কাশ্মির ইস্যুতে সর্বদলীয় বৈঠক, সবার সঙ্গে কথা হবে বললেন রাজনাথ
-
কাশ্মির ইস্যুতে সর্বদলীয় বৈঠক
কাশ্মির প্রসঙ্গে আজ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, ‘কাশ্মির নিয়ে সকলের সঙ্গে কথা বলা হবে।’ নয়াদিল্লিতে সর্বদলীয় প্রতিনিধিদের নিয়ে আজ এক বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, ‘কাশ্মির নিয়ে সকলের সঙ্গে কথা বলা হবে।’ তিনি বলেন, কাশ্মির ইস্যুতে সব দলই তাদের মতামত জানিয়েছে। সেখান থেকে ফিরে আসার পর আবারো সব দলকে নিয়ে বৈঠক হবে।’
কাশ্মিরে চলমান অশান্ত পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক করে তুলতে সেখানে রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বে ৪/৫ সেপ্টেম্বর দুই দিনের সফরে সর্বদলীয় প্রতিনিধিরা যাবেন।
রাজ্যসভার বিরোধীদলীয় নেতা গুলাম নবী আজাদ আজ বলেন, ‘সকল পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত। কোন কোন পক্ষ এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তা নিয়ে সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
সিপিআইএমের মহাসচিব সীতারাম ইয়েচুরি আজ ৩ দফা দাবি তুলে ধরেন। প্রথমত, হুররিয়াতের সঙ্গে সংলাপ, দ্বিতীয়ত, পেলেটগান বা ছররা বন্দুক নিষিদ্ধ করা এবং তৃতীয়ত, সেনাবাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইন ‘আর্মড ফোর্সেস স্পেশাল পাওয়ার্স অ্যাক্ট’ বা ‘এএফএসপিএ’ প্রত্যাহার করা।
ইয়েচুরি বলেন,‘হুররিয়াত কনফারেন্সকেও কথাবার্তা বলার জন্য আমন্ত্রণ জানানো উচিত, যাতে এই বার্তা পৌঁছায় যে আমরা সকলের সঙ্গেই আলোচনা করতে চাই। আমরা প্রতিনিধিদের সামনে বলেছি, আস্থা পুনর্বহালের উপায় খুঁজতে হবে এবং পেলেটগানে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হবে।’ ইয়েচুরি বলেন, ‘শক্তিশালী ফলাফলের জন্য বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।’
হুররিয়াত কনফারেন্সের একাংশের চেয়ারম্যান সাইয়্যেদ আলী শাহ গিলানি অবশ্য আগেই বলেছেন,‘যারা আসছেন, তারা কাশ্মিরকে ভারতের অঙ্গ বলে মনে করেন। ফলে ওই প্রতিনিধিদের না আছে কোনো অধিকার, না এরা আন্তরিক ভাবে চান কাশ্মির সমস্যা মিটুক।’ নিজেরা তো সংলাপে যাবেনই না, কাশ্মিরের অন্য সব পক্ষকেও আলোচনা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন গিলানি।
অন্যদিকে, জেকেএলএফ চেয়ারম্যান মহম্মদ ইয়াসিন মালিক গণভোটের দাবি জানিয়েছেন। তার মতে,‘আসলে বিশ্বের কাছে ‘লগবুক’ ঠিক রাখতেই সর্বদলীয় প্রতিনিধিরা কাশ্মিরে আসছেন, যাতে দেখানো যায়, কাশ্মিরে শান্তি ফেরাতে ভারত কী কী চেষ্টা চালিয়েছে।’
আজ ‘অল পার্টি শিখ কো-অর্ডিনেশন কমিটি’র পক্ষ থেকেও সর্বদলীয় প্রতিনিধিদের বয়কট করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
আজ (শনিবার) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সভাপতিত্বে সর্বদলীয় বৈঠকে কংগ্রেস নেতা গুলাম নবী আজাদ, অম্বিকা সোনি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং, জেডিইউ নেতা শারদ যাদব,‘মজলিশ ই ইত্তেহাদুল মুসলেমিন’ প্রধান ব্যারিস্টার আসাদ উদ্দিন ওয়াইসি, সিপিআই(এম) মহাসচিব সীতারাম ইয়েচুরিসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, কাশ্মিরে আজ ৫৭ দিনেও সেখানকার জনজীবন পঙ্গু হয়ে রয়েছে। পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে শ্রীনগরের প্রধান এলাকার ৫ টি থানা ক্ষেত্র এবং শহরের উপকন্ঠে বটমালু তথা মৈসুমাতে কারফিউ অব্যাহত থাকবে।’
অন্যদিকে, কাশ্মিরি নেতারা সর্বদলীয় প্রতিনিধিদের সফরের বিরোধিতা করতে সেখানে শনি এবং রোববার এয়ারপোর্ট রোড, শহরের ভেতরে লালচক এবং জেলা সদর কবজা করার ডাক দেয়ায় এসব এলাকায় কারফিউ জারি করে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার চেষ্টা চলছে।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/জিএআর/৩