বাংলাদেশে টিকা তৈরির জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা চাইলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী: বিশ্লেষক প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশে করোনা টিকা উৎপাদনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সহায়তা চেয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগ নিয়ে আয়োজিত এক সম্মেলনে তিনি এই সহায়তা চান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) জানিয়েছে, করোনা মহামারি প্রতিরোধে সহযোগিতা ও উত্তরণ নিয়ে এশিয়া প্যাসিফিক বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগে উচ্চ পর্যায়ের এক ভার্চ্যুয়াল সম্মেলনে যোগ দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। এ আহবান জানান। চীনা উদ্যোগে আয়োজিত এই সম্মেলনে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যোগ দেন। এতে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং আই সভাপতিত্ব করেন।
সম্মেলনে করোনা মহামারি প্রতিরোধে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ৫ দফা প্রস্তাব পেশ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মতো দেশ, যেসব দেশের টিকা উৎপাদনে সক্ষমতা আছে, সেসব দেশকে টিকা উৎপাদনে সহায়তা দিন। করোনা নিয়ে তথ্য আদান-প্রদান, করোনা প্রতিরোধে যৌথ উদ্যোগ ও সমন্বয়, টিকাকে জনগণের সম্পত্তি ও কোভ্যাক্স উদ্যোগকে আরো শক্তিশালী করতে প্রস্তাব দেন ড. মোমেন।
সমালোচকদের সমালোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী
এদিকে বাংলাদেশে টিকা সঙ্কট নিয়ে যারা সমালোচনা করেছেন তাদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল তার দল আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালী যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে করোনা টিকে পেয়েছেন, তারাই এখন সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা করছেন, এটা দুখ:জনক। এ ছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদসুজ্জামান খান বলেছেন, করোনা সঙ্কট মোকাবেলায় লকডাউন কার্যকর করতে কেবল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীই যথেষ্ট নয়। এ জন্য জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে রাজনৈতিক দল সহ সমাজের বিশিষ্টজনদেরও এগিয়ে আসতে হবে।
আরো একটি চীনা টিকার পরীক্ষায় অনুমোদন
চীনের নতুন একটি টিকার মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল (বিএমআরসি)। টিকাটি উদ্ভাবন করেছে চীনের ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল বায়োলজি অব দ্য চায়নিজ একাডেমি অব মে ডিকেল সায়েন্স। ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সীদের দেহে টিকাটির পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা যাবে। দেশে এই টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ বা ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরিচালনার কাজ করছে আইসিডিডিআর,বি।
বিএমআরসির পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. রুহুল আমিন বলেন, আইসিডিডিআর,বি এই টিকার তৃতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য প্রটোকল জমা দিয়েছিল। সেই অনুযায়ী তাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের ধাপ পেরিয়ে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত চীনের সিনোফার্ম ও সিনোভ্যাকের টিকা, অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ড টিকা, রাশিয়ার স্পুটনিক-ভি টিকা, যুক্তরাষ্ট্রের ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকা এবং জনসনের টিকা এরই মধ্যে বাংলাদেশে ব্যবহারের অনুমোদন পেয়েছে।#
পার্সটুডে/ আব্দুর রহমান খান/ বাবুল আখতার/২৩
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।