প্লেঅফ নিশ্চিত করল ব্যাঙ্গালুরু ও কোলকাতা, অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন কোহলি
-
রয়্যাল চ্যালেঞ্জারস ব্যাঙ্গালুরুর অধিনায়ক বিরাট কোহলি
দিল্লি ডেয়ারডেভিলসকে ৬ উইকেটে হারিয়ে আইপিএলের প্লেঅফ রাউন্ড নিশ্চিত করল বিরাট কোহলির রয়্যাল চ্যালেঞ্জারস ব্যাঙ্গালুরু। দিনের অপর খেলায় সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে ২২ রানে হারিয়ে তৃতীয় দল হিসেবে প্লেঅফে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে কোলকাতা নাইট রাইডার্স।
মঙ্গলবার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে গুজরাট লায়ন্স ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। আর পরদিন বুধবার দিল্লিতে এলিমিনেটর ম্যাচে খেলবে সাকিব আল হাসানের কোলকাতা নাইট রাইডার্স ও মুস্তাফিজুর রহমানের সানরাইজার্স হায়দরাবাদ।
রোববার রাতে ব্যাঙ্গালুরু অধিনায়ক কোহলি টসে জিতে জহির খানের দিল্লিকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠান। ব্যাটিংয়ে নেমে ব্যাঙ্গালুরুর বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে মাত্র ১৩৮ রানেই থামে দিল্লির রানের চাকা। দিল্লির হয়ে সর্বোচ্চ ৬০ রানের এক অনবদ্য ইনিংস খেলেন দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটসম্যান কুইন্টন ডি কক। শেষে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকান অলরাউন্ডার ক্রিস মরিস ১৭ বলে তিনটি চার মেরে ২৬ রান করে অপরাজিত থাকেন। এছাড়া ভারতের করুন নায়ার করেছেন ১১ রান, সাঞ্জু স্যামসন করেছেন ১৭ রান। তাছাড়া দিল্লির হয়ে আর কেউই দুই ঘরের অঙ্ক ছুঁতে পারেনি।
ব্যাঙ্গালুরুর হয়ে যুবেন্দ্র চাহাল ৩ টি, ক্রিস গেইল ২ টি, শ্রীনাথ অরবিন্দ এবং ক্রিস জর্ডান একটি করে উইকেট শিকার করেন।

এরপর কোহলির সাথে ব্যাটিংয়ের হাল ধরেন অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান শেন ওয়াটসন। পবন নেগির বলে দলীয় ১১১ রানে আউট হওয়ার আগে ১৮ বলে ১৪ রান করেন ওয়াটসন। এরপর ক্রিজে আসা নতুন ব্যাটসম্যান স্টুয়ার্ট বিনিকে সাথে নিয়ে ২৮ রানের জুটি গড়ে দলকে জিটিয়ে মাঠ ছাড়েন অধিনায়ক কোহলি। ৪৫ বলে ৫৪ রান করে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ব্যাঙ্গালুরু অধিনায়ক। ম্যাচ সেরার পুরস্কারও পান তিনি।
দিল্লির পক্ষে জহির খান, ক্রিস মরিস, পবন নেগি এবং কার্লোস ব্র্যাথওয়েট প্রত্যেকে একটি করে উইকেট শিকার করেন।
অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন কোহলি
দুই সপ্তাহ আগে আইপিএলে পয়েন্ট টেবিলের সাত নম্বর অবস্থানে ছিল বিরাট কোহলির বেঙ্গালুরু। কিন্তু নিজেদের শেষ সাত ম্যাচে ছয়টিতেই জয়ী হয়ে পয়েন্ট টেবিলের দুই নম্বরে চলে এসেছে দলটি। সেই সাথে শেষ চারে নিজেদের জায়গাও করে নিয়েছে তারা। এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল খোদ অধিনায়ক বিরাট কোহলির। ১৪ ম্যাচে তিনি করেছেন সর্বোচন্ন ৯১৯ রান।
গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বিরাট কোহলি বলেন, “দুই সপ্তাহ আগে আমরা একটি অসম্ভব কাজকে সম্ভব করার অঙ্গীকার করেছিলাম, আর আজকে আমরা তাই করেছি। কাজটি মোটেও সহজ ছিল না, আমাদের অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। তবে ভালো লাগছে আমরা প্লেঅফে খেলতে পারছি দুই নম্বর দল হিসেবে। আমার লক্ষ্যই ছিল আমি যেভাবেই হোক দলকে শেষ পর্যন্ত নিয়ে যাব, আমি তাই করেছি। আমি আজকে নতুন কোনো দিন শুরু করেনি, আগেও যেভাবে দিন শুরু করেছি আজকেও একই কাজ করেছি। আপনি যদি কোনো নিয়ম অনুসরণ করতে চান, তাহলে আপনাকে একই কাজ বার বার করতে হবে; আমিও সেটিই করেছি।”
হায়দ্রাবাদকে হারিয়ে শেষ চারে কোলকাতা

কোলকাতার ইডেন গার্ডেনসে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৭১ রান সংগ্রহ করে কেকেআর। স্বাগতিকদের ১৭১ রানের জবাবে ১৪৯ রানে থেমে যায় হায়দ্রাবাদের ইনিংস।
হায়দ্রাবাদের ডেভিড ওয়ার্নার মাত্র ১৮ রান করেই সাজঘরে ফেরেন। দ্বিতীয় উইকেটে ৫৮ রানের জুটি গড়ে অবশ্য ভালোভাবেই এগিয়ে যাচ্ছিলেন শিখর ধাওয়ান ও নামান ওঝা। কিন্তু দ্বাদশ ওভারে ধাওয়ান ৫১ রান করে আউট হয়ে যাওয়ার পর ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ে হায়দরাবাদ। এরপর আর কোনো বড় জুটিই গড়ে তুলতে পারেনি তারা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে হারাতে ১৪৯ রানেই শেষ হয় হায়দরাবাদের ইনিংস।
কোলকাতার পক্ষে দারুণ বোলিং করে তিনটি উইকেট নিয়েছেন সুনীল নারাইন। সাকিব নিয়েছেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। শুরুতেই তিনি ফিরিয়েছিলেন ওয়ার্নারকে। কোলকাতার আরেক স্পিনার কুলদীপ যাদব নিয়েছেন দুটি উইকেট।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে মাত্র ৫৭ রানেই ৩ উইকেট হারায় কোলকাতা। রবীন উথাপ্পা ২৫, গৌতম গম্ভীর ১৬ ও মুনরো ১০ রানে আউট হয়ে চাপের মুখে পড়লে চতুর্থ উইকেটে ইউসুফ পাঠান ও মনিশ পান্ডে ৮৭ রানের জুটি গড়ে দলকে চাপ মুক্ত করেন। ৩০ বলে পান্ডে করেন ৪৮ রান। ৩৪ বলে ৫২ রানে অপরাজিত থাকা পাঠান ম্যাচ সেরার পুরস্কার পান।
হায়দ্রাবাদের হয়ে ভুবনেশ্বর কুমার ও দীপক হুদা দুটি করে এবং বারিন্দর স্রান ও মুস্তাফিজুর রহমান একটি করে উইকেট লাভ করেন।#
পার্সটুডে/এআর/২৩