মণিপুরে শান্তি ফেরাতে রাজ্যপালের নেতৃত্বে কমিটি গঠন করল কেন্দ্রীয় সরকার
ভারতে বিজেপিশাসিত মণিপুরে সাম্প্রতিক সহিংসতাকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সেখানে শান্তি ফিরিয়ে আনতে রাজ্যপালের নেতৃত্বাধীন একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আজ (শনিবার) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে প্রকাশ, কেন্দ্রীয় সরকার মণিপুরে শান্তি ফেরাতে ওই কমিটি গঠন করেছে। কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্য সরকারের কিছু মন্ত্রী, এমপি, বিধায়ক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। কমিটিতে সাবেক সরকারি কর্মচারী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, শিল্পী, সমাজকর্মী এবং বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, আজ রাজ্যের ১১ জন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে ‘আইএএস’ এবং ‘আইপিএস’-এর মতো শীর্ষ কর্মকর্তা রয়েছেন। গোলযোগপূর্ণ রাজ্যটিতে সম্প্রতি ৪ দিনের সফরে এসেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এ সময়ে, রাজ্যের ডিজিপি পি ডঙ্গলকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তার জায়গায় রাজীব সিংকে দায়িত্বভার দেওয়া হয়। রাজ্যটিতে কুকি এবং মেইতেই সম্প্রদায়ের মধ্যে জাতিগত সহিংসতার মধ্যে এবার সেখানে প্রশাসনিক উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বড়সড় রদবদল করা হল।
মণিপুরে ৩৯ দিন ধরে চলা সহিংসতায় এ পর্যন্ত কমপক্ষে ১০০ জন মানুষ নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন ৩০০ জনের বেশি মানুষ। ২৭২টি ত্রাণ শিবিরে থাকতে বাধ্য হয়েছেন ৩৭ হাজারের বেশি মানুষ। গতকালই (শুক্রবার) সেখানে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর গুলিতে ৩ জন নিহত হয়েছেন।
এদিকে, আজ সকালে মণিপুরে পৌঁছেছেন বিজেপিশাসিত অসমের মুখ্যমন্ত্রী ও নর্থ-ইস্ট ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স (নেডা)'র আহ্বায়ক হিমন্তবিশ্ব শর্মা। তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংয়ের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময়ে মণিপুরে চলমান সহিংসতা নিয়ে উভয় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের মধ্যে আলোচনা হয়।
গত ৩ মে উপজাতি ছাত্র সংগঠন ‘অল ট্রাইবাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অফ মণিপুর’ (এটিএসইউএম)-এর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজ্যটিতে অশান্তির সূত্রপাত হয়। মণিপুর হাই কোর্ট ‘মেইতেই’দের তফসিলি উপজাতির মর্যাদা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকারকে বিবেচনা করার নির্দেশ দিয়েছিল। এর পরেই উপজাতি বিভিন্ন সংগঠন যৌথভাবে তার বিরোধিতায় মাঠে নামে। আর সেই ঘটনা থেকেই সংঘাতের সূচনা হয় সেখানে। প্রশাসনিকভাবে সেখানে নানা বিধিনিষেধ জারি করার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও অন্য নেতারা রাজ্যে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও রাজ্যটি অশান্ত হয়েই রয়েছে।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এমআরএইচ/১০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।