ণয় সম্ভব না হলে বর্জ্য পানির পরীক্ষা কোনো এলাকার করোনার উপস্থিতির প্রমাণ দিতে পারে। নোয়াখালীতে বর্জ্য পানি পরীক্ষার মাধ্যমে সেটা প্রমাণিত হয়েছে।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৮
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।