ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণকারীদের কঠোর জবাব দেওয়া হবে
https://parstoday.ir/bn/news/event-i154020-ভবিষ্যতে_ইরানের_বিরুদ্ধে_আক্রমণকারীদের_কঠোর_জবাব_দেওয়া_হবে
ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসনের বিষয়ে প্রতিপক্ষদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি'র একজন সিনিয়র কমান্ডার।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
নভেম্বর ১৪, ২০২৫ ০৭:৫৩ Asia/Dhaka
  • আইআরজিসি এরোস্পেস ফোর্সের প্রধান কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইয়্যেদ মাজিদ মুসাভি
    আইআরজিসি এরোস্পেস ফোর্সের প্রধান কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইয়্যেদ মাজিদ মুসাভি

ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসনের বিষয়ে প্রতিপক্ষদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি'র একজন সিনিয়র কমান্ডার।

আইআরজিসি এরোস্পেস ফোর্সের প্রধান কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইয়্যেদ মাজিদ মুসাভি গতকাল (বৃহস্পতিবার) তেহরানে বাহিনীর শহীদদের সম্মানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের ফাঁকে এই মন্তব্য করেন।

মুসাভি জোর দিয়ে বলেন, ইরানি জাতির বিরুদ্ধে যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে প্রতিপক্ষদের দুবার ভাবা উচিত।তিনি শহীদদের উত্তরাধিকারকে সমুন্নত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। শহীদ হাসান তেহরানি মোগাদ্দামকে তিনি 'ইরানের প্রতিরক্ষা ক্ষমতার ভিত্তিপ্রস্তর' বলে অভিহিত করেন।

মুসাভি তার ভাষণে শহীদ হাসান তেহরানি মোগাদ্দামের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং হুমকি চিহ্নিতকরণ এবং মোকাবেলায় তাঁর কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করেন।

তেহরানি মোকাদ্দাম 'ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির জনক' এবং একজন দূরদর্শী সামরিক কৌশলবিদ হিসেবে পরিচিত যিনি তার সময়ের চেয়ে এগিয়ে ছিলেন।

১৯৮০-এর দশকের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের সময় ইরানের দেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষমতা উন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন এবং অনেক মহাকাশ বিষয়ক কমান্ডারকে প্রস্তুত করেছিলেন যারা তার মিশন অব্যাহত রেখেছিলেন।

জুন মাসে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনে তার পূর্বসূরী জেনারেল আমির আলী হাজিজাদেহের শাহাদাতের পর জেনারেল মুসাভি এখন আইআরজিসি মহাকাশ বিভাগের প্রধান। হাজিজাদেহ তেহরানি মোকাদ্দামের চিন্তাভাবনা ও প্রশিক্ষণের অন্যতম সেরা অনুসারী ছিলেন।

হাসান তেহরানি মোকাদ্দামি

মুসাভি বৃহস্পতিবার উল্লেখ করেছেন, তেহরানি মোকাদ্দামের স্থায়ী প্রভাব আমাদের মধ্যে রয়েছে। তিনি বিপদ চিনতে এবং সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন। মুসাভি আরও বলেন,'এই শহীদ সমস্ত ইরানী জনগণের জন্য একটি উত্তরাধিকার রেখে গেছেন যা দেশের প্রতিরক্ষা শক্তির অক্ষ হিসাবে পরিচিত।

অনুষ্ঠানে কেবল শহীদ কমান্ডারদের স্মরণ করা হয়নি বরং প্রতিরক্ষা বাহিনীকে শক্তিশালী করার জন্য ইরানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। মুসাভি উল্লেখ করেন, শহীদদের আত্মত্যাগ ইরানের সামরিক শক্তি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাদের পথ অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেন তিনি।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, আইআরজিসির মহাকাশ বিভাগের কমান্ডার শহীদ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির আলী হাজিজাদেহ এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ বাকেরির অবদানের মাধ্যমে ইরানের ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হয়েছে। 'আমরা দৃঢ়তার সাথে শহীদদের উত্তরাধিকার অনুসরণ করব এবং কোনও ভুল হলে শত্রুকে নতজানু করব' বলে হুঁশিয়ারি দেন।

জেনারেল আমির আলী হাজিজাদেহ

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর একজন সিনিয়র মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুলফজল শেখারচি, মুসাভির অনুভূতির প্রতিধ্বনি করে বলেন, ইরান শক্তি অর্জনের চেষ্টায় পিছপা হবে না। শেখারচি বলেন,'আমরা কোনও পরিস্থিতিতেই দুর্বল হব না।'

