নেহরু মেমোরিয়ালের নামবদল নিয়ে মোদী সরকারের উপর ক্ষুব্ধ কংগ্রেস
https://parstoday.ir/bn/news/india-i126920-নেহরু_মেমোরিয়ালের_নামবদল_নিয়ে_মোদী_সরকারের_উপর_ক্ষুব্ধ_কংগ্রেস
ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর নামাঙ্কিত নেহরু মেমোরিয়াল মিউজিয়াম ও লাইব্রেরির নাম পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় মোদী সরকারের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
আগস্ট ১৬, ২০২৩ ১৬:৫৩ Asia/Dhaka
  • কংগ্রেসের প্রধান মুখপাত্র জয়রাম রমেশ
    কংগ্রেসের প্রধান মুখপাত্র জয়রাম রমেশ

ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর নামাঙ্কিত নেহরু মেমোরিয়াল মিউজিয়াম ও লাইব্রেরির নাম পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় মোদী সরকারের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস।

আজ (বুধবার) কংগ্রেসের প্রধান মুখপাত্র জয়রাম রমেশের দাবি,  দেশের প্রথম ও সবথেকে দীর্ঘসময়ের প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ভীতি এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন মোদী। সেকারণেই তার সব কৃতিত্ব মুছে ফেলতে চান তিনি।

রাজধানী দিল্লিতে দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর বাসভবন তিন মূর্তি ভবনে তৈরি মিউজিয়ামটির নাম পরিবর্তন করে প্রাইম মিনিস্টার’স মিউজিয়াম অ্যান্ড লাইব্রেরি সোস্যাইটি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় নরেন্দ্র মোদী সরকার। গতকাল (মঙ্গলবার) স্বাধীনতা দিবসেই সেই নতুন নাম কার্যকর করার ঘোষণা   করা হয়েছে। এবার সেখানে নেহরু থেকে শুরু করে মোদী পর্যন্ত সকল প্রধানমন্ত্রীর জীবন, কাজ এবং অবদানকে তুলে ধরা হবে।

কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ আজ কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করে বলেন, ‘ওরা স্বাধীনতা আন্দোলনে নেহরুর মহান অবদান এবং ভারতীয় জাতি-রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ, বৈজ্ঞানিক ও উদার ভিত্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তার মহান কৃতিত্বকে কখনই কেড়ে নিতে পারবে না, যার সবই এখন মোদী এবং তার সমর্থকদের দ্বারা আক্রমণের শিকার। ক্রমাগত আক্রমণ সত্ত্বেও, জওহরলাল নেহরুর ঐতিহ্য বিশ্বের সামনে বেঁচে থাকবে।’

ড. ইমানুল হক

এ সম্পর্কে আজ (বুধবার) পশ্চিমবঙ্গের ‘ভাষা ও চেতনা সমিতি’র সম্পাদক ও কোলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজের সাবেক অধ্যাপক ড. ইমানুল হক রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘ওরা (বিজেপি) ওদের গুরু ভক্তির (সংঘ পরিবারকে) প্রমাণ দিচ্ছেন।  ভারতবর্ষের সব থেকে ক্ষতিকর পরিবার হচ্ছে ‘সংঘ পরিবার’ (রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ)। সংঘ পরিবারের বাড়বাড়ন্ত এবং শুরুয়াত ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের প্রশ্রয়ে এবং মদদে। নেহরু ছিলেন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে। সুতরাং, তারা একটা গুরু প্রণামী দিচ্ছেন নেহরুর নামটাকে মুছে দিয়ে। নেহরু ছিলেন ভারতবর্ষে সংখ্যালঘু মানুষের বন্ধু। নিপীড়িত জনজাতিদের বন্ধু। তিনি ছিলেন বিজ্ঞানমনস্ক, উদার, ধর্মনিরপেক্ষ মানুষ। তার আমলেই মিশ্রঅর্থনীতির জন্ম। তার আমলেই ‘আইআইটি’, ‘আইআইএম’, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্ম। তাই নেহরুর নামকে মুছে না দিলে ভারতে রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা যাবে কী করে?’   

তিনি আরও বলেন, ‘ নেহরু ছিলেন রাজতন্ত্রের বিরোধী, জমিদারতন্ত্রের বিরোধী এবং নারী স্বাধীনতার পক্ষে। তিনি হিন্দু নারীদের তিনি মুক্তির পথ দেখিয়েছিলেন। সুতরাং, নেহরুর নাম না মুছলে, ওরা ওদের নাম উজ্জ্বল করতে পারবেন কী করে? কিন্তু তার কোনও সম্ভাবনা নেই। আগামী ২০২৪ সালে (লোকসভা নির্বাচনে) ওদের যে অবস্থার মধ্যে পড়তে হবে, সেটাই ওদের কাছে পরিহাসের বিষয় হয়ে দাঁড়াবে’ বলেও মন্তব্য করেন ‘ভাষা ও চেতনা সমিতি’র সম্পাদক ও কোলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজের সাবেক অধ্যাপক ড. ইমানুল হক।

জয়রাম বলেন, ‘বিশ্বখ্যাত নেহরু মেমোরিয়াল মিউজিয়াম অ্যান্ড লাইব্রেরির নাম বদলে প্রাইম মিনিস্টারস মোমোরিয়াল মিউজিয়াম অ্যান্ড লাইব্রেরি করা হল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনেক ভয়, নিরাপত্তাহীনতা। আমাদের প্রথম ও সবথেকে দীর্ঘ সময় ধরে থাকা প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ওর অনেক সমস্যা। নেহরু ও তার উত্তরাধিকারীদের অপমান করার কোনও সুযোগ ছাড়েন না। ‘এন’ সরিয়ে ‘পি’ বসিয়ে দিয়েছেন। এই পি-এর অর্থ হল সংকীর্ণ মানসিকতা ও অবজ্ঞা’ বলেও মন্তব্য করেছেন কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ। #  

পার্সটুডে/এমএএইচ/১৬

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।