কাশ্মিরের কারফিউ-বনধ ৪৩ দিনে, শান্তি প্রস্তাব দিলেন সেনা কমান্ডার
-
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অ্যাম্বুলেন্স চালক গুলাম মুহাম্মদ
কাশ্মিরে চলমান সহিংস পরিস্থিতি আজ ৪৩তম দিনে পড়েছে। এ নিয়ে একটানা ৪৩ দিন ধরে সেখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে কারফিউ এবং অন্যান্য নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে, কাশ্মিরি প্রতিবাদকারী নেতাদের পক্ষ থেকে একনাগাড়ে বনধ কর্মসূচিও চলছে।
আজ (শনিবার) প্রতিবাদকারীদের পক্ষ থেকে বাইক র্যালির ডাক দেয়ায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এদিকে, চলমান পরিস্থিতির মধ্যে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কর্মীদের কাজে যোগ দেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। দায়িত্ব পালন না করলে তারা আগস্ট মাসের বেতন পাবেন না বলেও হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে। যদিও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা ভেবে কর্মীদের পক্ষ থেকে প্রশাসনের ওই নির্দেশকে ‘একনায়কতান্ত্রিক’ এবং ‘অন্যায়’ বলে অভিহিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, কাশ্মিরে মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে প্রশ্ন ওঠার মধ্যে সাম্প্রতিক দু’টি ঘটনায় প্রশাসনের বিড়ম্বনা বেড়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে এক অধ্যাপককে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগের পর এবার এক অ্যাম্বুলেন্স চালককে পেলেট গানের গুলিতে আহত করার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার রাতে হাসপাতালে রোগী নিয়ে যাওয়ার পথে নিরাপত্তা বাহিনীর টার্গেটের শিকার হন অ্যাম্বুলেন্স চালক গুলাম মুহাম্মদ সফি। তিনি এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর আগেও অবশ্য নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অ্যাম্বুলেন্সে হামলার অভিযোগ উঠেছে।
কাশ্মিরের চিকিৎসক সংগঠন ডিএকে’র সভাপতি নিসার উল হাসান ওই ঘটনাকে ‘কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘চিকিৎসা কর্মীরাও উপত্যকায় আক্রান্ত হচ্ছেন। সাধারণ মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। আমরাও ভীত সন্ত্রস্ত। ভয়ানক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।’ কয়েক সপ্তাহ ধরেই সেনাবাহিনীর হামলার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে তার অভিযোগ।
তিনি বলেন, ‘হাসপাতাল লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়া হচ্ছে। ভাঙচুর করা হচ্ছে অ্যাম্বুলেন্স। চিকিৎসক, চিকিৎসা কর্মীদের ওপর হামলা রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি যথেষ্ট উদ্বেগের বিষয়।’
আজ (শনিবার) আবাসিক চিকিৎসক সংগঠনের প্রেসিডেন্ট ডা. আদিল আশরাফ এক বিবৃতিতে বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর অপরাধ নিয়ে সরব হয়েছেন।
এদিকে, গতকাল শুক্রবার সেনাবাহিনীর উত্তরাঞ্চলীয় কম্যান্ড কর্মকর্তা লে. জেনারেল ডি এস হুদা এক আবেদনে কাশ্মিরে শান্তি ফেরানোর জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আমি শান্তির আবেদন জানাচ্ছি। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সবাইকে এক সঙ্গে বসতে হবে। কী করলে এই হামলা-পাল্টা হামলা বন্ধ হবে, তা নিয়ে ভাবতে হবে।’ কোনো এক ব্যক্তি বা একটি সংগঠনের পক্ষে এটা সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
জেনারেল হুদা বলেন, ‘প্রত্যেকের পিছিয়ে আসা উচিত। নিরাপত্তাবাহিনীই হোক, সরকারই হোক অথবা বিচ্ছিন্নতাবাদী। সবার উদ্দেশেই এই আবেদন।’
অন্যদিকে, সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল সতীশ দুয়া হিজবুল মুজাহিদীন কমান্ডার বুরহান ওয়ানি নিহত হওয়ার পর কাশ্মিরে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল তা স্বতঃস্ফূর্ত ছিল বলে স্বীকার করে নিয়েছেন। এভাবে একইদিনে দুই সেনা কর্মকর্তার এ ধরণের মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সরকার হুররিয়াত কনফারেন্সের সঙ্গে আলোচনায় বসতে বা কাশ্মিরি জনতার প্রতিবাদকে স্বতঃস্ফূর্ত বলতে কোনোভাবেই রাজি না হলেও দুই সেনা কর্মকর্তার গলায় ভিন্ন সুর শোনা যাওয়ায় তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২০