কাশ্মির-বালুচিস্তান নিয়ে বাকযুদ্ধে ভারত-পাকিস্তান, উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিবেশ
https://parstoday.ir/bn/news/india-i17359-কাশ্মির_বালুচিস্তান_নিয়ে_বাকযুদ্ধে_ভারত_পাকিস্তান_উত্তপ্ত_রাজনৈতিক_পরিবেশ
কাশ্মির ও বালুচিস্তানকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি দাবিতে ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। গতকাল ১৫ আগস্ট ভারতের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লা থেকে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘আমি বালুচিস্তান, গিলগিট এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বিষয়ে বলতে চাই। এ নিয়ে ভারত সরব হওয়ায় গত কয়েক দিনে ওখানকার অনেক লোক আমাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ।’
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
আগস্ট ১৬, ২০১৬ ০৮:৩০ Asia/Dhaka
  • নরেন্দ্র মোদি-নওয়াজ শরীফ
    নরেন্দ্র মোদি-নওয়াজ শরীফ

কাশ্মির ও বালুচিস্তানকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি দাবিতে ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। গতকাল ১৫ আগস্ট ভারতের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লা থেকে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘আমি বালুচিস্তান, গিলগিট এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বিষয়ে বলতে চাই। এ নিয়ে ভারত সরব হওয়ায় গত কয়েক দিনে ওখানকার অনেক লোক আমাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ।’

কাশ্মিরে চলমান সহিংসতা প্রসঙ্গে কার্যত ধারাবাহিকভাবে পাকিস্তানের প্রতিবাদী তৎপরতার জবাব হিসেবে সে দেশকে পাল্টা চাপে ফেলার কৌশল নিয়েছে নয়াদিল্লি। কাশ্মির পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রচারণা শুরু করেছে পাকিস্তান। তার জবাবও অবশ্য জাতিসংঘে নিয়োজিত ভারতীয় দূত নজিরবিহীন পাল্টা আক্রমণের মধ্য দিয়ে দিয়েছেন। যদিও তার পরেও নানাভাবে পাকিস্তানের প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে।

অন্যদিকে, কাশ্মির পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের বিভিন্ন বিরোধী দলের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে চাপ বাড়ায় গত শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে সর্বদলীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে পাকিস্তানের নাক গলানো বরদাস্ত করা হবে না। প্রয়োজনে পাক অধিকৃত কাশ্মির এবং বালুচিস্তানে ইসলামাবাদ যে অত্যাচার চালাচ্ছে, তা দুনিয়ার সামনে তুলে ধরা হবে।’ তিনি পাক অধিকৃত কাশ্মিরকে ভারতের অঙ্গ বলেও মন্তব্য করেন।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন পাক অধিকৃত কাশ্মির এবং বালুচিস্তানের মানুষ, যারা অন্য দেশে থাকেন, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। তারাই গোটা বিশ্বের সামনে পাকিস্তানের নির্যাতনের কথা তুলে ধরতে পারবেন।’

সর্বদলীয় বৈঠকের একদিন পরেই প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং একধাপ  এগিয়ে মন্তব্য করেন, ‘এখনো একটা স্বাধীনতার লড়াই বাকি রয়েছে। সেটা হল, পাক অধিকৃত কাশ্মিরের আমাদের যেসব ভাই-বোনেরা রয়েছেন, তাদের স্বাধীন করা।’

প্রথমে সর্বদলীয় বৈঠক পরে ফের চার দিনের মাথায় স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মন্তব্যে পাল্টা তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে পাকিস্তান। স্বাধীনতা দিবসের প্রকাশ্য ভাষণে বালুচিস্তান, গিলগিট এবং পাক অধিকৃত কাশ্মির প্রসঙ্গে মন্তব্য করার পর এদিন সন্ধ্যার মধ্যেই পাল্টা জবাব দিয়েছে পাকিস্তান।

পাক পররাষ্ট্র দফতরের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বালুচিস্তানের কথা বলে আসলে কাশ্মির পরিস্থিতি থেকে দৃষ্টি ঘুরিয়ে দেয়ার কৌশল নিচ্ছে ভারত।’ বালুচিস্তানের অশান্তির নেপথ্যে রয়েছে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ (রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং)।

পাক পররাষ্ট্র দফতরের উপদেষ্টা সরতাজ আজিজ বলেছেন, ‘গত ৫ সপ্তাহ ধরে চলা কাশ্মির পরিস্থিতি সম্পর্কে দৃষ্টি অন্যদিকে ঘোরানোর চেষ্টা করেছেন মোদি। কাশ্মিরের ঘটনার সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের কোনো সম্পর্ক নেই। এটা কাশ্মিরিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রশ্ন। বালুচিস্তানের কথা উল্লেখ করাতেই পাকিস্তানের দাবিই সঠিক বলে প্রমাণিত হয়েছে যে, ভারত নিজেদের গোয়েন্দা এজেন্সি ‘র’ –এর সাহায্যে বালুচিস্তানে সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহিত করছে। বিরোধী কণ্ঠস্বরকে দাবিয়ে রাখা দেশ মহান হতে পারে না। ভারতের বোঝা উচিত কাশ্মির ইস্যু ‘গুলি’র মাধ্যমে সমাধান হতে পারে না। ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে আলোচনাতেই কাশ্মির ইস্যু সমাধান সম্ভব।’ এভাবে কাশ্মির, বালুচিস্তান ইত্যাদিকে কেন্দ্র করে ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বিবৃতিতে রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/১৬