আমরা হত্যাকারীদের সঙ্গে করমর্দন করি না: আইয়ারের প্রতি কাশ্মিরি অ্যাটেনডেন্ট
-
মণিশঙ্কর আইয়ার
কাশ্মিরের শ্রীনগরের একটি হাসপাতালে আহতদের দেখতে এসে ক্ষুব্ধ জনতার ক্ষোভের মুখে পড়লেন সাবেক কূটনীতিক এবং সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মণিশঙ্কর আইয়ার।
গতকাল (বৃহস্পতিবার) কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা মণিশঙ্কর আইয়ারসহ ভারতীয় নাগরিক সমাজের ৯ সদস্যের প্রতিনিধি শ্রীনগরে শ্রী মহারাজ হরি সিং হাসপাতালে যান। যদিও হাসপাতালের মধ্যে মণিশঙ্কর আইয়ার এবং সাংবাদিক প্রেমশঙ্কর ঝাঁকে ঢুকতে দেয়নি ক্ষুব্ধ মানুষজন। জনতার প্রতিবাদের মুখে হাসপাতাল চত্বর ছাড়তে বাধ্য হন মণিশঙ্কর এবং প্রেম শঙ্কর।
অন্যদের অবশ্য ওই হাসপাতালে প্রবেশ করতে দেয়া হলে তারা আহত চিকিৎসাধীন মানুষজনের সঙ্গে কথা বলতে সমর্থ হন এবং সেখানকার মানুষ কী ধরণের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন তা জানার চেষ্টা করেন।
মণিশঙ্কর আইয়ার এবং প্রেমশঙ্কর ঝাঁ ‘প্রেস’ স্টিকার লাগানো একটি গাড়িতে ওই হাসপাতাল চত্বরে পৌঁছালেও উপস্থিত জনতা তাদের পরিচিতি জানতে চায়। কংগ্রেস নেতা মণিশঙ্কর আইয়ার নিজের পরিচয় দেয়ার পরেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে সেখানকার মানুষজন। প্রতিবাদকারীরা তাকে ঘিরে ধরে এবং সেখান থেকে ফিরে যেতে বলে। এমনকী ক্ষুব্ধ মানুষজন তার সঙ্গে হাত মেলাতেও রাজি হয়নি। আইয়ার এক অ্যাটেনডেন্টের সঙ্গে করমর্দন করার জন্য হাত বাড়িয়ে দিলেও তিনি হাত মেলাতে অস্বীকার করেন। ওই অ্যাটেনডেন্ট মুখের উপর জবাব দিয়ে বলেন, ‘আমরা হত্যাকারীদের সঙ্গে করমর্দন করি না। আপনার এখান থেকে চলে যাওয়া উচিত।’ এসময় বিক্ষোভকারীরা ভারত বিরোধী স্লোগান দেয়াসহ ‘আজাদি’ তথা পাকিস্তানের পক্ষে স্লোগান দিয়ে তীব্র বিক্ষোভ দেখায়।
স্বেচ্ছাসেবক এবং অ্যাটেনডেন্টদের ক্ষোভের মুখে পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকায় মণিশঙ্কর আইয়ার এবং সাংবাদিক প্রেমশঙ্কর ঝাঁ সেখান থেকে ফিরে যেতে বাধ্য বাধ্য হন।
সেখানে বিক্ষোভরত এক ব্যক্তি এক সাংবাদিকদের কাছে ‘জমহুরিয়াত’ (গণতন্ত্র) কী তা জানতে চান। ওই সাংবাদিক অবশ্য কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাকে পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলা হয় ‘কেন আপনারা আমাদের পশুর মতো হত্যা করছেন? সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক জবাবে বলেন, ‘আপনারা পশু নন, আপনারা মানুষ’।
ইন্ডিয়ান সিভিল সোসাইটির ওই প্রতিনিধিদলে মণিশঙ্কর এবং প্রেমশঙ্কর ছাড়াও সাংবাদিক বিনোদ শর্মা, সাংবাদিক এম কে বেনু, সাংবাদিক রুবি অরুণ, সমাজকর্মী শবনম হাশমি, অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল কপিল কাক, ও পি শাহ এবং মুহাম্মদ হাসান উল বানা প্রমুখ শামিল ছিলেন। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/১৯