কাশ্মিরে পৌঁছাল সর্বদলীয় প্রতিনিধিদল: ডিসির দফতরে ক্ষুব্ধ জনতার আগুন
-
রাজনাথের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলের কাশ্মির যাত্রা
ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে চলমান সহিংসতার মধ্যেই আজ সেখানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বে সর্বদলীয় প্রতিনিধিদল পৌঁছেছে। শ্রীনগরে এ প্রতিনিধিরা কাশ্মিরের বিভিন্ন সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন। ৪/৫ সেপ্টেম্বর দুদিনের জন্য কাশ্মির সফরে যাওয়া প্রতিনিধিদলে ২৩টি সংগঠনের ২৮ জন প্রতিনিধি রয়েছেন।
কাশ্মিরের চলমান অশান্ত পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক করে তুলতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি হুররিয়াত কনফারেন্সকেও আলোচনার জন্য ডাক দিয়েছেন। তিনি অবশ্য প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে হুররিয়াতকে ওই আমন্ত্রণ জানাতে পারেন নি। পিডিপি সভানেত্রী হিসেবেই হুররিয়াতসহ সব পক্ষকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
কাশ্মিরে পিডিপি-বিজেপি জোট সরকার ক্ষমতায় থাকলেও বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার কখনোই হুররিয়াত কনফারেন্সকে মানতে রাজি নয়। বরং তাদেরকে ‘পাকিস্তানের হাতের পুতুল’ হিসেবেই গণ্য করে থাকে দলটি। হুররিয়াত প্রধান সাইয়্যেদ আলী শাহ গিলানি, মীরওয়াইজ ওমর ফারুক এবং জেকেএলএফ প্রধান মুহাম্মদ ইয়াসিন মালিকদের চাপে রাখার জন্য তাদের নিরাপত্তা প্রদান ও বিদেশযাত্রার ওপর প্রতিবন্ধকতা আনার কথা ভাবছে কেন্দ্রীয় সরকার।
সিপিআই (এম) মহাসচিব সীতারাম ইয়েচুরি,‘মজলিশ-ই ইত্তেহাদুল মুসলিমিন’ প্রধান ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এমনকি এনডিএ সরকারের শরিক রামবিলাস পাসোয়ান বলেছেন, ‘হুররিয়াতের সঙ্গে আলোচনায় না বসলে শুধু ছবি তোলার জন্য কাশ্মিরে গিয়ে কোনো লাভ নেই।’
এদিকে, যে হুররিয়াতকে কেন্দ্র করে টানাপড়েন সৃষ্টি হয়েছে তারা সাফ জানিয়েছে আগে প্রতিনিধিদলকে মানতে হবে- কাশ্মির বিতর্কিত ভূখণ্ড, তারপরই তারা আলোচনায় বসতে পারেন।
অন্যদিকে, আজ (রোববার) সকালে শ্রীনগরের সোপিয়ানে ক্ষুব্ধ জনতা ডিসি’র দফতরে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। রাস্তায় নেমে এসেছে কয়েক হাজার জনতা। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটালে কমপক্ষে ১০০ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে ১২ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সোপিয়ান জেলা হাসপাতাল থেকে শ্রীনগরে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, অনন্তনাগের লখিপোরাতেও জোরালো প্রতিবাদ-বিক্ষোভ হয়েছে। সেখানে বেশ কিছু প্রতিবাদী জনতা আহত হয়েছে।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/জিএআর/৪