দিল্লিতে আটক সিজেপির তিন নেতা মুক্ত
মোদিকে ‘ভারতের লজ্জা’ বললেন অভিজিৎ দীপকে, ধ্রুব রাঠীর অপহরণের অভিযোগ
-
সিজেপির নেতা (বাঁ থেকে) সৌরভ দাস, প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে ও আশুতোষ রাঙ্কা
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আটক হওয়ার পর মুক্তি পেয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন দীপকে।
অন্যদিকে, ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী অভিযোগ করেছেন, পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার বা আটক করেনি, বরং তাঁর বাড়ি থেকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়েছিল।
আজ (রোববার) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে অভিজিৎ দীপকে লেখেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদি ভারতের জন্য অস্বস্তির কারণ।’ ভারতের ইতিহাসে মোদির মতো ‘কাপুরুষ’ ও ‘জুলুমবাজ’ আর কেউ ছিলেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শনিবার দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপির পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ধরপাকড় চালায় পুলিশ। এ সময় দলটির তিন শীর্ষ নেতাকে আটক করা হয়। তাঁদের মুক্তির পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সিজেপি।
বিমান থেকে আটক, পরে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি
শনিবার মুম্বাই থেকে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর উড়োজাহাজের ভেতর থেকেই সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং দলের দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। তাঁরা বেঙ্গালুরু থেকে মুম্বাই হয়ে দিল্লিতে এসেছিলেন যন্তর মন্তরে দলের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিতে।
রোববার সকালে তিন নেতাকে দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট থানায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয়। পরে নির্দিষ্ট শর্তে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়। সিজেপির আইনি দলের প্রধান রত্না সিংয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী এক বছর শান্তি ভঙ্গ করতে পারে—এমন কোনো কাজে অংশ নিতে পারবেন না তাঁরা। ৫০ হাজার টাকার জামিনদারসহ বন্ডে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয় বলে খবরে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিজেপির আইনজীবী বৃন্দা গ্রোভার তাঁদের আটক করার আইনগত ভিত্তি নিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে প্রশ্ন তোলেন। মুক্তির পর আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, গত ৭২ ঘণ্টায় দেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা গণতন্ত্রের জন্য উদ্বেগজনক। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের আটক করা, মারধর এবং যাতায়াতে বাধা দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।
‘অপহরণ করা হয়েছে’, অভিযোগ ধ্রুব রাঠীর
এদিকে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী অভিযোগ করেছেন, শনিবার সকালে গুরুগ্রামে তাঁর বাড়িতে সাদা পোশাকের লোকজন ঢুকে তাঁকে শোয়ার ঘর থেকে তুলে নিয়ে যায়। রোববার সকালে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় তিনি দাবি করেন, ওই ব্যক্তিরা তাঁর মাকে ধাক্কা দিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করেন। তাঁকে জুতা পরার সময়টুকুও দেওয়া হয়নি।
ধ্রুবের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল সাতটার দিকে তাঁর মা বাড়ির বাইরে লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে দরজা খুলেছিলেন। এরপর সাধারণ পোশাকের লোকজন ঘরে ঢুকে তাঁকে নিয়ে যায়। তাঁর অভিযোগ, বাড়ির বাইরে ৫০ জনের বেশি লোক ছিল এবং তাঁকে টেনে গাড়িতে তোলা হয়। পরে এক থানা থেকে অন্য থানায় নেওয়া হয় তাঁকে।
ধ্রুব আরও দাবি করেন, তাঁর নিজের এবং বাবা-মায়ের ফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। থানায় নেওয়ার পর আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলা কিংবা ফোন ব্যবহারের সুযোগও তাঁকে দেওয়া হয়নি। প্রায় ২২ থেকে ২৩ ঘণ্টা আটকে রাখার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা সিজেপির
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সিজেপি। শনিবারের ধরপাকড়ের পরও রোববার আবার যন্তর মন্তরে পৌঁছানোর চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন সিজেপির নেতারা। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থেকে সরে আসার কোনো পরিকল্পনা তাঁদের নেই।
এদিকে আটক ব্যক্তিদের মুক্তি না দিলে অনশনে বসার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন জলবায়ু আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুক। ধ্রুব রাঠী তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
আটক নেতাদের শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হলেও দিল্লির বিক্ষোভ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ এবং সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের সমালোচনা—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।#
পার্সটুডে/এমএআর/১১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।