শুভেন্দুর কনভয় অনুসরণ করার অভিযোগে গ্রেফতার ২, ‘এটা নাটক’ কটাক্ষ তৃণমূলের
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ও বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়কে অনুসরণ করার অভিযোগে পুলিশ দু’জনকে গ্রেফতার করেছে।
ওই ইস্যুতে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। গত বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই ‘জ়েড ক্যাটেগরি’র কেন্দ্রীয় নিরাপত্তার ঘেরাটোপে থাকেন বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী।
বিজেপি সূত্রে দাবি, গতকাল (বৃহস্পতিবার) দিবাগত রাত ১১টা নাগাদ শুভেন্দু অধিকারীর কনভয় যাওয়ার সময় অনুসরণ করতে শুরু করে একটি গাড়ি ও মোটরবাইক। অভিযোগ, গাড়ি ও মোটরবাইক শুভেন্দু অধিকারীর বাড়ি শান্তিকুঞ্জের কাছে চলে এলে ঘিরে ধরে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আধাসামরিক বাহিনী ‘সিআরপিএফ’ জওয়ানরা। অভিযুক্ত ২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সদুত্তর না মেলায় তাদের কাঁথি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এরপর কাঁথি থানার পুলিশ ২ জনকে গ্রেফতার করে। পুলিশ সূত্রে খবর, গাড়ি থেকে কয়েকটি ফাইল মিলেছে। মোটরবাইক ও গাড়ি চালক কী উদ্দেশ্যে শান্তিকুঞ্জের কাছে আসেন, তাদের গাড়িতে কীসের ফাইল রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এ সম্পর্কে আজ (শুক্রবার) রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেসের সহসভাপতি অধ্যাপক সৌগত রায় এমপি বলেন, ‘ শুভেন্দু একগাদা কেন্দ্রীয় পুলিশ নিয়ে ঘোরাফেরা করে। ও খুব নিরাপত্তার অভাব অনুভব করে সব সময়। অত কেন্দ্রীয় পুলিশ, কমপক্ষে ১৫ জন ওর সঙ্গে থাকে। তার পরেও এত অনিশ্চয়তা বা নিরাপত্তার অভাব কেন আমি জানি না। কেন এত নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে জানি না।’
পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, ‘উনি একটা নাটক করে শিরোনামে ভেসে থাকতে চান। ওনার মুখ দেখে পূর্বমেদিনীপুরে আদি বিজেপি কর্মীরা দল ছেড়ে চলে যাচ্ছে। ধস নামছে। ওনার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। নন্দীগ্রামে স্থানীয় মানুষ ‘গোব্যাক’ স্লোগান দিয়ে ঢুকতে দেবে না বলছে। ওনার পায়ের তলা থেকে জমি সরে যাচ্ছে। সেজন্য এখন ওনার নাটক করা দরকার। কার খেয়েদেয়ে কাজ নেই, তৃণমূলের তো খেয়েদেয়ে দায় পড়েনি ওকে অনুসরণ করার।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নন্দীগ্রাম থেকে বারবার অভিযোগ পেয়েছি যে, শুভেন্দু অধিকারী কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোড়কে টাকা এবং অস্ত্র ঢোকাচ্ছেন। আমরা তার তদন্ত চেয়েছি। আমরা তো শুধু অভিযোগটা বলতে পারি। তদন্ত চেয়েছি। এতেই উনি বোধ হয় একটু তাল জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছেন, কারণ এরপরে উনি বুঝতে পারছেন অভিযোগ আকারে অনেক জিনিস সামনে চলে আসছে।’
‘উনি নাটক করে শিরোনামে ভেসে থাকার জন্য এধরণের অভিযোগ করছে। আমাদের দিক থেকে অনুসরণের কোনো প্রশ্নই ওঠে না’ বলেও মন্তব্য করেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।
এদিকে, শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোড়কে টাকা ও অস্ত্র ঢোকানোর অভিযোগকে খারিজ করে রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘মিথ্যাচার, কুৎসা আর প্রতারণাকে হাতিয়ার করে দীর্ঘমেয়াদি রাজনীতিতে সাফল্য পাওয়া যায় না। এসব বলে ওরা বিজেপি কিংবা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে অপমান করছেন না, অপমান করছেন সেই মানুষকে, যারা ভোটে জিতিয়ে তাকে বিরোধী দলনেতা করেছেন।’ তমলুক সাংগঠনিক জেলা বিজেপির অন্যতম সাধারণ সম্পাদক মেঘনাদ পালও ওই ঘটনাকে মিথ্যে অপপ্রচার বলে মন্তব্য করেছেন।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এমবিএ/১১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।