তিনি ইহুদিবাদী শাসনব্যবস্থা ধ্বংসের জন্য তেহরানি মোগাদ্দামের তীব্র আকাঙ্ক্ষার পুনরাবৃত্তি করেন। তিনি আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে বলেন যে, এই উচ্চাকাঙ্ক্ষা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে।

'আমির আলী হাজিজাদেহ'র মতো শহীদদের রক্ত ​​আমাদের জাতির এবং এই বাহিনীর শিরায় প্রবাহিত, আমাদের ক্ষমতায়িত করে বলে' সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র মন্তব্য করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রতিটি ক্ষতি কেবল ইরানের জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি দৃঢ় সংকল্প এবং অঙ্গীকারকে শক্তিশালী করে।

হাসান তেহরানি মোকাদ্দামির ইচ্ছা: আমি মারা গেলে কবরে লিখে রাখবেন,' আমি সেই ব্যক্তি যিনি ইসরায়েলকে ধ্বংস করতে চেয়েছিলেন'

তেহরানি মোকাদ্দাম একটি ইচ্ছা করেছিলেন: 'আমি যখন মারা যাব, তখন আমার কবরে লিখে রাখবেন, এখানে সেই ব্যক্তি আছেন যিনি ইসরায়েলকে ধ্বংস করতে চেয়েছিলেন।'

১৩ জুন, ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে একটি স্পষ্ট এবং অশুভ আগ্রাসন শুরু করে যার ফলে ১২ দিনের যুদ্ধ শুরু হয়। সেই যুদ্ধের ফলে দেশটিতে কমপক্ষে ১,০৬৪ জন নিহত হন। যার মধ্যে সামরিক কমান্ডার, পারমাণবিক বিজ্ঞানী এবং বেসামরিক নাগরিকও ছিলেন। আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন করে তিনটি ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও যুদ্ধে সরাসরি প্রবেশ করে।

প্রতিশোধ হিসেবে, ইরানি সশস্ত্র বাহিনী দখলকৃত অঞ্চল জুড়ে কৌশলগত স্থানগুলির পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার বৃহত্তম আমেরিকান সামরিক ঘাঁটি কাতারের আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। ২৪ জুন, ইরান ইসরায়েলএবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের বিরুদ্ধে সফল প্রতিশোধমূলক অভিযানের মাধ্যমে সন্ত্রাসী হামলা বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছে।

একটি শীর্ষস্থানীয় স্বাধীন মাকিংন ওয়েবসাইট দ্য গ্রেজোন সম্প্রতি প্রকাশ করেছে যে, ১২ দিনের জুন যুদ্ধের সময় ইরান দা ভিঞ্চি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের নীচে অবস্থিত সাইট ৮১ নামে পরিচিত একটি গোপন ভূগর্ভস্থ ইসরায়েলি-মার্কিন গোয়েন্দা বাঙ্কারের সফল হামলা চালায়। তেল আবিবের কেন্দ্রীয় একটি টাওয়ারকে লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়।

হামলাগুলি অত্যন্ত নির্ভুল ছিল। একাধিক কৌশলগত সামরিক এবং গোয়েন্দা স্থানে আঘাত করেছিল যার মধ্যে রয়েছে ওয়েইজম্যান ইনস্টিটিউটের মতো সামরিক-সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। আর ইরানি হামলার ফলে তাদের  ক্ষতি হয়েছিল ৫৭০ মিলিয়ন ডলার।

আইআরজিসির ডেপুটি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী ফাদাভি: ইরানের বিরুদ্ধে বিশ্বশক্তির নতুন উন্নত অস্ত্র ব্যর্থ হয়েছে

ইসরায়েলি সেন্সরশিপের কারণে এই হামলাগুলির বিস্তারিত প্রতিবেদন করা সম্ভব হয়নি। মিডিয়া আউটলেটগুলোকে দমন করা হয়েছিল এবং সাংবাদিকদের হামলার স্থান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এই হামলাগুলো ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের নির্ভুল লক্ষ্য প্রমাণ করে। ইরানের সুনির্দিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সংবেদনশীল ইসরায়েলি সামরিক অবকাঠামোর উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে।

ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ স্থানগুলোকে ব্যাহত করার জন্য ইসরায়েলি এবং মার্কিন প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ইরানের এই ধরনের হামলা চালানোর ক্ষমতা একটি উন্নত, স্থিতিশীল এবং অভিযোজিত ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ইঙ্গিত দেয়। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা একটি হাই প্রোফাইল প্রতিশোধমূলক হামলা পরিচালনার জন্য তেহরানের কার্যকরী প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয়।#

পার্সটুডে/জিএআর/১৪