সিএএ প্রত্যাহার করুক সরকার: অমিত শাহকে চিঠি অধীর চৌধুরীর
https://parstoday.ir/bn/news/india-i107850-সিএএ_প্রত্যাহার_করুক_সরকার_অমিত_শাহকে_চিঠি_অধীর_চৌধুরীর
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কংগ্রেস সভাপতি ও লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) ২০১৯ সম্পর্কে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে একটি চিঠি লিখেছেন এবং সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনে এটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
মে ১২, ২০২২ ১৩:১৫ Asia/Dhaka
  • অধীর চৌধুরী             ও         অমিত শাহ
    অধীর চৌধুরী ও অমিত শাহ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কংগ্রেস সভাপতি ও লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) ২০১৯ সম্পর্কে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে একটি চিঠি লিখেছেন এবং সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনে এটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।

কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী এমপি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে তার চিঠিতে বলেছেন, বিপুলসংখ্যক পাকিস্তানি হিন্দু যারা ধর্মীয় নিপীড়ন থেকে বাঁচতে  পাকিস্তান থেকে ভারতে এসেছিলেন তাদের পাকিস্তানে ফিরে যেতে হয়েছে, কারণ তারা ভারতীয় নাগরিকত্ব অর্জন করতে পারেনি।  

প্রসঙ্গত, পাকিস্তান থেকে ভারতে আসা কমপক্ষে ৮০০ পাকিস্তানি হিন্দু অনেক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও নাগরিকত্ব না পেয়ে পাকিস্তানে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। সম্প্রতি বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় বিরোধীরা এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করছে। কারণ, ‘সিএএ’ আইনে পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসা নিপীড়িত সংখ্যালঘু হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি এবং খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। যদিও ওই আইনের বিধি তৈরি না হওয়ায় সেটির বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না।  

হিন্দি গণমাধ্যম ‘নবভারত টাইমস’ সূত্রে প্রকাশ, গতকাল (বুধবার)অধীর রঞ্জন চৌধুরী তার চিঠিতে বলেন, আমরা ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠী বা জাতীয়তা নির্বিশেষে সর্বদা প্রান্তিক ও অবহেলিত মানুষের জন্য আমাদের আওয়াজ তুলেছি। এখন দুই বছরেরও বেশি সময় হয়ে গেছে যে আপনি সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বা ‘সিএএ’ নামে ভুলভাবে চিন্তাভাবনা করা আইন পাস করেছেন। কিন্তু তবুও, আপনি এর অন্তর্নিহিত এবং প্রকাশ্য অসাংবিধানিকতার কারণে এটি বাস্তবায়ন করতে পারছেন না। এ কারণেই পাকিস্তানি হিন্দুরা হতাশা ও হতাশা নিয়ে পাকিস্তানে ফিরে যাচ্ছে।  

‘সিএএ’কে সাংবিধানিক মূল্যবোধের বিরোধী বলে মন্তব্য করে অধীর বাবু বলেন, এই কঠোর আইন প্রয়োগ করা যাবে না কারণ এটি ‘একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে টার্গেট’ করা আইন। এটি আমাদের সাংবিধানিক রীতিনীতির মূল নীতি এবং মৌলিক নীতির বিরোধী। আমাদের সংবিধানের মূল মূল্য হল বাঁচুন এবং বাঁচতে দিন। আমার বিশ্বাস, একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে টার্গেট করা এই আইন বিচারিক তদন্তের আওতায় আসবে না। সম্ভবত আপনি এটি খুব ভাল করেই জানেন এবং সেই কারণেই দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে আইনটি পাস হওয়া সত্ত্বেও আপনি ‘সিএএ’-এর মৌলিক নিয়মগুলো প্রণয়ন করতে সক্ষম হননি। 

কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী আরও বলেন, আমি আরও বলতে চাই যে বিশ্ব আমাদের দেখছে এবং তারা আমাদের ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়ে বিশেষ উদ্বেগের দেশ হিসাবে ট্যাগ করেছে। এটা গুরুত্বপূর্ণ যে আমরা আমাদের শাসনের মূল নীতিগুলো অর্থাৎ ‘ধর্মনিরপেক্ষতা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার’কে সমুন্নত রাখি। 

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ সফরের সময়ে  ঘোষণা করেছিলেন যে দেশে করোনা পরিস্থিতি শেষ হওয়ার পরে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বা ‘সিএএ’  কার্যকর করা হবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ওই ঘোষণার পর থেকে ধারাবাহিকভাবে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশে আসছে।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/আবুসাঈদ/১২

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।