কাশ্মির ইস্যুতে মোদি সরকার ‘ঘুমিয়ে রয়েছে’: গুলাম নবী আজাদ
-
কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা ও রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা গুলাম নবী আজাদ (ফাইল ফটো)
ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মির প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারকে ‘ঘুমন্ত সরকার’ বলে অভিহিত করলেন কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা তথা সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা গুলাম নবী আজাদ।
আজ (বুধবার) আজাদ এক বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে দেয়া সাক্ষাৎকারে ওই মন্তব্য করেছেন।
আজাদ বলেন, ‘কাশ্মির পরিস্থিতি নিয়ে আমরা সরকারকে বার বার জাগিয়ে দিয়েছি। সংসদে জাগিয়েছি, সংসদের বাইরেও জাগিয়েছি, তবেই সর্বদলীয় বৈঠক হয়েছে। যদিও সরকার তো জেগে ওঠার নামই করছে না। এই সরকার ঘুমিয়েই রয়েছে। কাশ্মির নিয়ে একবারও মন্ত্রীসভার বৈঠক পর্যন্ত হয়নি!’
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং আজ (বুধবার) কাশ্মির সফরে যাচ্ছেন সে প্রসঙ্গে আজাদ বলেন, ‘রাজনাথ সিং এখন যাচ্ছেন ভালো কথা কিন্তু সরকার এত দেরি করল কেন? এই প্রক্রিয়া আরো আগে শুরু করা উচিত ছিল।’
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কাশ্মিরিয়াত, জমহুরিয়াত (গণতন্ত্র)এবং ইনসানিয়াত (মানবতার) নিয়ে স্রেফ কথাই বলছেন। বাস্তবে তার কিছুই দেখা যাচ্ছে না। এটাই তো সমস্যা। মুখে বলে দিলেই সব হয়ে যায় না।’
কাশ্মির প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলির মন্তব্য প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করা হলে গুলাম নবী আজাদ বলেন, ‘এ সময় সরকারের মধ্যে কেন এসব হচ্ছে। সরকারের কোনো স্পষ্ট নীতিই নেই। ভিন্ন ভিন্ন বিবৃতি দেয়া হচ্ছে, এ ক্ষেত্রে কংগ্রেস কী করতে পারে? আমরা চাই আলোচনা শুরু হওয়া উচিত। কিন্তু কাদের সঙ্গে তারা আলোচনা করবেন তা পিডিপি-বিজেপি ঠিক করুক। আমরা বললেই বিরোধিতা শুরু হয়ে যাবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারের পাশে থাকতে রাজি কিন্তু সরকারকে স্পষ্ট নীতি এবং নিয়তের সঙ্গে সামনে আসতে হবে তাহলেই আমরা পূর্ণ সমর্থন দেব। যদি এ নিয়ে আমাদের মতামত জানতে চাওয়া হয় নিশ্চয় তা জানাব।’
গুলাম নবী আজাদ পাকিস্তান প্রসঙ্গে কংগ্রেসের সাবেক সংসদ সদস্য তথা অভিনেত্রী রম্যার সাম্প্রতিক মন্তব্যকে সমর্থন করে বলেন, ‘রম্যা ঠিকই বলেছেন। দুই দেশের মানুষ ভালোবাসার সম্পর্কই চায়, কিন্তু পাকিস্তান সরকার, আইএসআই এবং তাদের আর্মির নীতি ভুল। ২০০৩ সালে বাজপেয়ী (সাবেক বিজেপি প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী) যখন পাকিস্তানে গিয়েছিলেন সেখানকার মানুষের প্রশংসা করেছিলেন।’
কংগ্রেসের সাবেক সংসদ সদস্য দিব্যা স্পন্দন ওরফে রম্যা সম্প্রতি পাকিস্তান সফর শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ‘পাকিস্তান নরক নয়, সেখানকার মানুষ আমাদের মতই। তারা আমাদের সঙ্গে খুবই ভালো ব্যবহার করেছেন।’ তার ওই মন্তব্যের পরেই তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে এমনকী তার বিরুদ্ধে আদালতে দেশদ্রোহের মামলাও করা হয়েছে।
কয়েকদিন আগে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পার্রিকার মন্তব্য করেছিলেন, ‘পাকিস্তানে যাওয়া মানে নরকে যাওয়ার সমান।’ তার ওই মন্তব্যের পাল্টা হিসেবে পাকিস্তানের প্রশংসা করে বিপাকে পড়েছেন ওই নেত্রী।
প্রসঙ্গত, কাশ্মির প্রসঙ্গে সরকারি নীতি নিয়ে গত সোমবার প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেস মুখপাত্র মনিশ তিওয়ারি। তিনি বলেন, ‘কাশ্মির প্রসঙ্গে মোদি সরকারের দায়িত্বজ্ঞানহীন মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলছেন কাশ্মির পরিস্থিতি নিয়ে আলাপ আলোচনার প্রয়োজন। কিন্তু এটা স্পষ্ট নয় যে, কাদের সঙ্গে কথা বলা হবে। অন্যদিকে, অর্থমন্ত্রীর মতে কাশ্মির কোনো রাজনৈতিক সমস্যাই নয়, কাশ্মিরে উন্নয়ন হলেই সব সমস্যা দূর হয়ে যাবে। কাশ্মির নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করা উচিত। সরকারের মধ্যে এতই অসংতি যে গত ১০ দিনে ৫ টি ভিন্ন ভিন্ন বিবৃতি প্রকাশ্যে এসেছে।’
রোববার জম্মুতে এক অনুষ্ঠানে অরুণ জেটলি মন্তব্য করেন, কাশ্মিরে সহিংসতায় জড়িতদের সঙ্গে কোনো সমঝোতা করা হবে না, সেখানে যথাসম্ভব উন্নয়ন করা হবে, যা গত ৬০ বছরেও করা হয়নি। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/জিএআর/২৪