মণিপুরে দুই আদিবাসী নারীকে নগ্ন করে ঘোরানোর ঘটনায় মানবতা লজ্জিত হয়েছে: শিবসেনা
ভারতে মহারাষ্ট্রের শিবসেনা দল বলেছে, মণিপুরে দু’জন আদিবাসী নারীকে নগ্ন অবস্থায় প্যারেড করানোর ঘটনায় মানবতা লজ্জিত হয়েছে।
বিজেপিশাসিত মণিপুরে চলমান সহিংসতা ইস্যুতে আজ (শনিবার) কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারের তীব্র সমালোচনা করে শিবসেনার মুখপত্র ‘সামনা’র সম্পাদকীয়তে এ সংক্রান্ত মন্তব্য করা হয়েছে। গত মে মাসে মণিপুরে দুই মহিলাকে বিবস্ত্র করে রাস্তায় ঘোরানো এবং গণধর্ষণের অভিযোগ সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসায় দেশজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ওই ঘটনায় পুলিশ আজ পর্যন্ত পাঁচ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ সূত্রে প্রকাশ, ধৃতদের মধ্যে ১৯ বছরের এক তরুণও রয়েছে।
ওই ইস্যুতে আজ শিবসেনার মুখপত্র ‘সামনা’র সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, ‘সারা বিশ্বে দেশের সুনাম কলঙ্কিত হয়েছে, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং তার সরকার এই বিষয়ে সংসদে আলোচনা করতে প্রস্তুত নয়। মণিপুরে এ পর্যন্ত ১০ হাজার বাড়ি পোড়ানো হয়েছে। শরণার্থী শিবিরে বাস করছে ৬০ হাজারের বেশি মানুষ। সেখানে খাওয়া-দাওয়ার সমস্যা তো আছেই। সেসব শিবিরে বিদ্যুৎ সুবিধাও নেই। এমন ভয়াবহ অবস্থার মধ্যে মণিপুরের মানুষ বাস করছে। স্বাধীন ভারতে ভয়াবহ সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে মণিপুরে। প্রধানমন্ত্রী ওই ইস্যুতে বধির-নিশ্চুপ হয়ে আছেন।
‘সামনা’য় প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে বলা হয়েছে, কাশ্মীরের তুলনায় মণিপুরে ভয়াবহ সহিংসতা ও নৃশংসতা চলছে। কিন্তু কাশ্মীর ইস্যুতে হিন্দু-মুসলিম (বিভাজন) অথবা ভারত-পাকিস্তান রাজনীতি করা বিজেপির মহামণ্ডলেশ্বর মণিপুরে গিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে প্রস্তুত নন। মণিপুরে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর ৬০ হাজার জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে। তারপরও সহিংসতা থামছে না। এর অর্থ পরিস্থিতি প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।’
শিবসেনা বলেছে, ‘এখন ২৬টি রাজনৈতিক দল 'ইন্ডিয়া’ নামে একটি জোট গঠন করেছে। এটা সেই ইন্ডিয়ার নগ্ন ছবি। সেজন্য 'ভারত'কে বাঁচাতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। একদিকে অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউতকে কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়, একই সময়ে মণিপুরে দুই আদিবাসী মহিলাকে নগ্ন প্যারেড করানো হয়। ওই নারীদের কোনো নিরাপত্তা নেই। এমনই মোদীর ভারত। যাদের রক্ষা করা দরকার তারা অবহেলিত। সুপ্রিম কোর্টের তিরস্কারের পর নারীদের নগ্ন করে যারা ঘুরিয়েছে মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী তাদের ধরে ফেললেন। তাহলে কী বিগত দু’মাস ঘুমিয়ে ছিল তারা?
শিবসেনা বলেছে, ‘অসমের মুখ্যমন্ত্রী (বিজেপি নেতা) হিমন্ত বিশ্ব শর্মা মূল্যবৃদ্ধির দায় চাপিয়েছেন মুসলমানদের ওপর। কিন্তু তারা মণিপুরের সহিংসতার জন্য তাদের সরকারকে দায়ী করতে প্রস্তুত নয়। কারণ, মণিপুরের সহিংসতায় মুসলমানরা কোথাও নেই। তাই মোদী, হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এবং গোটা বিজেপি পরিবার বিভ্রান্ত। মণিপুরের সহিংসতা নিয়ে ইউরোপীয় সংসদে আলোচনা হয়েছে এবং ভারতের সমালোচনা করা হয়েছে। মণিপুরের সহিংসতা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং বাইরের দেশগুলোর এ নিয়ে হৈচৈ সৃষ্টি করা উচিত নয়, কিন্তু অন্য দেশের সংসদে তা নিয়ে আলোচনা করার প্রয়োজন হবে কেন? যেহেতু মণিপুর রাজনৈতিকভাবে লাভজনক রাজ্য নয়, তাই মোদী সেখানকার ঘটনাগুলোকে উপেক্ষা করছেন, এটাই এর পেছনের সহজ এবং সাধারণ অর্থ’ বলেও মন্তব্য করেছে শিবসেনা।
প্রসঙ্গত, গত ৩ মে জনজাতি ছাত্র সংগঠন ‘অল ট্রাইবাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অফ মণিপুর’ (এটিএসইউএম)-এর কর্মসূচি ঘিরে অশান্তির সূত্রপাত হয়েছিল উত্তর- পূর্বাঞ্চলের বিজেপিশাসিত রাজ্যটিতে। মণিপুর হাই কোর্ট ‘মেইতেই’দের তফসিলি জনজাতির মর্যাদা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকারকে বিবেচনা করার নির্দেশ দিয়েছিল। এর পরেই কুকি, জ়োসহ বিভিন্ন জনজাতি গোষ্ঠীর সংগঠন তার বিরোধিতায় মাঠে নামে। আর সেই ঘটনা থেকেই সহিংসতার সূত্রপাত হয় সেখানে। এ পর্যন্ত কমপক্ষে দু’শো মানুষ নিহত এবং ৫০ হাজারের বেশি গৃহহীন হয়েছেন বলে জানা গেছে।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এমআরএইচ/২২
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।