বাংলাদেশে বাড়ছে করোনাভাইরাস: স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে অনুসরণের পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের
বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের উর্দ্ধগতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকলকে স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন। আজ গনভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে আওয়ামী লিগের কেন্দ্রীয় অফিসে অনুষ্ঠিত স্বাধীনতা দিবসের আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী এ পরামর্শ দেন।
গত এক সপ্তাহে দেশে করোনা সংক্রমণের হার দশ শতাংশের বেশি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসেব অনুসারে করোনা সংক্রমণে শুক্রবার ৩৯ জন্মের মৃত্যু হয়েছে; যা গত তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ।
এদিকে স্বাস্থ্য গবেষকগণ জানিয়েছে, দেশে সাড়ে ৪ হাজারেরও বেশি রকমের করোনার সন্ধান মিলেছে। দেশে এরই মধ্যে ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে প্রায় তিন শতাধিক জিনোম সিকোয়েন্স জমা পড়েছে। এগুলো নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে একদল স্বেচ্ছাসেবী গবেষক এ তথ্য জানতে পেরেছেন।
বিভিন্ন গবেষণার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা গেছে, শুধু বাংলাদেশেই সাড়ে চার হাজারেরও বেশিবার ভোল পাল্টেছে করোনা ভাইরাস। এর মধ্যে অধিকাংশই বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ভ্যারিয়েন্টের সঙ্গে মিল পাওয়া গেলেও ৩৪টি একদমই স্বতন্ত্র। এর কারণ হিসেবে বলছেন, এদেশের আবহাওয়া, পরিবেশ, বায়ুদূষণসহ নানা ইস্যু।
তবে এর সঙ্গে দেশে চলমান দ্বিতীয় ঢেউয়ের কোন মিল আছে কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিন্ত নন তারা। তাছাড়া টিকা নেয়ার পর এন্টিবডি তৈরিতে এর ভূমিকা আছে কিনা সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার বলে মনে করেন তারা।
এ প্রসঙ্গে ইনস্টিটিউট অব এপিডেমিওলজি, ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চের (আইইডিসিআর) অন্যতম পরামর্শক ডা. মুশতাক হোসেন জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে। তবে এটা শুধু আমাদের দেশ নয়, বিশ্বের অনেক দেশেই বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী বিশ্বের ছয়টি অঞ্চলে সংক্রমণ আগের তুলনায় ১৫ ভাগ বেড়েছে। বিশ্বজুড়ে টিকা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার একটি কারণ, হয়তো টিকা নেওয়ার পর অনেকেই নিজেকে নিরাপদ ভাবতে শুরু করেছেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা বাদ দিয়েছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে সংক্রমণ ৫ ভাগের নিচে নেমে এসেছিল। মৃত্যুও কমে এসেছিল। বাংলাদেশে টিকা কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর আমরা দেখছি, পারিবারিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে আমাদের অংশগ্রহণ বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে গরম চলে এসেছে। ঘরে বা বদ্ধ রুমে যখন আমরা মিলিত হচ্ছি, তখন ফ্যান বা এসি ছাড়তে হচ্ছে। ঘরের বাতাস যেহেতু ঘরের মধ্যেই চলাচল করছে, তাই সংক্রমণের মাত্রাও বেড়ে যাচ্ছে। টিকা নেওয়ার কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে শিথিলতা, সামাজিক ও পারিবারিক জমায়েত বেড়ে যাওয়া এবং গরমে বদ্ধ রুমে ফ্যান এসি চালানোর কারণে সংক্রমণ বেড়েছে বলে তিনি ধারনা করছেন।
মুশতাক হোসেন আর বলে, এখনো আমাদের কাছে এমন কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ নেই যাতে করে বলা যায়, করোনাভাইরাসের নতুন কোন ধরনের কারণে সংক্রমণ বেড়েছে। আমাদের দেশে জানুয়ারি মাসে যুক্তরাজ্যের ধরনটি পাওয়া গেছে। এরপর এমন কোনো অস্বাভাবিক কিছু চিহ্নিত হয়নি, যাতে বলা যাবে এই ধরন সংক্রমণ বৃদ্ধির জন্য দায়ী।
মুশতাক হোসেন জানান, সংক্রমণের হার যে বাড়তে পারে, সেই ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের তরফে সতর্কতা ছিল। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে যে ধরনের উদ্যোগ প্রয়োজন, সেখানে শিথিলতা দেখা দিলে সংক্রমণ বাড়বে, তা সবারই জানা ছিল। আমরা সব সময় বলে আসছি যে অসতর্ক থাকলে সংক্রমণ বেড়ে যেতে পারে।
মুশতাক হোসেন পরামর্শ দেন, নাগরিকদের স্বাস্থ্যবিধি মানাতে উদ্বুদ্ধ করা ও সচেতনতা সৃষ্টির কাজটি করতে হবে। সচেতনতা সৃষ্টির বিভিন্ন উদ্যোগ নিতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকাও হতে হবে সচেতনতামূলক। দৃষ্টান্তমূলক হিসেবে কিছু ক্ষেত্রে শাস্তি দেওয়া যেতে পারে। তবে এসময় সবার মাস্ক পরা নিশ্চিত করাটা জরুরি। #
পার্সটুডে/ আব্দুর রহমান খান/ বাবুল আখতার /২৮
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।