বাংলাদেশে রথ দেখা আর কলা বেচা দুই'ই হলো নরেন্দ্র মোদির: রাজনীতিবিদের প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দুই দিনের ব্যস্ত সফর শেষে দেশে ফিরে গেছেন।
করোনা মহামারি শুরুর পর এটাই ছিল মোদির প্রথম বিদেশ সফর। তার সফরের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ইসলামি দলগুলো,বামপন্থি জোট, প্রগতিতিশীল ছাত্র জোট এবং সাধারণ ছাত্র-যুব অধিকার পরিষদ বিক্ষোভ জানাতে গিয়ে হামলা, সংঘর্ষ,গুলি, টিয়ারগ্যাস এবং পুলিশি মামলার শিকার হয়েছে। গতকাল চট্টগ্রামের হাটাহাজারিতে প্রতিবাদ বিক্ষোভ করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে অন্তত চারজন নিহত হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার পুলিশের হামলায় নিহত ও আহত হয় মুসল্লিরা। এর প্রতিবাদে আজ শনিবার সারাদেশে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ এবং আগামীকাল রোববার সকাল-সন্ধ্যা সর্বাত্মক শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে হরতাল কর্মসূচি পালন করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশে এবং ভারতে যখন করোনা সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী,যখন বাংলাদেশে তার সফর নিয়ে এত বিক্ষোভ তখন ভারতের বিজেপি সরকার প্রধান নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের একটি নেপথ্য কারণ তার দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি।
এ প্রসঙ্গে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন রেডিও তেহরানকে বলেন,বাংলাদেশের সীমান্তের ওপারে পশ্চিমবাংলায় আজ শুরু হয়েছে রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট। সেখানকার হিন্দুদের প্রভাবিত করার একটা চেষ্টা লক্ষ্য করা গেছে মোদির বাংলাদেশ সফরের মধ্যে।
সফরের দ্বিতীয় দিনে আজ শনিবার সকালে সীমান্ত জেলা সাতক্ষীরার শ্যামনগরে যশোরেশ্বরী কালী মন্দির পরিদর্শন এবং সেখানে প্রার্থনায় অংশ নিয়েছেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী। সেখানে কালীদেবির চরণে পূজা অর্পন করেছেন তিনি।
তার আগমনকে কেন্দ্র করে শ্যামনগরে প্রস্তুত করা হয়েছিল তিনটি হেলিপ্যাড। কঠোর নিরাপত্তার মাঝে আজ সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে তাঁকে বহনকারী হেলিকপ্টার ঈশ্বরীপুরের হেলিপ্যাডে অবতরণ করে। সেখান থেকে তিনি যশোরেশ্বরী দেবির মন্দিরে যান।
শ্যামনগর থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সকাল সোয়া দশটা নাগাদ টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু সমাধি সৌধ কমপ্লেক্সে পৌঁছান। তিনি সেখানে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে গিয়ে শ্রদ্ধা জানান।এর আগেই মোদীকে অভ্যর্থনা জানাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া পৌঁছান।
এ সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু ভবনের পাশে একটি বকুল ফলের গাছে চারা রোপন করেন । এর পরে তিনি পার্শ্ববর্তী কাশিয়ানী উপজেলার ওড়াকান্দি ঠাকুর বাড়ীতে যান। সেখানে তিনি হরিচাঁদ ঠাকুর ও গুরুচাঁদ ঠাকুরের মন্দিরে পূজা অর্চনা করেন এবং মতুয়া সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
ভরতের গণমাধ্যামের খবর থেকে জানা যায় পশ্চিমবাংলায় মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রায় আড়াই লক্ষ ভোটার রয়েছে। এ ছড়া বাংলাদেশ থেকে যে-সব হিন্দু ভারতে আভিবাসী হয়েছে তারাও মোদির বাংলাদেশের হিন্দুদের প্রতি এমন ঘনিষ্ঠতা প্রদর্শন বিশেষ করে এ সময় মন্দিরে গিয়ে পূজা আর্চনায় হয়তোবা সহানুভূতিশীল হতে পারে।
সাতক্ষীরা এবং গোপালগঞ্জে পূজা অর্চনা শেষে নরেন্দ্র মোদি আজ দুপুরে ঢাকায় ফিরে আসেন। বিকেলে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসেন। শীর্ষ বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে পাঁচটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। এ ছাড়া দুই নেতা সাতটি উন্নয়ন প্রকল্পও উদ্বোধান করেন।
সফরের শেষ কর্মসূচি হিসেবে আজ সন্ধ্যায় নরেন্দ্র মোদি বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এরপর তিনি আজ রাত সাড়ে নয়টায় বিশেষ একটি ফ্লাইটে নয়াদিল্লির পথে রওনা হন। #
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/গাজী আবদুর রশীদ/২৭