বইমেলা ও সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধ করার সুপারিশ
করোনা বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশে স্থানীয় নির্বাচন ও সংসদের উপনির্বাচন স্থগিত
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ার প্রেক্ষিতে দেশের ১৯ জেলার ৩৭১ ইউনিয়ন পরিষদ প্রথম ধাপে ও ১১ পৌরসভার ষষ্ঠ ধাপে নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
এছাড়া লক্ষ্মীপুর-২ আসনের উপনির্বাচনও স্থগিত করা হয়েছে। আগামী ১১ এপ্রিল এই সব নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল।
বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) নির্বাচন ভবনে কমিশনের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ।
তিনি বলেন, ‘আগামী ১১ এপ্রিল ৩৭১ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়াও ৬ষ্ঠ ধাপে ১১ পৌরসভার নির্বাচন, চিলমারী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের শূন্যপদে উপনির্বাচন এবং সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের ১১নং ওয়ার্ডের শূন্যপদে নির্বাচনও স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এসব নির্বাচন স্থগিত থাকবে। তবে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সংবিধানের ১২৩(৪) অনুযায়ী দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। তবে সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনের বিষয়ে পরবর্তীতে জানানো হবে।’
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় লকডাউন
দেশে করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় ৫ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় লকডাউন রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আমির হোসেন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব কার্যক্রম সশরীরে চলছে তা আগামী সোমবার (৫ এপ্রিল) থেকে অনলাইনে চলবে। অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রমই সেদিন থেকে অনলাইনে চলবে। অফিস বন্ধ থাকায় শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের জন্য পরিবহন ব্যবস্থাও বন্ধ থাকবে।
তিনি আরও বলেন, লকডাউন চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি সেবাসমূহ চালু থাকবে। এছাড়া ক্যাম্পাসে প্রবেশাধিকার সীমিত থাকার পাশাপাশি জরুরি সেবায় নিয়োজিতদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।’
বইমেলা ও সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধ করার সুপারিশ
এদিকে, করোনাভাইরাস সংক্রান্ত ‘জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি’ দেশে ঊর্ধ্বমূখী সংক্রমণ প্রতিরোধে পাঁচ দফা সুপারিশ করেছে। এতে সামাজিক অনুষ্ঠান ও বইমেলা বন্ধ এবং হাসপাতালগুলোতে করোনা ইউনিটে শয্যা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) কমিটির সভায় সর্বসন্মতিক্রমে এ সুপারিশ প্রণয়ন ও সরকারকে এর কার্য়কর বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।
কমিটির সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সম্প্রতি করোনা সংক্রমণ রোধে জারিকৃত ১৮ দফা নির্দেশনা জারিকে স্বাগত ও ধন্যবাদ জানিয়ে ১৮ দফা কর্মসূচি বা প্রস্তুতি বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রয়োজন।
করোনাভাইরাস সংক্রান্ত ‘জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি সুপারিশ করেছে যে, সংক্রমণ প্রতিরোধে অবিলম্বে সামাজিক অনুষ্ঠান, বিনোদনকেন্দ্র, বইমেলা ও অন্যান্য মেলা বন্ধ করা দরকার। পরিবহনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, মাস্ক পরা সম্পর্কে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এসব নির্দেশনা যাতে পালন করা হয়, সেজন্য কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠাগুলোতে স্বাস্থ্য বিধিমানার ব্যাপারে ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে দিকনির্দেশনা নেয়া যেতে পারে।
স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে সুপারিশ করা হয়েছে যে, রাজধানীসহ দেশের হাসপাতালগুলোতে কোভিড-১৯ রোগীর শয্যা সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন। আইসিইউতেও শয্যা বাড়ানো দরকার। ঢাকার বাইরে মেডিকেল কলেজগুলোর সক্ষমতা বাড়িয়ে সেখানে এলাকার রোগীর চিকিৎসা করা দরকার।
তাছাড়া, কোভিড-১৯ এর জন্য নমুনা পরীক্ষা করতে আসা মানুষ যাতে সহজে সেবা পায়, তার ব্যবস্থা করা দরকার। আগামী দিনগুলোতে করোনা নমুনা পরীক্ষার চাহিদা বাড়তে পারে, সেটি মাথায় রেখে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি প্রয়োজন।#
ARK-1