গাজা যুদ্ধের আবহেই আল-আকসায় ঈদুল আজহার নামাজ: লক্ষাধিক মুসল্লির অংশগ্রহণ
https://parstoday.ir/bn/news/event-i159728-গাজা_যুদ্ধের_আবহেই_আল_আকসায়_ঈদুল_আজহার_নামাজ_লক্ষাধিক_মুসল্লির_অংশগ্রহণ
পূর্ব জেরুজালেমের অধিকৃত এলাকায় অবস্থিত আল-আকসা মসজিদের প্রাঙ্গণ ও নামাজের হলগুলোতে আজ (বুধবার) প্রায় ১,৪০,০০০ মুসল্লি পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন। ইসলামিক ওয়াক্ফ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম বৃহৎ ঈদ জামাত ছিল।
(last modified 2026-05-27T13:22:52+00:00 )
মে ২৭, ২০২৬ ১৮:৫৯ Asia/Dhaka
  • ‌আল আকসায় ১,৪০,০০০ মুসল্লি পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন
    ‌আল আকসায় ১,৪০,০০০ মুসল্লি পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন

পূর্ব জেরুজালেমের অধিকৃত এলাকায় অবস্থিত আল-আকসা মসজিদের প্রাঙ্গণ ও নামাজের হলগুলোতে আজ (বুধবার) প্রায় ১,৪০,০০০ মুসল্লি পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন। ইসলামিক ওয়াক্ফ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম বৃহৎ ঈদ জামাত ছিল।

পবিত্র প্রাঙ্গণটির পরিচালনাকারী ওয়াক্ফ কর্তৃপক্ষ জানায়, ভোর থেকেই মুসল্লিরা আল-আকসা কমপ্লেক্সে প্রবেশ করতে শুরু করেন এবং পুরো পবিত্র প্রাঙ্গণ ঈদের নামাজে পূর্ণ হয়ে যায়। সেখানে উপস্থিতির সংখ্যা ছিল প্রায় ১,৪০,০০০।

পুরোনো জেরুজালেম শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এই মসজিদ এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েলি নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

ওল্ড সিটির সরু গলি, চেকপোস্ট এবং মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশের প্রধান গেটগুলোসহ পুরো এলাকা জুড়ে ব্যাপক ইসরাইলি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। সাধারণত বড় ধরনের ধর্মীয় ছুটির দিনগুলোতে, বিশেষ করে আঞ্চলিক অশান্তির সময়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়ে থাকে।

ফিলিস্তিনে ঈদ আনন্দ

চলমান গাজা যুদ্ধ এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরজুড়ে বিরাজমান অশান্তির আবহেই এবারের ঈদ উদযাপিত হয়েছে।

২০২৩ সালের অক্টোবরে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর থেকে পশ্চিম তীরে সহিংসতা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা ও মানবিক সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ১,০০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত, ১২,০০০-এর বেশি আহত এবং হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মধ্যে রয়েছে ইসরাইলি বসতি ও আউটপোস্টের কাছাকাছি গ্রামীণ এবং বেদুইন অঞ্চলগুলো, যেখানে প্রায়ই সংঘর্ষ এবং বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার খবর পাওয়া যায়।

গাজায়, যেখানে ভূখণ্ডের একটি বড় অংশ ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হয়েছে, সেখানে অনেক ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়কেন্দ্রে, খোলা রাস্তায় বা ধ্বংসস্তূপের মাঝেই ঈদ পালন করেছেন। ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো এবং মৌলিক চাহিদার ঘাটতির কারণে সেখানকার মানবিক পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত নাজুক।

গাজাজুড়ে ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে শত শত মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে, যা অনেক পরিবারের জন্য ঈদের নামাজ আদায়ের চেনা পরিবেশকে বদলে দিয়েছে।

পুরো সংঘাতজুড়ে আল-আকসায় প্রবেশাধিকার বারবার উত্তেজনার একটি মূল বিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও এবার ঈদুল আজহার নামাজের জন্য বিপুল সংখ্যক মানুষকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, তবে পূর্ববর্তী ধর্মীয় উৎসবগুলোতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা বা সীমিত প্রবেশের নিয়ম দেখা গেছে, যা ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার স্বার্থে করেছে বলে দাবি করে।

ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা এবং ওয়াকফ বারবার এই পবিত্র স্থানে উন্মুক্ত প্রবেশাধিকার বজায় রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন, বিশেষ করে প্রধান ধর্মীয় উৎসবগুলোর সময়। অপরদিকে, ইসরাইল অস্থিরতার সময়ে চলাচল সীমিত করার পেছনে নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেছে।#

পার্সটুডে/এমএআর/২৭