'ট্রিগারে আঙুল’: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কঠোর সতর্কবার্তা আইআরজিসি প্রধানের
https://parstoday.ir/bn/news/event-i156346-'ট্রিগারে_আঙুল’_যুক্তরাষ্ট্র_ও_ইসরায়েলকে_কঠোর_সতর্কবার্তা_আইআরজিসি_প্রধানের
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ পাকপূর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলসহ শত্রু পক্ষকে যেকোনো ভুল সিদ্ধান্ত বা ভুল হিসাব থেকে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ির নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য আইআরজিসি বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং তাদের আঙুল ট্রিগারেই রয়েছে।
(last modified 2026-02-17T14:37:08+00:00 )
জানুয়ারি ২২, ২০২৬ ১৯:৫০ Asia/Dhaka
  • মেজর জেনারেল মোহাম্মদ পাকপূর
    মেজর জেনারেল মোহাম্মদ পাকপূর

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ পাকপূর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলসহ শত্রু পক্ষকে যেকোনো ভুল সিদ্ধান্ত বা ভুল হিসাব থেকে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ির নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য আইআরজিসি বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং তাদের আঙুল ট্রিগারেই রয়েছে।

আজ (বৃহস্পতিবার) দেওয়া এক বার্তায় আইআরজিসি প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ পাকপূর বলেন, “আমরা অপরাধী, দুষ্ট ও মানবতাবিরোধী শত্রুদের বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র এবং ভুয়া ও বর্ণবাদী ইসরায়েলকে সতর্ক করছি। তারা যেন ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয় এবং গত জুনে ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ১২ দিনের যুদ্ধে যে ক্ষতি ও ব্যর্থতার মুখে পড়েছিল, তা স্মরণ করে কোনো ভুল না করে।”

তিনি আরও বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল কোনো ধরনের ভুল হিসাব করে বা নতুন করে আগ্রাসী পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তাদের পরিণতি হবে যন্ত্রণাদায়ক ও অনুশোচনামূলক।

আইআরজিসি প্রধান জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদী ইসরায়েলের শত্রুতা, ষড়যন্ত্র এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড মোকাবিলায় ইরানের প্রতিরক্ষা শক্তি এবং জাতীয় নিরাপত্তা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। তিনি জানান, আইআরজিসি বাহিনী এখন আগের চেয়ে বেশি প্রস্তুত ও সংগঠিত অবস্থায় রয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, "গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানে কিছু বিচ্ছিন্ন অর্থনৈতিক প্রতিবাদ শুরু হয়েছিল। শুরুতে এসব প্রতিবাদ শান্তিপূর্ণ ছিল এবং সেগুলোতে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ অংশ নিয়েছিল। তবে খুব দ্রুত এই প্রতিবাদগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি নেতাদের উসকানিতে সহিংস দাঙ্গায় রূপ দেওয়া হয়। মাঠপর্যায়ে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা ও তাদের এজেন্টরাও এতে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করে। এই সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে সহিংসতাকে উসকে দেন। তিনি সশস্ত্র দাঙ্গাকারীদের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দখলের আহ্বান জানান এবং হুমকি দেন যে, যদি ইরান এসব দাঙ্গাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হামলা চালাতে পারে।"

মঙ্গলবার দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের এই হুমকিগুলো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে আরও উৎসাহিত করেছে। তিনি বলেন, এসব হুমকি সন্ত্রাসী চক্রগুলোর জন্য সরাসরি প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে, যার ফলে তারা “সর্বোচ্চ রক্তপাত”-এর কৌশল গ্রহণ করে, যাতে যুক্তরাষ্ট্রকে ইসরাইলের পক্ষে আরেকটি যুদ্ধে জড়ানো যায়।

এদিকে, বুধবার ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিষদ এক বিবৃতিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি শাসনের পরিকল্পনা ও মদদে সংঘটিত একটি “পূর্ণমাত্রার নৃশংসতায়” দেশটিতে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, এসব সহিংস ঘটনায় নিরীহ বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ ২,৪২৭ জন শহীদ হয়েছেন। এছাড়া দাঙ্গা ও সহিংসতার সময় আরও ৬৯০ জন নিহত হন। ফলে এসব ঘটনার মোট প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩,১১৭ জনে।

আইআরজিসি প্রধান ও নিরাপত্তা পরিষদের বক্তব্যে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, ইরানি জনগণ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ঐক্য, সচেতনতা এবং প্রতিরোধের কারণে শত্রুদের এই ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দিতে ইরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত।#

পার্সটুডে/এমএআর/২২