'ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে শান্তি ও যুদ্ধের সময় নির্ধারণের সুযোগ দিবে না'
আমেরিকা তৃতীয়বারের মতো কূটনীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে
-
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি
পার্সটুডে: ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি বলেছেন, ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক প্রকাশ্য ও গুরুতরভাবে লঙ্ঘন করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তৃতীয়বারের মতো কূটনীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে শান্তি ও যুদ্ধের সময় নির্ধারণের সুযোগ দিবে না বলেও তিনি তার দেশের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথাও তুলে ধরেছেন।
পার্স টুডে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থার বরাতে জানিয়েছে, অস্ট্রিয়ার ওআরএফ (ORF) টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসমাইল বাকায়ি বলেছেন, ইসলামাবাদ সমঝোতা-স্মারক কোনো দীর্ঘ বা জটিল নথি নয়; এটি মাত্র ১৪ দফার একটি সংক্ষিপ্ত সমঝোতা স্মারক। তিনি বলেন, বিশ্ববাসী আশা করেছিল যে অন্তত এবার যুক্তরাষ্ট্র তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তির বিভিন্ন ধারা প্রকাশ্য ও গুরুতরভাবে লঙ্ঘন করেছে। এর ফলে তৃতীয়বারের মতো কূটনীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করল ওয়াশিংটন।
তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ইরান তার সব দায়বদ্ধতা পালন করেছে এবং বর্তমানে প্রণালির পরিস্থিতির জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রই দায়ী।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলে বার্তা বিনিময় চলছে
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কূটনৈতিক যোগাযোগের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে বার্তা বিনিময় অব্যাহত রয়েছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তেহরানের প্রধান অগ্রাধিকার হলো দেশের জাতীয় সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধাপরাধের বিরুদ্ধে ইরানি নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
বাকায়ি আরও বলেছেন, মধ্যস্থতাকারীরা তাদের ভূমিকা পালন করছেন। তবে ইরান যেহেতু সামরিক হামলা ও বোমাবর্ষণের মুখে রয়েছে, তাই দেশের প্রধান মনোযোগ এখন প্রতিরোধ এবং জাতীয় প্রতিরক্ষার দিকে নিবদ্ধ।
হরমুজ প্রণালির সাম্প্রতিক অস্থিরতার দায়
হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক অস্থিরতার কারণ সম্পর্কে এক প্রশ্নের উত্তরে বাকায়ি বলেছেন, ইরান কয়েক দশক ধরে আন্তরিকতার সঙ্গে এই কৌশলগত জলপথ এবং পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আসছে, যদিও এই পুরো সময়ে দেশটি কঠোরতম নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি ছিল।
তিনি সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর সঙ্গে ইরানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, বর্তমান সব অস্থিরতার সরাসরি কারণ ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদী ইসরায়েলের আগ্রাসন। তিনি বলেন, এই বাস্তবতা উপেক্ষা করে কেবল একটি নির্দিষ্ট ঘটনার ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করা যায় না।
বাকায়ি আরও বলেছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত এটা উপলব্ধি করা যে, অন্যদের ভুল পদক্ষেপের জন্য ইরানকে দোষারোপ করা উচিত নয়।
ইরানের সম্পদ মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্ত করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে এক প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, এই প্রক্রিয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, এসব সম্পদ ইরানের নিজস্ব সম্পদ; এটি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আর্থিক সহায়তা নয়। ওয়াশিংটনের দায়িত্ব ছিল ইরানকে তার নিজস্ব সম্পদে অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র আবারও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে সমঝোতা স্মারকের এই ধারাসহ কার্যত সব ধারাই লঙ্ঘন করেছে।
অঞ্চলে শান্তির সম্ভাবনা
বাকায়ি বলেছেন, ইরানিরা কখনোই যুদ্ধ চায়নি; বরং তারা হামলার শিকার হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান তার সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং জাতীয় মর্যাদা রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
অঞ্চলে শান্তির সম্ভাবনা সম্পর্কে তিনি বলেছেন, যেসব শক্তি সবসময় যুদ্ধের পক্ষে এবং গত আট দশক ধরে একটি গণহত্যাকারী শাসক-চক্র (অবৈধ রাষ্ট্র ইসরায়েল) প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে এসেছে, তাদের উপস্থিতিতে শান্তি প্রতিষ্ঠা সহজ নয়।
মানবাধিকার নিয়ে পশ্চিমা দাবির বিষয়ে ইরানের অবস্থান
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ইউরোপ একদিকে ইরানে মানবাধিকার নিয়ে বক্তৃতা দিতে পারে না, আবার অন্যদিকে অধিকৃত ফিলিস্তিনে চলমান গণহত্যার বিষয়ে নীরব থাকতে পারে না।
তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোর বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মধ্যে মিল আনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারা কয়েকজন দণ্ডিত অপরাধীর মৃত্যুদণ্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতে পারে না, যখন তারাই মিনাব ও লামার্দ-এর মতো শহরে ইরানি শিশু ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের হত্যার ঘটনায় নীরবতা পালন করছে। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/২৭
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।