সিলেটের সারজিসদের ওপর হামলা, বিএনপি-ছাত্রদলকে দায়ী করল এনসিপি
-
সিলেটের গোলাপগঞ্জে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা সারজিস আলমকে বহনকারী গাড়ি
বাংলাদেশের হবিগঞ্জের পর এবার সিলেটে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে সিলেটের গোলাপগঞ্জ এবং পরবর্তীতে পাঁচ মাইল বাজার এলাকায় পরপর দুই দফায় এই হামলার অভিযোগ ওঠে। এতে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা আলম মিতুকে বহনকারী গাড়ির কাচ ভেঙে গুঁড়ো হয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে গোলাপগঞ্জ পৌরসভা অডিটোরিয়ামে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এনসিপির সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে বেলা পৌনে তিনটার দিকে সারজিস আলম ও অন্যান্য নেতাদের বহনকারী গাড়িবহর অডিটোরিয়াম ত্যাগ করার সময় কতিপয় ব্যক্তি ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে গাড়ি লক্ষ্য করে পানির ও কোমল পানীয়র বোতল এবং ঢিল ছুড়ে মারে। এতে সারজিস আলমের গাড়ির পেছনের ও ডান পাশের গ্লাস ভেঙে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। পরবর্তীতে পুলিশ পাহারায় তাঁদের গাড়ি সিলেটের দিকে রওনা হয়।
তবে সিলেটে ফেরার পথে পাঁচ মাইল বাজার এলাকায় পৌঁছালে আবারও দ্বিতীয় দফায় হামলার শিকার হয় বহরটি। এনসিপি নেতাদের অভিযোগ, সেখানে চাপাতি ও রামদা নিয়ে হামলা চালানো হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন এনসিপির শীর্ষ নেতারা। সিলেট সার্কিট হাউসে ফিরে সারজিস আলম ও ফেসবুক পোস্টে এই ঘটনার জন্য ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাকর্মীদের দায়ী করেন। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, “সিলেটের পাঁচ মাইল বাজারে বিএনপির সন্ত্রাসীরা আমাদের ওপর আবার আক্রমণ করেছে। তারেক রহমান কি শেখ হাসিনা হতে চায়?”
হামলার খবর জানিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এক ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “সিলেটের গোলাপগঞ্জে শহীদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সিলেটে ফেরার পথে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের গাড়িতে আবারও বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে বিএনপির সন্ত্রাসী বাহিনী।”
অন্যদিকে একই গাড়িতে থাকা এনসিপির সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা আলম মিতু নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “শহীদ পরিবারের সঙ্গে প্রোগ্রাম করে ফেরার পথে সিলেটের গোলাপগঞ্জে আবারও ভয়াবহ হামলা করলো বিএনপির সন্ত্রাসীরা। এরা আসলে মেরে ফেলার জন্য চেষ্টা করছে। পুলিশ নির্বিকার হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল।”
হামলা চলাকালে ঘটনাস্থলে সাময়িক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সদস্যদের উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে। তবে বোতল নিক্ষেপ ও নিরাপত্তার বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত মঙ্গলবার হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রায় একই ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছিল। সেখানেও স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিল এনসিপি, যা পরবর্তীতে বিএনপি নেতারা অস্বীকার করেন।#
পার্সটুডে/এমএআর/৩০