আগ্রাসীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই হবে: আরাকচি
-
সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি
পার্সটুডে- ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি বলেছেন, আগ্রাসীদেরকে তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া যাবে না। পরিবেশ মানবজাতির অভিন্ন সম্পদ; এটি প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র নয়, রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার নয় কিংবা স্বল্পমেয়াদি অর্থনৈতিক ও সামরিক স্বার্থের বলি হতে পারে না।
ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাতে পার্সটুডে জানিয়েছে, আজ রোববার ‘ইকোসাইড: নীরব যুদ্ধাপরাধ’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তব্য দেন আরাকচি।
তিনি সেখানে বলেন, পরিবেশকে আর যুদ্ধের নীরব শিকার হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। যুদ্ধ ও সংঘাত শুধু মানুষের জীবন, শহর এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবকাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে না; পানি, মাটি, বায়ু, বনভূমি, কৃষিজমি, জ্বালানি সম্পদ, প্রাকৃতিক আবাসস্থল ও জীববৈচিত্র্যও এর ধ্বংসাত্মক প্রভাবের শিকার হয়।
আরাকচি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গাজা, লেবানন ও ইরানে দেখা গেছে, সামরিক হামলায় প্রাণহানি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংসের পাশাপাশি পরিবেশের ওপরও গভীর এবং কখনো দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি হয়েছে।
তিনি বলেন, ইরানের দৃষ্টিতে পরিবেশ ধ্বংস এবং যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে মানুষের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় আন্তর্জাতিক আইন নীরব থাকতে পারে না। আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের মূলনীতিগুলো—বিশেষ করে সামরিক লক্ষ্যবস্তু ও বেসামরিক ব্যক্তি-সম্পদের মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখা এবং হামলার ক্ষেত্রে আনুপাতিকতার নীতি অনুসরণ—কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি সামরিক কর্মকাণ্ডের প্রত্যক্ষ, পরোক্ষ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত প্রভাবও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সশস্ত্র সংঘাতে প্রাকৃতিক পরিবেশের সুরক্ষাসহ আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের বিধানগুলো কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। যুদ্ধের পরিবেশগত পরিণতির প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদাসীন থাকতে পারে না।
আরাকচি জোর দিয়ে বলেন, “আমরা আগ্রাসনকারীদের তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দায় এড়িয়ে যেতে দিতে পারি না। সম্মিলিত সহযোগিতা ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। আলোচনা বা যুদ্ধের টেবিলে প্রকৃতির নিজস্ব কোনো কণ্ঠস্বর নেই। প্রকৃতির এই নীরবতার মূল্য যেন মানবজাতির ভবিষ্যৎ ধ্বংসের মাধ্যমে দিতে না হয়, তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।”#
পার্সটুডে/এসএ/১১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।