'কেবল সরকার ও তার নেতাদের সম্পর্কে ইতিবাচক মতামত প্রকাশের সুযোগ মানে বাক-স্বাধীনতা নয়'
ট্রাম্পের প্রতি বিচারকের আঘাত: ইসরায়েলের নিন্দাকারী বিদেশীদের বহিষ্কার নিষিদ্ধ
-
গাজার প্রতি সংহতি প্রকাশ করা ও ইসরায়েলি দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে নিন্দার লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হার্ভার্ড শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ
পার্সটুডে: ক্যালিফোর্নিয়ার একজন ফেডারেল বিচারক ঘোষণা করেছেন যে, গাজায় ইসরায়েলি কর্মকাণ্ড ও যুদ্ধের নিন্দাকারী বিদেশি নাগরিক ও বিদেশি শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারের জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপ সংবিধান-বিরোধী।
ইরনার বরাত দিয়ে পার্সটুডে জানিয়েছে, নোয়েল ওয়াইজ নামের ক্যালিফোর্নিয়ার ওই বিচারক এক রায়ে ঘোষণা করেছেন যে, মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে ইসরায়েলের সমালোচকদের নীরব করে দেয়া সংবিধানবিরোধী।
এই বিচারক লিখেছেন: আমরা যদি কেবল সরকার ও তার নেতাদের সম্পর্কে ইতিবাচক মতামত প্রকাশের সুযোগ পাই, তাহলে বাক্স্বাধীনতা নিছক একটি ভ্রম ছাড়া আর কিছু নয়। বাক্স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ‘একটি টেকসই মার্কিন গণতন্ত্রের ভিত্তি।’
এই রায়ের প্রতিক্রিয়ায় স্ট্যানফোর্ড ডেইলি পত্রিকার সম্পাদক জর্জ পোর্টিউস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন: আমাদের সাংবাদিকদের কোনো সংবাদ লেখার বিষয়ে উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত নয়। আজকের বিজয়ের অর্থ হলো, তারা আর ভীত থাকবে না।
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বিদেশি শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ কর্মসূচির ওপর নজরদারি জোরদার করে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সতর্ক করেছে যে, তারা যদি বিধিবিধানের পরিপন্থী ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু করে, তাহলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী গ্রহণের জন্য তাদের অনুমোদন বাতিল করা হতে পারে।
গত কয়েক মাসে ট্রাম্প প্রশাসন হার্ভার্ডের মতো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে এবং এসব প্রতিষ্ঠানকে অতিরিক্ত উদারপন্থা ও 'ইহুদিবিদ্বেষ' ছড়ানোর জন্য অভিযুক্ত করেছে।অভিবাসীদের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়নের পাশাপাশি এসব পদক্ষেপের ফলে বহু বিদেশি শিক্ষার্থী বহিষ্কার অথবা ভিসা নবায়ন না হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।
গণমাধ্যমে ক্রমবর্ধমান সমালোচনার প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প সিএনএনের ব্যবস্থাপনা ও উপস্থাপকদের পরিবর্তনের দাবিও জানিয়েছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার তাঁর ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে দাবি করেন: সিএনএন একটি ‘মৃত্যুর সর্পিলে’ রয়েছে এবং এমএস নাও (এমএসডিএনসি নেটওয়ার্কের নতুন নাম)-ও একই অবস্থায় রয়েছে; সত্যিই প্রায় কেউই এই দুটি নেটওয়ার্কের কোনোটিই দেখে না!
একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেছেন: সিএনএনের সেরা ব্যক্তিত্ব হলেন হ্যারি এনটেন, যিনি একজন জরিপবিদ ও জনমত বিশ্লেষক। কারণ তিনি দেখাতে রাজি হয়েছেন যে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা আব্রাহাম লিংকন, জর্জ ওয়াশিংটন কিংবা অন্য যেকোনো প্রেসিডেন্টের তুলনায় ছয় গুণ বেশি। তাঁর বিশ্বাসযোগ্যতা রয়েছে (তাঁকে বরখাস্ত করবেন না!)। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/৩০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন