করোনার ভয়াবহতায় ভারতের সাথে সীমান্ত বন্ধ রাখার দাবি বিএনপির
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i90608-করোনার_ভয়াবহতায়_ভারতের_সাথে_সীমান্ত_বন্ধ_রাখার_দাবি_বিএনপির
প্রতিবেশী দেশ ভারতে করোনার সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ নেওয়ায় সেদেশের সাথে বাংলাদেশের সবগুলো স্থলবন্দর বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছে বিএনপি। আজ (শনিবার) দুপুরে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায় দলটি।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
এপ্রিল ২৪, ২০২১ ১৩:২৮ Asia/Dhaka

প্রতিবেশী দেশ ভারতে করোনার সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ নেওয়ায় সেদেশের সাথে বাংলাদেশের সবগুলো স্থলবন্দর বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছে বিএনপি। আজ (শনিবার) দুপুরে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায় দলটি।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ইতোমধ্যে বিশ্বে সংক্রমণের হারে সবার ঊর্ধ্বে উঠে গেছে ভারত।  দেশটিতে সংক্রমণ পরিস্থিতি মারাত্মক পর্যায়ে চলে গেছে। সীমান্ত সংলগ্ন পশ্চিমবাংলায় সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি হয়েছে। তিনি মনে করেন- এ অবস্থায় দু’দেশের মাঝে স্থলপথে যাতায়াতের সীমান্তগুলো আপাততঃ বন্ধ রাখা দরকার।

সরকারের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রথম থেকেই সরকার করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় একটা গাছাড়া ভাব নিয়ে এগিয়েছে। তারা দলীয় রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে ব্যস্ত থেকেছে, করোনাকে গুরুত্ব দেয়নি। রাজনৈতিক ওই সমস্ত সিদ্ধান্তগুলো আজকে আমাদের পরিস্থিতিকে ভয়ঙ্কর করে তুলছে।

এ ছাড়া, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ বিভাগের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. বে-নজীর আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশের জন্য বড় ঝুঁকি হতে যাচ্ছে দুটোভাবে। একটা হলো ভারতে যে অসংখ্য সংক্রমণ হচ্ছে সেখান থেকে এ সংক্রমণটা আমাদের দেশে আসতে পারে। যেহেতু ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ অনেক বেশি। লাখ লাখ মানুষ যায় ভারতে। এটা হচ্ছে বড় ঝুঁকি।       

এই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে বাংলাদেশকে। এ ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে সীমান্ত আপাতত বন্ধ রাখার পরামর্শ তার। যদি তা সম্ভব না হয় সেক্ষেত্রে ভারত থেকে বাংলাদেশে আসার ক্ষেত্রে  ডাবল ডোজ টিকার সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক করার তাগিদ দেন তিনি।

নাজমুল হাসান পাপন

অনিশ্চয়তার মুখে টিকাদান কর্মসূচি

এদিকে, বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের টিকাদান কর্মসূচি পুরোপুরি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে। সরকার যথাযথভাবে করোনা টিকা সংগ্রহ করতে না পারলে বহু মানুষ মৃত্যু ঝুঁকিতে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞগণ।

এ অবস্থায় একক দেশ হিসেবে ভারত থেকে টিকা আমদানিকারক বেসরকারি প্রলতিষ্ঠান বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নাজমুল হাসান পাপন আজ বলেছেন, 'আমরা সেরাম ইনস্টিটিউটকে টিকা পেতে অগ্রিম টাকা দিয়েছি। সুতরাং আমাদেরকে চুক্তিমাফিক টিকা সরবরাহ করতে হবে।'

শনিবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে করোনার দ্বিতীয় ডোজের টিকা নেওয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের আরও  বলেন, ভারত যে বাংলাদেশের বন্ধু, সেটা এখন বিবেচনা করার সময় এসেছে। মিষ্টি কথায় সব চলবে না। ন্যায্য পাওনা বুঝিয়ে দিতে হবে। সরকার অগ্রিম যে টাকা দিয়েছে, সে অনুযায়ী টিকা দেবে না, তা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারের স্পষ্ট ভাষায় বলা উচিত, দেড় কোটি ভ্যাকসিনের জন্য অগ্রিম টাকা দেওয়া হয়েছে। সেটা আটকানোর কোনো অধিকার সেরামের নেই।'

পাপন জানান, 'সেরাম ইনস্টিটিউটের সাথে চুক্তি অনুযায়ী দেড় কোটি ডোজ টিকা এতদিনে হাতে পাওয়ার কথা। কিন্তু  এসেছে  মাত্র ৭০ লাখ। বাকি ৮০ লাখ ডোজের জন্য সরকারের উচিত সেরামকে চাপ দেওয়া। না হলে দ্বিতিয় ডোজ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।' 

টিকার বিকল্প উৎস সন্ধানে সরকার 

ভারতের করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় টিকা পেতে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, ‘অ্যাস্ট্রাজেনেকার পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকে করোনা ভাইরাসের টিকা পেতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।’

আজ (শনিবার) পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংবাদমাধ্যমকে জানান, সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে প্রতিশ্রুত ভ্যাকসিন পেতে সার্বক্ষণিকভাবে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। পুরো ভারতে করোনা পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় ওখান থেকে ভ্যাকসিন পেতে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন জানান, রাশিয়ার ভ্যাকসিন স্পুটনিক-৫ দেশেই উৎপাদনের জন্য মস্কো-ঢাকা সম্মত হয়েছে। চলছে চীনা ভ্যাকসিন আনার আলাপ-আলোচনাও।

কূটনৈতিক আশ্বাস

এদিকে, ভারতে নিজেদের ভ্যাকসিন সংকট থাকলেও বাংলাদেশে সরবরাহ বন্ধ থাকবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী। দুই দেশের বন্ধজুত্বপুর্ণ সম্পর্কের কারণেই এই সরবরাহ অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন ভারতীয় এই কূটনীতিবিদ।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২৪

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।