বেঙ্গালুরুতে রবিশংকরের সঙ্গে মুজাফফর ওয়ানির সাক্ষাৎ, মিশ্র প্রতিক্রিয়া
-
শ্রী শ্রী রবিশংকর ও মুজাফফর ওয়ানি
কাশ্মিরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হিজবুল মুজাহিদীন কমান্ডার বুরহান ওয়ানির বাবা মুজাফফর ওয়ানি ভারতের ‘আধ্যাত্মিক গুরু’ ও ‘আর্ট অব লিভিং’-এর প্রতিষ্ঠাতা শ্রী শ্রী রবিশংকরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বেঙ্গালুরুর আশ্রমে সাক্ষাতের ওই ছবি গতকাল (শনিবার) নিজেই টুইটারে শেয়ার করেছেন রবিশংকর।
রবিশংকর টুইটার বার্তায় বলেছেন, ‘বুরহানের বাবা মুজাফফর ওয়ানি তার আশ্রমে দুই দিন কাটিয়েছেন। আমরা কিছু বিষয়ে আলোচনা করেছি।’
মুজাফফর ওয়ানি অবশ্য বলেছেন, ডায়াবেটিসের চিকিৎসার জন্য তিনি আশ্রমে গিয়েছিলেন।
গণমাধ্যমে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মুজাফফর ওয়ানি বলেন, ‘আমি প্রিন্সিপ্যাল, একজন সাধারণ মানুষ, কোনো নেতা নই। আমার ডায়াবেটিস আছে, তার চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গিয়েছিলাম। উনিই (রবিশংকর) আমার সঙ্গে ছবি নেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। কিছু সময় তার সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি শুধু আমার সন্তানদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন।’
মুজাফফর ওয়ানি সম্প্রতি এক জনসভায় মন্তব্য করেন, ভারত কর্তৃক কবজা করা কাশ্মিরের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালানোর জন্য তার একমাত্র মেয়েকে দিতেও প্রস্তুত। এই লড়াইয়ে তিনি দুই ছেলেকে হারালেও তার কোনো দুঃখ নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন। প্রসঙ্গত, ২০১০ সালে বুরহান ওয়ানির ভাই খালিদ নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে এক সংঘর্ষে নিহত হয়।
এদিকে, মুজাফফর ওয়ানির সঙ্গে শ্রী শ্রী রবিশংকরের সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে বহুলালোচিত সাংবাদিক বরখা দত্ত বলেছেন, ‘যখন আমি বুরহান ওয়ানিকে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের ছেলে বলেছিলাম, তখন আমাকে দেশদ্রোহী বলা হয়েছিল। এখন ডানপন্থিদের জন্য একটি মজার দিন।’
রবিশংকরের টুইটার বার্তায় মুজাফফর ওয়ানির সঙ্গে সাক্ষাতের কথা প্রকাশ্যে আসতেই ভরত পোলস নামে একজন টুইটারে লিখেছেন, ‘এবার আপনি হাফিজ সাঈদ এবং দাউদ ইব্রাহিমকে কবে দাওয়াত দিচ্ছেন?’
শ্রীবিদ্যা নামে একজন বলেছেন, ‘গুরুদেব, আপনি সবসময় সকল পক্ষের জন্য বিশ্বাসের স্তম্ভ। আমরা প্রার্থনা করছি এটা কাশ্মিরে শান্তির সূচনা হোক।’
বিকাশ দ্বিবেদি লিখেছেন, ‘বুরহানের বাবা কোনো সমাজসেবী নয় বরং এক সন্ত্রাসীর বাবা এবং তিনি তার সমর্থনও করেন। জানি না আপনি কেন তার সঙ্গে দেখা করেছেন, এটা অন্যায়।’
দীপক নামে একজন লিখেছেন, ‘এক জাতীয়তা বিরোধীর সঙ্গে কথা কেন? আপনি তাকে শাল দিয়ে আবৃত করে সম্মানিত করলেন?’
কুমার মহেন্দ্র অবশ্য রবিশংকরকে সমর্থন করে বলেছেন, ‘গুরুদেব, আপনি ছাড়া আর কে তাদের শান্তির পথে নিয়ে আসতে পারে?’
প্রসঙ্গত, গত ৮ জুলাই নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে হিজবুল মুজাহিদীন কমান্ডার বুরহান ওয়ানি নিহত হওয়ার পর থেকে সেখানকার মানুষ প্রতিবাদ বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে। বিক্ষোভ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সেখানে এ পর্যন্ত ৭০ জন নিহত এবং কয়েক হাজার মানুষ আহত হয়েছে।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২৮